চাটমোহরে শ্রমিকদের টাকা নিয়ে ইউপি সচিবের টালবাহানা

শ্রমিকদের বিক্ষোভ

শ্রমিকদের বিক্ষোভ

চাটমোহর প্রতিনিধি : চাটমোহরে বিলচলন ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় কাজ করে সময় মতো টাকা না পাওয়ায় উপজেলা পরিষদে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে উপজেলার বিলচলন এলাকার বেশকিছু শ্রমিক বিক্ষোভ করেন।

এ সময় শ্রমিকরা জানান, অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় বিলচলন ইউনিয়নের বোথড় বটতলা থেকে বোথড় বিলগামী রাস্তা ও রামনগর কলম সরদারের বাড়ি হইতে বড়াল নদী পর্যন্ত দুটি প্রকল্পের রাস্তা মেরামতের কাজ করেন তারা।

কিন্তু কাজ করার পর ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের সময় শ্রমিকরা জানতে পারেন তাদের ফান্ডে টাকা জমা হয়নি।

পরে তারা ইউপি সচিবকে বিষয়টি জানালে সচিব বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকেন এবং বলেন টাকা পেতে দেরি হবে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকলে ইউপি সচিব তড়িঘড়ি করে বৃহস্পতিবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে কাগজপত্র জমা দেন। তবে এই বিল ভাউচার সচিবের জমা দেওয়ার কথা ছিলো গত এক সপ্তাহ আগে।

এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, তাদের নিবন্ধনের সময় (জব কার্ড) ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্যা ও প্রকল্পটির সভাপতি (পিআইসি) মোছা. আমিরুন নেসা তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নগদ ২০০ টাকা করে নিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, শ্রমিকদের অভিযোগে জানা গেছে, প্রকল্পটির সভাপতি ও ইউপি সদস্যা প্রভাব খাটিয়ে তার স্বামীকে লেবার সর্দারের নামের জায়গায় অর্ন্তভুক্ত করেছেন।

এই ঘটনা জানার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে ইউপি সচিব মো. কামরুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিভিন্ন কথা বলে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেন। এক সময় তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা না থাকায় বিল ভাউচার জমা দিতে পারিনি। আবার বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কারণে এমনটা মাঝে মধ্যেই হয়ে থাকে।

তবে আজ বৃহস্পতিবার বিল ভাউচার প্রকল্প বাস্তায়ন কর্মকর্তার অফিসে জমা দিলাম। এক সময় তিনি তার ভুল স্বীকার করেন।

এ সময় উপস্থিত ওই কর্মসৃজন প্রকল্পের সভাপতি (পিআইসি) আমিরুন নেসাকে শ্রমিকদের কাছ থেকে তাদের নিবন্ধন বাবদ (জব কার্ড) টাকা নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এক পর্যায়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বিল তুলতে গিয়ে অফিসে, ব্যাংকে বিভিন্ন জায়গায় খরচ দিতে হয়। সে জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে! তিনি আরো বলেন, ‘২শ’ টাকা নয়, ১শ’ টাকা করে নেওয়া হয়েছে’। আর স্বামীকে লেবার সর্দারের নামের জায়গায় অর্ন্তভুক্তি করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘লেবার সর্দারের নামের জায়গায় আমার স্বামীকে কেন রাখবো। তবে এমনি আমার স্বামী শ্রমিকদের সাথে থেকে কাজগুলো দেখাশোনা করেন’।

এ সময় শ্রমিকদের এই বকেয়া পাওনা নিয়ে সচিব ও ইউপি সদস্যা আমিরন নেসার মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে যায়। তারা এক অন্যকে দোষারোপ করতে থাকেন।

এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম একদিন। কিন্তু আমার ছুটির সাথে ইউপি সচিবের কাগজপত্র জমা দেওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। সচিব তো বিলই জমা দেয়নি। আমার কাছে কোন ফাইল এলে (বিশেষ করে শ্রমিকদের) তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেই। আমি কোন ফাইল টেবিলে জমা রাখি না।

এ সময় তিনি সচিবকে ভৎর্সনা করেন। এবং আগামী রবিবারের মধ্যে শ্রমিকরা যেন তাদের নায্য পাওনা বুঝে পান এ ব্যাপারে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, এই সচিবের কারণে এর আগেও বেশ কয়েকবার শ্রমিকরা তাদের পারিশ্রমিক তুলতে গিয়ে নাজেহাল হয়েছেন। কোনবারই বিক্ষোভ ছাড়া তারা টাকা তুলতে পারেন নি এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এর আগে চেয়ারম্যানের উপর দোষ চাপিয়ে পাড় পেলেও এবার ওই ইউনিয়নে নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা হওয়ায় চেয়ারম্যানের কোন দায়িত্ব না থাকায় সচিবের চাতুরতার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অবিলম্বে এই সচিবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।