রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

টাঙ্গাইলে ব্লু হোয়েল গেমসে আক্রান্ত তরুণ!

টাঙ্গাইলে ব্লু হোয়েল গেমসে আক্রান্ত তরুণ!

image_pdfimage_print

নিশ্চিত মৃত্যুর ফাঁদ হিসেবে বিশ্বের আতঙ্কিত ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম খেলতে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন হৃদয় (২০) নামের এক তরুণ। এমনটাই দাবি করেছেন তার পরিবার।

তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বয়ড়াপাড়া আলমনগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আমজাদ আলীর ছেলে। এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এলাকার লোকজন। হৃদয়কে দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করে কৌতুহলী মানুষ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, হৃদয় গাজীপুর একটি পেপার মিলে চাকুরি করে। ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে তিনি ব্ল হোয়েল গেইম খেলতে শুরু করেন। এরপর তিনি গেইমটিতে আসক্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গত ১১ই অক্টোবর তার ফেসবুক পেইজে হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে একটি ছবি পোস্ট করে। ছবিটি ফেসবুকের মাধ্যমে হৃদয়ের মামা সৌদি প্রবাসী কবির হোসেনের নজরে আসে। কবির বিষয়টা সৌদি থেকে তার স্বজনদের জানালে পুরো গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।

গত বুধবার রাতে তার পরিবারের লোকজন হৃদয়কে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

হৃদয় জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনের নেট অন করার সাথে সাথে স্কিনে একটা অ্যাপ ভাসতে থাকে। ব্লু হোয়েল সম্পর্কে আমি শুনেছি, তারপরও কৌতুহল বশত অ্যাপসটি ওপেন করি। এরপর একটা কল আসে। আমি রিসিভ করলে একজন অ্যাডমিনের নির্দেশে শুরু হয় গেমস খেলা। ধীরে ধীরে বেশ কিছু মজার ধাপ খেলতে খেলতে আসে চ্যালেঞ্জিং পর্ব।

তবে ২০ দিন ধরে গেমটির কত পর্ব খেলেছে বা কি কি কাজ করেছে এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোন জবাব দিতে পারেনি হৃদয়। তিনি আরো জানান, আমার তেমন কিছু মনে নেই, তবে গেমটি খেলতে খেলতে আমার হাতে তিমি মাছের ছবি আঁকতে বলা হয়েছিল। আমার হাত কেটে কিভাবে ছবি এঁকেছি আমি জানি না। রাতে কি করেছি আমার কিছুই মনে পড়েনি।

হৃদয়ের নানা আব্দুল হামিদ জানান, তাকে নিয়ে আমরা ভীষণ চিন্তিত। তার মোবাইলসহ সীমকার্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এইসব মরণঘাতী গেম যেন ছেলে-মেয়েদের হাতে পৌঁছাতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে তিনি অনুরোধ করেন।

হৃদয়ের মা হাজেরা বেগম ছেলের প্রাণ হারানোর ভয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন। তারও দাবি এমন মরণ খেলা যেন কারো সন্তানের কাছে না আসে। হৃদয়কে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত।

গোপালপুর থানার ওসি মো. হাসান আল মাহমুন জানান, ঘটনাটি শুনেছি। আমরা তাকে আমাদের হেফাজতে আনার জন্য থানা থেকে অফিসার পাঠিয়েছি। কিন্ত তাকে পাওয়া যায়নি।

 

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!