শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

জোড়াতালি দিয়ে চলছে পাবনা মানসিক হাসপাতাল

জোড়াতালি দিয়ে চলছে পাবনা মানসিক হাসপাতাল

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনা মানসিক হাসপাতালের প্রতিজন রোগীর খাদ্য বাবদ দৈনিক বরাদ্দ ১২৫ টাকা। এই টাকার ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাদ দিলে দাঁড়ায় ১০৬ টাকা ২৫ পয়সা।

তার মধ্যে রয়েছে ঠিকাদারের লাভ, অফিস খরচ ও অন্যান্য। মূলত এসব ব্যয় বাদে একজন মানসিক রোগীর পেছনে তিন বেলা খাদ্য বাবদ প্রতিদিন খরচ করা হয় মূলত ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

এই টাকায় মানসিক রোগীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। আবার তাদের যে খাবার বা মাছ-মাংস দেওয়া হয়, তা মানসম্মত নয় বললেই চলে।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের খোদ পরিচালক প্রফেসর ড. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস এমন তথ্য জানিয়ে বলেন, রোগীর খাওয়া বাবদ অন্তত দুই থেকে আড়াই গুণ টাকা বাড়ানো উচিত। তিনি আরও বলেন, ৫০০ বেডের এই হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীই পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, মানসিক রোগের জন্য দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ‘পাবনা মানসিক হাসপাতাল’ এখন নিজেই রোগগ্রস্ত।

পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ভবনগুলো জরাজীর্ণ, সিটের অপ্রতুলতা, অধিকসংখ্যক রোগীর আগমনে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

৫০০ শয্যার এই বৃহৎ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চলছে মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে। পাবনা মেডিকেল কলেজের কয়েকজন সহকারী অধ্যাপককে বাড়তি দায়িত্ব দিয়ে কিছুটা সামাল দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থার।

এ ছাড়া সুস্থ হওয়ার পরও ২২ জন রোগী বাড়ি ফিরতে পারছেন না। এসবের পেছনে রয়েছে ভুল ঠিকানা ও স্বজনদের অবহেলা আর অস্বীকৃতি।

৬০ বছর পার হলেও আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া স্পর্শ করতে পারেনি এই মানসিক হাসপাতালটিতে।

হাসপাতালের জন্য নতুন কোনো ভবন, চিকিৎসার আধুনিক সরঞ্জামাদি, মনোরোগ চিকিৎসার জন্য গবেষণাগার, মেডিসিন সংরক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির স্টোর রুম, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন কোনোটিই নির্মাণ হয়নি।

হাসপাতালের বাউন্ডারি, দেয়াল, জানালা, দরজা, গ্রিল সবকিছুই খসে পড়ছে।

২০০ শয্যার হিসাব অনুযায়ী জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটি। ২০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে এখানে মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ৪৭২টি।

এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩৩৬ জন। বাকি ১৩৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বর্তমানে মাত্র চারজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। তারা মানসিক রোগের ওপর বিশেষজ্ঞ নন।

পাবনা মেডিকেল কলেজের কয়েকজন সহকারী অধ্যাপক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া দুটি সিনিয়র কনসালট্যান্ট, একটি ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট, একটি আবাসিক মেডিকেল অফিসার, সাতটি ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, পাঁচটি মেডিকেল অফিসার, দুটি সহকারী রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য দীর্ঘদিন।

অন্যদিকে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ১২৫টি পদও শূন্য।

এতে করে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২৫০ জন নার্সের পদ থাকলেও বর্তমানে শূন্য রয়েছে ৭০টি। কর্মরত এ নার্সদের আবাসিকের কোনো ব্যবস্থা নেই।

হাসপাতালটি শহর থেকে দূরে হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহনের জন্য নেই কোনো যানবাহন। পরিচালকের জন্য একটি নিজস্ব আবাসিক ভবন থাকলেও তিনি সেখানে থাকেন না।

পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় চুক্তিভিত্তিতে ২৫ পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়ে বৃহৎ এ হাসপাতালটির কাজ চলছে। ৫০ জন আনসার দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতালে রোগীদের বিছানাপত্রসহ আনুষঙ্গিক পরিধেয় কাপড়চোপড় পরিস্কারের জন্য একটি লন্ড্রি প্লান্ট স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহূত এই প্লান্টটি মাঝেমধ্যে অকেজো হয়ে পড়ায় ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

এই লন্ড্রি পল্গান্টের নামে লোপাট করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে লন্ড্রি বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। অথচ রোগীদের পোশাকসহ সবকিছুই নোংরা।

সূত্র জানায়, সাধারণ রোগীর চেয়ে মানসিক রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি একটু ভিন্ন ধরনের। তাই রোগীদের সুস্থ করে তোলার জন্য মেডিসিনের পাশাপাশি বৃত্তিমূলক চিকিৎসার বিশেষ প্রয়োজন।

এসব বৃত্তিমূলক চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে- শরীরচর্চা প্রশিক্ষণ, ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলা, সঙ্গীত, বিনোদনমূলক সিনেমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ প্রভৃতি।

সুস্থ হয়ে ওঠার পর দরিদ্র রোগীদের পুনর্বাসনের জন্য তাঁত, বেত ও দর্জি কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এক সময় থাকলেও এসবই এখন রয়েছে বন্ধ। সব ভবনই জরাজীর্ণ।

এসব কাজের জন্য ব্যবহূত সরঞ্জামাদি বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় রোগীদের বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কোনো কাজই করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না।

 

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!