বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চাটমোহর সরকারি কলেজে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম

image_pdfimage_print

স্টাফ রিপোর্টার : পাবনার চাটমোহর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমানের অপসারণের দাবিতে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন, অবস্থান কর্মসূচীর কারণে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।

আন্দোলনের কারণে গত শনিবার ও রোববার কলেজের কোন ক্লাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। রোববার সকাল থেকেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

কলেজের অফিস সহকারী আঃ রাজ্জাক কর্তৃক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা, অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা ও পদ সৃজনের জন্য শিক্ষকদের আত্তীকরণের ফাইল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না পাঠোনোর প্রতিবাদে, মামলা প্রত্যাহার ও অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে কলেজের শিক্ষকরা সকল পরীক্ষা বর্জনসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন শুরু করেছে।

গত ১৩ দিন যাবত এ অবস্থা বিরাজ করছে কলেজটিতে। কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষকরা তাঁদের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন। অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী।

আন্দোলনকারীরা বলেন, অধ্যক্ষের আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়েছে। অধ্যক্ষকে দূর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে আবারো তার অপসারণ দাবি করেন শিক্ষক-কর্মচারী।

তারা অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মিথ্যে মামলা দায়েরের প্রতিবাদ জানান এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, কলেজ সরকারিকরণের পর থেকেই অধ্যক্ষ পদসৃজন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেন। শিক্ষকদের আত্তীকরণ ফাইল নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না পাঠিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হয়রানীমূলক পদক্ষেপ নিতে থাকেন।

এরই অংশ হিসেবে অধ্যক্ষের আত্মীয় কলেজের অফিস সহকারী আঃ রাজ্জাক কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নাজমুল হককে লাঞ্ছিত করে।

অধ্যক্ষের নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবী করেন তারা। শিক্ষকরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, ভুয়া শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেন।

আন্দোলন দমন করতে নানা পাঁয়তারা করেছেন অধ্যক্ষ ও তাঁর অনুসারীরা। মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে আগামি ৫ নভেম্বর উচ্চমাধ্যমিক ১ম বর্ষের ১ম সাময়িক পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পেছানোর দাবি করেন।
তারা অধ্যক্ষের কাছে পরীক্ষা পেছানোর আবেদন জানাতে গেলে অধ্যক্ষের স্ত্রী সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আয়েশা সিদ্দিকা শিক্ষার্থীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি সরকার অসীম কুমারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেছেন, যেসব অভিযোগ তারা করেছেন এর কোন ভিত্তি নেই। তারা ক্লাসে না এসে আন্দোলনে নামলেও আমরা ক্লাস পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।

তাদের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চায় কিন্তু তাদের কারণে ক্লাস পরীক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে।
আমার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের একাংশ মানহানীকর নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ইতোপূর্বে লিফলেট ও পোস্টারিং করা ছাড়াও ক্লাস বর্জন পর্যন্ত করেছে।

অধ্যক্ষ মো মিজানুর রহমান আরো বলেন, প্রকৃত ঘটনা হলো অধ্যক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমারের যৌথ স্বাক্ষরে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য ছক মহাপরিচালক বরাবর পাঠানোর তারিখ ছিলো গত ২৮/০৪/২০১৯ হতে ০৭/০৫/২০১৯ তারিখ এর মধ্যে।

কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইকালে দেখা যায় যে, কিছু শিক্ষক অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে জাল জালিয়াতি করে এমপিওভুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন।

এ বিষয়টি অধ্যক্ষ ইউ,এন,ও’র নজরে আনলে তিনি ওই এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকদের ফাইলপত্রে কাগজপত্র সত্যায়িত করে প্রত্যয়ন প্রদান করতে বলেন।

এ সকল কাগজপত্রে শুধুমাত্র অধ্যক্ষের স্বাক্ষর লাগবে সেই কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যক্ষের নিকট হতে সমস্ত ফাইলপত্র তার দপ্তরে আটকে রেখে এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকদের স্বপক্ষে প্রত্যায়ন দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

অধ্যক্ষ রাজি না হওয়ায় ওই এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষক ও ২৪জন নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে তাদের দিয়ে ডি,সি অফিসে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদান করেন।

শিক্ষকরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পাবনা জুডিশিয়াল কোর্ট-৪ এ দুইটি মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা করেন এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম মিথ্যা দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অপসারণ চেয়ে ওই শিক্ষকগণ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

অধ্যক্ষ জানান, নিয়োগ জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাৎকৃত শিক্ষক ও অন্যত্র চাকুরী করা শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিকাশ মৈত্র, সহ: অধ্যাপক, ইংরেজী,রেহানা সুলতানা, প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস, মোঃ আবদুর রকিব, প্রভাষক, ইসলাম শিক্ষা, এস, এম, মুক্তি মাহমুদ, প্রভাষক, ভূগোল, মোঃ ওয়াইজ আলম, প্রভাষক, পরিসংখ্যান, রুহুল আমীন, প্রভাষক, উদ্ভিদবিজ্ঞান (অনার্স), সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরীরত, কে, এম, হাবিবুর রহমান, প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস (অনার্স), ফেবিকল, প্রিটিডিল কোম্পানীতে চাকুরিরত, খোন্দকার ইফতেখারুল আহমেদ, প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস, (অনার্স), এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক,মোছা: মরিয়ম বেগম, প্রভাষক,সমাজবিজ্ঞান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক,মোঃ ফয়সাল আহমেদ, প্রভাষক, ভূগোল, পরিসংখ্যান ব্যুরো, ঢাকায় কর্মরত, মোঃশফিকুল ইসলাম, অডিট অফিসার, ব্রাক, ঝিনাইদহে কর্মরত রয়েছেন
এমপিওভুক্ত ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী অবৈধ নিয়োগ নিয়ে সরকারের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ বিষয়ে মামলা চলমান আছে। নন এম,পি,ও শিক্ষকগণ ২০১৮ সালের আত্মীকরণ বিধি মোতাবেককোন ভাবেই আত্তীকরণ হতে পারবেন না।

ফলে ওই ৪০ জন শিক্ষক অবৈধভাবে আত্তীকরণ হতে না পেরে অধ্যক্ষের নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করেছেন যা এখন তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য পাওয়া যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার জানান, অধ্যক্ষের অভিযোগগুলোর কোন ভিত্তি নেই। তিনি যা বলেন বা বলছেন তা বানানো কথা।

চাটমোহরের সচেতন ব্যক্তিরা কলেজের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানসহ প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

দূর্নীতি, সস্ত্রাস ও মাদক বিরোধী সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে অধ্যক্ষের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে অধ্যক্ষর অপসারণ দাবি করেছেন। অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে এলাকায় পোস্টারিং করেছেন পাবনা জজকোর্টের এডিশনাল জিপি অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম চৌধুরী।

কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কলেজের সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!