জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা হলে অধিক সতর্ক হওয়ার পরামর্শ

শীত মৌসুমে সাধারণ জ্বর, কাশি, গলা ব্যথার মত উপসর্গ দেখা দিলে অত্যাধিক সতর্ক হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, সময়টা করোনা মহামারীর। আর সাধারণ ফ্লু এবং করোনাভাইরাসের উপসর্গ একই। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বেশি নজর দেয়ার পরামর্শ তাদের।

শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা। ঋতু পরিবর্তনে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে জ্বর, ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা।

কোভিড রোগীদের উপসর্গ হিসেবে প্রথমেই দেখা দেয় জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি ও গলা ব্যথা। এ অবস্থায় করোনাভাইরাস এবং সাধারণ সর্দি-জ্বর দুটোর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন।

আইইডিসিআর-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন বলেন, ছয় বছরের নীচের বাচ্চাদের করোনা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নাই। জ্বর যদি আসে তাকে আলাদা রেখে যত্ন করতে হবে। কোন ক্রমেই চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া কোন এন্টিবায়োটিক কিংবা এন্টিভাইরাল বা অন্য কোন ওষুধ দেয়ার প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিলে পরিবার বা আশেপাশে যদি করোনা আক্রান্ত কেউ থাকেন তাহলে অবশ্যই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, ভেন্টিলেশন যদি পুওর হয় তাহলে ওই বাসায় যদি কেউ আক্রান্ত থাকে তাহলে তার কাছ থেকে যারা ক্লোজ কন্ট্রাক্টে থাকবে তাদের মাঝে ছড়ানোর চান্সটা অনেক বেশি বাড়বে। সেই জন্য যেখানে বদ্ধ জায়গা আছে সেখানে চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। বাড়িতে যদি কেউ আক্রান্ত হয়, তাহলে অবশ্যই তাকে আইসোলেশনে রাখতে হবে এবং তার রুমের ভেন্টিলেশনের ব্যাপারেও সতর্ক হতে হবে বিশেষ করে শীতকালে।

নবজাতকের মা যদি করোনা আক্রান্ত হন, তবে শিশুকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও মায়ের বুকের দুধ বেশি জরুরি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের ইপিডিমিওলজিস্ট কিংকর ঘোষ বলেন, নবজাতক বাচ্চা যদি মায়ের দুধ না পায় সেক্ষেত্রে কিন্তু তার মারাত্মক ধরনের গ্রোথের সমস্যা হতে পারে। বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানের আগে মাস্ক পরে, সম্ভব হলে কাপড় পরিষ্কার করে, হাত ধুয়ে স্যানিটাইজ করে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারবে।

শুধু মহামারী নয়, যে কোন রোগ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সচেতন থাকা জরুরি।