শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

জনবল সংকটে পাবনা মানসিক হাসপাতাল

image_pdfimage_print

রনি ইমরান : দেশের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল পাবনা মানসিক হাসপাতালে চরম ভর্তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।

দেশের দূর দূরান্ত থেকে আসা সিরিয়াস মানসিক রোগীদের ভর্তি করাতে না পেরে অবশেষে অসহায় মানবেতর অবস্থায় ফিরে যেতে হচ্ছে স্বজনদের।

৫শ ‘শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে সপ্তাহে একদিন শুধুমাত্র সোমবার রোগী ভর্তি করা হয় বলে জানা যায়। কিন্তু অনেকে না জেনে যেকোনো দিন রোগী ভর্তি করাতে চলে আসে।

হাসপাতালে এসে বহিঃবিভাগে ডাক্তার দেখানোর পরই সিদ্ধান্ত হয় রোগী ভর্তি হতে পারবে কিনা। অনেক সময় শয্যাও ফাঁকা থাকেনা তখন ভর্তি হতে কয়েকদিন দেরি হয়ে যায়। সেই সময়টা পাবনার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতে হয় স্বজনদের।

যেটার সামর্থ্য নেই অনেক দরিদ্র পরিবারের। আবার কখনো কখনো রোগীরা ভাংচুর, মারপিট শুরু করলে তাদের নিয়ে হোটেলে থাকাটাও মুসকিল হয়ে পড়ে।

মানিকগঞ্জ থেকে একজন রোগী নিয়ে এসে স্বজন মো. রফিকউল্লাহ বলছিলেন, রোগী খুব সিরিয়াস প্রচন্ড রকম মারামারি ভাংচুর করে, অনেক আশা করেছিলাম আজ রোগীকে ভর্তি করাতে পারবো কিন্তু ভর্তি নিল না। পাবনায় থাকার মত অবস্থা ও সার্মথ্য নেই তাই ফিরে যাচ্ছি।

কুষ্টিয়া থেকে একজন স্বজন হাতে পায়ে লোহার শেকল বেধে গুরুত্বর এক মানসিক রোগীকে এনেছেন ভর্তির আশায়। রোগীর গুরুত্বর অবস্থা ‘তাকে ধূমপান করতে দিলে সে চুপ থাকে নয়তো ভয়ংকর উত্তেজিত হয়ে যায়।

তার সামনে কেউ ধূমপান করলে সে মারধর শুরু এবং সিগারেট বা বিড়ি কেড়ে নিয়ে খাওয়া শুরু করে। এমন সিরিয়াস রোগীদের ভর্তি করা হয়নি হাসপাতালে। আসন সংখ্যা না থাকায়।

দেশের দূর দূরান্তের থেকে আসা রোগীর স্বজনরা দাবী করেছেন, এমন আপদকালীন সময়ে হাসপাতালে একটা থাকার মত জায়গা যদি থাকতো তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো।

করোনাকালীন সময় শুরু হওয়ার আগে শ্রী শ্রী অনূকূল ঠাকুরের আশ্রমের বারান্দায় জায়গা করে নিতো ভর্তি হতে না পারা এসব রোগী ও রোগীর স্বজনরা।

কিন্তু বর্তমানে আশ্রমের দরজা বন্ধ। সপ্তাহে মাত্র একদিন সোমবার রোগী ভর্তির দিন থাকলেও প্রতিদিনই দেখা যায় দূরের রোগীদের চরম ভোগান্তি।

রোগিকে ভর্তি, ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা করার কথা বলে টাকা নেওয়া অভিযোগ রয়েছে এখানকার দালালদের বিরুদ্ধে ।

আসন সংখ্যা সীমিত ও জনবল সংকটে এমন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ১৩ জন ডাক্তার কিন্তু রোগীর সংখ্যা ৫’শত যা অপ্রতুল।

চিকিৎসকের জন্য ৩০ টি পদ এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য আছে ১৭ টি। এবং মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ৪ টি মধ্যে ৩ টি শূন্য। সর্বমোট ৬৪৩ টির মধ্যে ১৯১ টি শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ তপন কুমার রায় বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি খালী থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ভর্তি যোগ্য অনেক রোগী বর্হিবিভাগ থেকে ফেরত যাওয়ার কারনও এটি। উর্ধ্বতন পর্যায়ে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!