বুধবার থেকে পাবনায় সেনা টহল

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : গত ২৪ ঘন্টায় পাবনায় ৫৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৬৮৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া জেলায় ৩ হাজার ৩০০ জন বিদেশ থেকে আসলেও তারা কোথায় আছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সিভিল প্রশাসনের সাথে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলায় আসা যৌথ বাহিনী বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে মাঠে থাকবেন বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, পাবনায় এখন পর্যন্ত কারো শরীরে করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়নি। যে একজনকে করোনা সন্দেহে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিলো তার নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।

তবে আজ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ৬৮৮ জন। তাছাড়া সবাইকে আতঙ্ক না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ীর বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহেদ পারভেজ, পাবনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান, পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ, সাংবাদিক রিজভী জয়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল করিমসহ জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ।

এদিকে পাবনার সিভিল সার্জন ডা: মেহেদী ইকবাল জানান, ইতোমধ্যে পাবনা জেলা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের সেফটির জন্য প্রয়োজন মোতাবেক পিপেই বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরেও শহরে ব্যপক লোক সমাগম দেখা গেছে। বাজার গুলোতে ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম ব্যপকভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

আর এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক বাজার মনিটরিং করলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা চাউলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা।

এখনো পাবনার বড় বাজারে পাইকারী চালের দোকানে প্রতি বস্তা চাল বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চারশত টাকা বেশী দামে। আটা বিক্রি হচ্ছে প্রতি বস্তাতে একশত টাকা বেশী দামে।
জেলায় গত এক সপ্তাহে হোম কোয়ারেন্টাইন ও বাজার মোবাইল কোটের মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায়সহ দাম বৃদ্ধি ও আইন অমান্য করায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জেলা সবচাইতে বেশি হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলাতে ২৮৫ জন তার পরেই পাবনা সদরের ১৭৭ জন।

এদিকে পাবনার সিভিল সার্জন ডাঃ মেহেদী ইকবাল জানান, পাবনায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৫৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনিয়ে সর্বমোট পাবনায় ৬৮৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এদিকে করোনা ঝুকি থেকে সাধারন মানুষদের রক্ষা করতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে সব ধরনের আবাসিক হোটেল শপিংমল, বিপনি বিতান, মার্কেট চা’র দোকান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

।। বক্তব্য রাখছেন পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।।