রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

‘জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়’

image_pdfimage_print

নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমেরিকাতে আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। সেটা ধরা পড়েছে, আমেরিকায় এফবিআই তাদের তদন্তে জানিয়েছে।’

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত হন।

ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে কিডন্যাপ করে হত্যার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এফবিআই যখন এটা তদন্ত করে সেখানে বিএনপির নেতা দোষী সাব্যস্ত হয় এবং সাজাপ্রাপ্ত হয়। সেখানে যে রায় দেয় বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান এবং শফিক রেহমান তাদের নাম বেরিয়ে এসেছে। যে তারা এর সঙ্গে জড়িত। যে শাস্তি পায় সে যে তারেক জিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এই ঘটনা ঘটিয়েছিল, এটা আমরা কখনও জানতে পারতাম না যদি এফবিআই এটা খুঁজে বের না করতো।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ১৫ আগস্টের খুনিদের যোগাযোগ ছিল, তা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে ২১ গ্রেনেড হামলা ঘটায়। এর সঙ্গে তার ছেলে তারেক রহমান জড়িত ছিল।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তখন বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ছিল। তাদের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছিল। এই ধরনের গ্রেনেড হামলা বোধহয় পৃথিবীতে আর কখনও কোথাও ঘটেনি। সাধারণত রণকক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু আমাদের সেই র‌্যালিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু সেইদিন আইভী রহমানসহ আমাদের ২২জন নেতাকর্মী শাহাদাৎবরণ করেছে। সেই সঙ্গে অনেক নেতাকর্মীরা আহত হয়েছে, অনেকে আহত হয়ে পরে মারা গেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ড শুধু রাষ্ট্রপতিকে নয়, একটি পরিবার এবং সেই সঙ্গে আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য, তাদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। এরপর আমাদের আওয়ামী লীগের অসংখ্যা নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কত লাশ যে আমাদের টানতে হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, ‘এক একটা ঘটনা ঘটাবার আগে খালেদা জিয়া যে বক্তৃতাগুলো দিয়েছে, কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল, তার আগে বলেছিল আওয়ামী লীগ একশ বছরেরও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পূর্বে খালেদা জিয়ার বক্তৃতা ছিল শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধী দলের নেতাও কোনদিন হতে পারবে না। এই ভবিষ্যৎবাণী খালেদা জিয়া কীভাবে দিয়েছিল? কারণ তাদের চক্রান্তই ছিল আমাকে তারা হত্যা করে ফেলবে। তাহলে তো আমি আর কিছুই হতে পারবো না। এটাই তাদের চক্রান্ত ছিল। এখানেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। আপনারা জানেন, আমেরিকায় আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে কিডন্যাপ করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। সেটা ধরা পড়েছে, আমেরিকায় এফবিআই তাদের তদন্তে জানিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৪ সালে তৎকালিন সরকারের মদদেই ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। সেদিন আহতদের সাহায্য করার বদলে লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কেন সেদিন তারা এটা করেছিল? এত বড় একটা ঘটনা, অথচ সে সময় সংসদে আমাদের কথা বলতে দেয়নি। তখন পার্লামেন্টে যিনি সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী, সে তখন বলে দিল ওনাকে আবার কে মারবে। তখন তো বলতেই হয় যে আপনিই তো মারবেন। চেষ্টা করেছেন ব্যর্থ হয়েছেন সেজন্য আর পারছেন না।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ’২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতোই বহুবার বিভিন্ন হামলার শিকার হয়েছি আমি। কিন্তু এরকম ভয়াবহ হামলা, তারপরেও বেঁচে আছি। নিশ্চিয়ই আল্লাহ রেখে দিয়েছেন কিছু কাজ সেটা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত হয়তো কাজ করে যেতে পারবো। আল্লাহ সেই সুযোগ দেবেন। আমি সেটুকুই চাই, সেই কাজটুকু করে যাবো। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন গ্রেনেড হামলাটা হলো, সাধারণ একটা সভ্য দেশ হলে কী করতো? সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এবং অন্যান্য সবাই ছুটে আসতো আহতদের সাহায্য করতে, উদ্ধার করতে, চিকিৎসা দিতে। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। সেখানে কোনও রোগী যেতে পারে নাই। চিকিৎসা নিতে পারে নাই। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে বিএনপির সে সমস্ত ডাক্তার তারা কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল না। যাদের ডিউটি ছিল, তারাও নাই, কারণ তারা আহতদের চিকিৎসা করবে না। আমাদের যারা ডাক্তার ছিল তারা ছুটে গিয়েছিল, তারা সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!