শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

তাপদাহে পুড়ে ফেটে যাচ্ছে লিচু, ক্ষতির সম্মুখিন কৃষকরা

Litchi-in-120160429143250ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : এ সময়ে ঈশ্বরদীসহ দেশের লিচু প্রধান এলাকাগুলোতে প্রবেশ করলেই হলদে রং থেকে পাকা রং ধারণ করতে থাকা লিচুর ঝোপাগুলো চোখে পড়ার কথা। কিন্তু চলতি মৌসুমে লিচু এলাকা ঈশ্বরীতে দেখা মিলল একেবারেই বিপরীত চিত্র।

চাষিদের মুখে হতাশা আর আর্থিক ক্ষতির ছাপ। অতিরিক্ত তাপদাহে পুড়ে অপক্ত অবস্থাতেই লালচে হয়ে ফেটে যাচ্ছে লিচুগুলো। লিচুগুলি আকৃতিতেও রয়ে গেছে ছোট ছোট।

শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেলো এমন চিত্র।

ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর এলাকায় প্রবেশ করতেই দেখা মিললো সারি সারি লিচুর বাগান। কিছু গাছে লিচুর দেখা পাওয়া একটু কঠিনই হয়ে পড়লো। আবার কিছু গাছে পুড়ে লালচে হয়ে যাওয়া লিচুগুলো ফেটে ঝুলে আছে। অপক্ত অবস্থায় লালচে রঙ ধারণ করা লিচুগুলো একেবারেই গাছের সঙ্গে মানাচ্ছে না।

চাষিরা নির্বাক চোখে কয়েক মাসের পরিশ্রম আর বিনিয়োগের ফল পুড়ে যাওয়া চেয়ে চেয়ে দেখছেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার তীব্র দাবদাহে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই একেবারেই সর্বস্বান্ত হবেন এমন শঙ্কাও পাওয়া গেলো।

লিচু চাষি পলাশ আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে তার ২০০টি গাছের মধ্য দেশি জাতের লিচুগুলো রোদের তাপে পুড়ে ফেটে যাচ্ছে। কী করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না। দুই একদিনের মধ্য বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কাও দেখছেন তিনি।

পাশেই থাকা আরেক লিচু চাষি শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, শুধু রূপপুর নয় ঈশ্বরদী উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই একই অবস্থা। গত ৭ থেকে ১০ দিন ধরে এভাবে লিচু পুড়ে যাচ্ছে। এরপর ফাটা শুরু হয়েছে। এগুলো বাজারে নিয়ে যাওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যাবে।

চাষিরা জানান, আগাম দেশি জাতের লিচুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বোম্বাই ও চায়না জাতের ক্ষতি তেমনভাবে শুরু হয়নি। আবহাওয়ার যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে এসব জাতের লিচুগুলোও নষ্ট হতে শুরু করবে।

পরিচর্যা হিসেবে এখন তারা গাছের গোড়ায় পানি ঢালছেন। এছাড়া কৃষিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ওষুধও স্প্রে করছেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।

কথা বলে জানা গেলো, এসব এলাকার মানুষের লিচুর সঙ্গে দুই ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কেউ কেউ নিজে চাষ করে বাজারজাত করছেন। আবার কেউ কেউ বাগান কিনে লিচু বাজারজাত করে থাকেন। এদের মধ্যে যারা আগে বাগান কিনেছেন তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মত প্রকাশ করলেন এলাকাবাসী।

মনিরুল ইসলাম বলেন, যেসব চাষিরা আগে লিচুর গাছ বিক্রি করেছেন তারা লাভবান হয়েছেন। কিন্তু আমাদের তো যারা বাগান কিনেছেন তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পরিস্থিতি এমন হবে কেউ তো বুঝতে পারেননি।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানায়, বেলা ১১টাতেই এলাকার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি। তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

নিয়মিত আবহাওয়ার খোঁজ নেন লিচু চাষি আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিদিনই বিকেল বেলাতে প্রায় ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা ওঠে। এই তাপে গাছের ফল নষ্ট হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

লিচু চাষিরা এখন বৃষ্টির অপেক্ষায়। গ্রীষ্মের তাপদাহে লিচুর সঙ্গে নিজেদের স্বপ্ন পুড়ে যাওয়াকে কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না তারা। তবে এই তাপদাহ থেকে কীভাবে রক্ষা করা যাবে লিচুগুলো এমন কোনো সঠিক পরামর্শও তারা পাচ্ছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হর্টিকালচারাল উইংয়ের উপ-পরিচালক ও ফল গবেষক মেহেদী মাসুদ বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলে হয়তো চাষিদের বেশ ক্ষতিতে পড়তে হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু করণীয় রয়েছে যেগুলো মেনে চলতে হবে। প্রতিদিন বিকেলে পানি স্প্রে করলে তাপদাহ থেকে মুক্তি পাবেন চাষীরা।

তিনি জানান, ছত্রাকের আক্রমণে লিচু ফলের গায়ে খয়েরি রঙের দাগ পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটার পানিতে রোভরাল বা অনুরূপ দলীয় ছত্রাকনাশক দুই গ্রাম এবং ডেল্টামেথ্রিন (ডেসিস) নামক কীটনাশক এক মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করলে পোকা ও ছত্রাকের হাত থেকে লিচু নিরাপদ থাকবে।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে এ কর্মকর্তা কৃষি অফিসের সহযোগিতা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!