শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

তাপ ও স্পর্শের ব্যাখ্যা দিয়ে নোবেল জয় দুই বিজ্ঞানীর

তাপ ও প্রিয়জনের স্পর্শ মানবদেহ কিভাবে গ্রহণ করে, তা আবিষ্কারের জন্য এবার চিকিৎসায় যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের kalerkanthoদুই বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াস ও আরডেম পটাপাউটিয়ান। মানবদেহে যে নার্ভ সেন্সরের কারণে আমাদের শরীর তাপ ও স্পর্শ অনুভব করতে পারে, সেই রিসেপ্টর শনাক্ত করতে পেরেছেন তাঁরা। তাঁদের আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে ক্রনিক ব্যথাসহ নানা ধরনের রোগের চিকিৎসা উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে। এর স্বীকৃতি হিসেবেই নোবেল জয় করলেন এই দুই বিজ্ঞানী।

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় নোবেল কমিটি মেডিসিন বা শারীরবিদ্যায় যৌথ অবদান রাখার জন্য এই দুই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে নোবেল কমিটির প্রধান অধ্যাপক থমাস পার্লম্যান এ ঘোষণা দেন।

দুই বিজ্ঞানীকে নোবেল প্রদানের যৌক্তিকতা তুল ধরতে গিয়ে পার্লম্যান জানান, জুলিয়াস ও পটাপাউটিয়ান শরীরে তাপমাত্রা ও চাপ-সংবেদনশীল জোন চ্যানেলগুলো আবিষ্কার করেন। এর ফলে কিভাবে তাপ, ঠাণ্ডা ও যান্ত্রিক উদ্দীপনা দেহে স্নায়ু-সংকেতে রূপান্তরিত হয় এবং চারপাশের সব কিছুকে মানিয়ে নিতে মানুষকে সহায়তা করে—সেই ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। দৈনন্দিন জীবনে এই সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে মানুষ অনুমোদন দেয় ঠিকই, কিন্তু তা কিভাবে দেহাভ্যন্তরে তাপমাত্রা ও স্নায়ুচাপ দ্বারা সংকেতিকভাবে অনুবাদ করে, সেই জটিল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাঁরা।

নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াস তাঁর গবেষণায় দেখেছেন, মরিচের স্পর্শে আমাদের চামড়ায় জ্বালাপোড়া অনুভব হয়। ক্যাপসাইসিন নামের একটি রাসায়নিক এ অনুভূতি তৈরি করে। জুলিয়াস মরিচে উপস্থিত এই ক্যাপসাইসিন ব্যবহার করে দেখেন, শরীরে এমন একটি সেন্সর রয়েছে, যা তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল। ঞজচঠ১ নামের এই সেন্সর বা রিসেপ্টরই আমাদের দেহে তাপমাত্রার অনুভূতি দেয়। দেখা গেছে, এই রিসেপ্টর যন্ত্রণাদায়ক তাপে ‘হিট অ্যান্ড কিক’ হিসেবে সাড়া দেয়। শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোতে স্নায়ুজনিত কোনো ব্যথার ক্ষেত্রেও রিসেপ্টরটি কাজ করে। পরবর্তী সময়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা থাকে। ফিজিওলজি বা শারীরবিদ্যায় এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে বিজ্ঞানী আরডেম পটাপাউটিয়ান দেহকোষগুলো কিভাবে যান্ত্রিক চাপে সাড়া দেয়, তা বোঝার জন্য একটি চতুর পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি ত্বকের স্নায়ুপ্রান্ত এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গ—উভয়টিকে পাওয়ার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সেন্সর আবিষ্কার করেন। এর ফলে অত্যন্ত সহজেই বোঝা যায় যে প্রাণিদেহে স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে তাপ, ঠাণ্ডা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক উদ্দীপনার সংবেদনশীলতাগুলো কিভাবে উদ্ভূত হয় বা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যে সেন্সরটি রয়েছে তার নাম দেওয়া হয়েছে Piezo2। এটিই স্পর্শের অনুভূতি তৈরিতে কাজ করে। এ ছাড়া রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপর এর প্রভাব এবং হাড় পুনর্গঠনেও এর ভূমিকা রয়েছে।

এই দুই বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কার অন্য অনেক ক্ষেত্রের পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এই সেন্সরগুলোর আরো কী কী ভূমিকা আছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। থমাস পার্লম্যান এটাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী আবিষ্কার বলে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াস ১৯৫৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। এরপর তিনি নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক্টরাল সম্পন্ন করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন, যেখানে তিনি বর্তমানে একজন অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

আরডেম পটাপাউটিয়ান ১৯৬৭ সালে লেবাননের বৈরুতে জন্মগ্রহণ করেন। কিশোর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যান। তিনি ১৯৯৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি কোর্স এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা, স্ক্রিপস রিসার্চে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন, যেখানে তিনি বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি ২০১৪ সাল থেকে হাওয়ার্ড হিউজেস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের একজন অনুসন্ধানকারী হিসেবেও কাজ করছেন।

0
1
fb-share-icon1


© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!