মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

জাপা-জামায়াত ছেড়ে যে ভাবে আ’লীগ নেতা হয়ে ওঠেন আব্দুল বাতেন!

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : দোর্দণ্ড প্রতাপশালী পাবনার বেড়া পৌরসভার সদ্য বহিস্কৃত মেয়র আবদুল বাতেন।

যিনি বিভিন্ন সময়ে দল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীত দমন কমিশনে তিনটি মামলা বিচারাধীন। ২০১৫ সালের একটি এবং ২০১৬ সালের দুটি মামলা এখন বিচারাধীন।

মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে বেশ কিছুদিন হাজত খেটে এখন জামিনে আছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মিটিংয়ের মধ্যে লাঞ্ছিত করেছেন। যা স্থানীয় সরকার আইন ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী।

এর আগে তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে এবং পরে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দুদকের পাবনা অঞ্চলিক কার্যালযের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বাতেনের বিরুদ্ধে চলমান তিনটি মামলাই ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের।

পাবনার বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখা গ্রামের জুড়ান সরদারের ছেলে আব্দুল বাতেন ছিলেন রিকশা শ্রমিকদের নেতা।

১৯৮৪ সালে আবদুল বাতেন যোগদান করেন জাতীয় পার্টিতে। তখনকার জাতীয় পার্টির নেতা পাবনা-১ এর সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদেরের সঙ্গে (সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী এবং পানি উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী) ছিল তার সখ্যতা।

জাতীয় পার্টিতে ছিলেন মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদেরের সহচর।

১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ছিলেন জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর সহচর।

এরশাদ সরকারের পতনের পর আবদুল বাতেন ১৯৯১-এর নির্বাচনের সময় যোগদান করেন জামায়াতে ইসলামীতে।

এই বছরের নির্বাচনে এবং এর পর ১৯৯৬ এবং ২০০১-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুল বাতেন ছিলেন জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর নির্বাচনী (পাবনা-১) এজেন্ট।

প্রতিটি নির্বাচনে তিনি নিজামীর সঙ্গে জনসভায় অংশগ্রহণ করে বক্তৃতা করেন।

১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি ছিলেন সাঁথিয়া-বেড়া এলাকায় নিজামীর অন্যতম সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০০৮-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে (পাবনা-১) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আবদুল বাতেনের সহোদর এ্যাড. শামসুল হক টুকু।

উল্লেখ্য ১৯৯৬-এর নির্বাচনে জয়ী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ (সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী) আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থী হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন।

শামসুল হক টুকু জয়ী হওয়ার পর প্রথমে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদ পান।

ভাই টুকু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বাতেনের কপাল খুলে যায়। তিনি ক্রমান্বয়ে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি পদটি দখল করেন।

নিবেদিত প্রাণ সিনিয়র নেতাদের ডিঙিয়ে তিনি হন দলের উপজেলা সভাপতি।

দোর্দণ্ড প্রতাপশালী হয়ে ওঠেন আবদুল বাতেন। তার কথায় চলত থানা পুলিশ। সাঁথিয়া-বেড়া এলাকায় সব দরবার সালিসের নেতৃত্ব দিতেন আব্দুল বাতেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্ব্যবহারই তার হাতিয়ার ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তাদের নাজেহাল এবং অপমান- অপদস্ত করা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।

বাতেনের বিরোধিতা করলে বা তার সালিসের কেউ বিরোধিতা করলে তাকে হয়রানি করা হতো মিথ্যা মামলা দিয়ে।

বাতেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পড়তেন চতুর্থ শ্রেণীতে। যদিও তিনি দাবি করেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা।

শুধু তাই নয় জাতীয় পার্টির সরকারের সময় তিনি বেড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন।

তখন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বাতেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার’ শিরোনামে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশ হয়েছিল, উক্ত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়ে।

২০০৮ সালের পর আবার তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়।

২০১৬ সালের প্রথম দিকে দুর্নীতির মামলায় হাজতবাস করেন আবদুল বাতেন।

দুদকের মামলা থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে অংশ নেন বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে।

২০১৮-এর ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হন নৌকা প্রতীক নিয়ে।

দুর্নীতির মামলার একজন আসামি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় তখন এলাকাবাসী অবাক হয়।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবদুল বাতেনের প্রভাব প্রতিপত্তি আরও বেড়ে যায়।

আবদুল বাতেনের ঢাকায় কয়েকটি ফ্ল্যাট ও দেশের বাইরে মালয়েশিয়ায় রয়েছে সেকেন্ড হোম।

বেড়া থানার পাশেই করেছেন বিশাল অট্টালিকা। এছাড়া জমিজমা করেছেন অনেক।

পাবনা নির্বাচনী এলাকা-১ এর সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় আব্দুল বাতেন হচ্ছেন জামায়াত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষক।

তার কারণেই এই এলাকায় এখনও জামায়াত-শিবির তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে।

উল্লেখ্য, আবদুল বাতেন গত ১২ অক্টোবর বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে লাঞ্ছিত করলে ১৩ অক্টোবর সরকার মেয়র আবদুল বাতেনকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!