ঢাকাশনিবার , ২ এপ্রিল ২০২২

টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালার প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ বাণিজ্য

News Pabna
এপ্রিল ২, ২০২২ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালার প্রধান শিক্ষক ফজলুল হকের বিরুদ্ধে একের পর এক অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

কিছুদিন পূর্বে স্কুলের অফিস সহায়ক নিয়োগে প্রায় ১৫ লাখ টাকা লেনদেন করে প্রধান শিক্ষকের আপন ভাই শুকমাল আলীকে নিয়োগ দিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেন এই শিক্ষক।

এদিকে স্কুলের আয়া নিয়োগ নিয়েও প্রধান শিক্ষকের সাথে ১০ লাখ টাকার রফা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রধান শিক্ষকের একের পর এক অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও এলাকার মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অীনচ্ছুক স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য বলেন, নিয়োগের পূর্বে মিটিংয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত কোন এজেন্ডা অর্ন্তভুক্ত না করে মিটিং শেষে গোপনে এজেন্ডা অর্ন্তভুক্ত করে পরে বিভিন্ন কৌশলে কমিটির সদস্যদের নিকট থেকে স্বাক্ষর গ্রহন করে নিয়োগ সম্পন্ন করেন প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক।

এভাবেই তার আপন ভাই অফিস সহায়ক শুকমাল আলীকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। সেই নিয়োগ সংক্রান্ত এজেন্ডায় এখন পর্যন্ত দু’জন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য স্বাক্ষর প্রদান করেননি। তারপরেও সেই নিয়োগ চুড়ান্ত হয়েছে এবং নিয়োগপ্রাপ্ত শুকমাল আলীর বেতন চালু হয়েছে। এত বড় জালিয়াতির পরেও কিভাবে তা সম্ভব হয়েছে এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এরই মাঝে আবার স্কুলের আয়া নিয়োগ নিয়ে টাকার খেলায় মত্ত হয়েছেন প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক। ইতিমধ্যে আয়া নিয়োগে একজন প্রার্থীর নিকট থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে এবং চুক্তিবদ্ধ সেই প্রার্থীর ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও জন্ম নিবন্ধনে দু’রকমের জন্ম তারিখ রয়েছে যা ফটোকপির কাগজের মাধ্যমে জালিয়াতি করে দ্রুত নিয়োগ চুড়ান্ত করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক।

আয়া নিয়োগে টাকার বিনিময়ে চুড়ান্ত সেই প্রার্থী অষ্টম শ্রেণি পাশ না করলেও একটি স্কুল থেকে টাকার বিনিময়ে অষ্টম শ্রেণির সার্টিফিকেট ম্যানেজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল আয়া নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে আয়া পদে একাধিক প্রার্থী যারা আবেদন করেছেন তাদের অধিকাংশ এসএসসি পাশ থাকা সত্বেও টাকার বিনিময়ে অষ্টম শ্রেণি পাশ করেনি এমন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা নিয়েও অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাই শুকমল আলী যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পেয়েছেন এবং ইতোমধ্যে তার বেতনও হয়ে গেছে। তাই এই নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।

এ বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোহাম্মাদ আলীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। অপর সদস্য বিপু বিশ্বাস এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজী হননি।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো: মোসলেম উদ্দিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।