বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

থানার পাশে পুলিশের বাড়িতেই জঙ্গি আস্তানা

image_pdfimage_print

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার অদূরে উকিলপাড়ায় নিভৃতে গড়ে ওঠে জঙ্গি আস্তানাটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বৃহত্তর সিরাজগঞ্জ-পাবনা অঞ্চলে সামরিক প্রশিক্ষণ ও নাশকতার পরিকল্পনায় পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে শেরখালীর উকিলপাড়ায় দুই সপ্তাহ আগে গড়ে ওঠে এই জঙ্গি আস্তানা। এটি নিয়ে দু’দিন থেকে শাহজাদপুর তথা সারাদেশেই নানা গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার এর সন্ধান পেয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে চার জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। বিপুল সংখ্যক জিহাদি বই, বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ দুটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়।

শাহজাদপুর থানার মাত্র এক কিমি. দূরত্বে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জঙ্গি আস্তানার পাশে সদ্য প্রয়াত আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক দুলাল ও তার স্ব্বজনদের বাড়ি। ব্যাংক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর নির্মাণাধীন একাধিক বাড়িঘরও রয়েছে সেখানে। ঢাকার কদমতলীতে কর্মরত কৈজুরী ইউনিয়নের মৃত জনাব আলীর ছেলে পুলিশ সদস্য নুরু ইসলামের পাকা একতলা বাড়িতেই ছিল জঙ্গি আস্তানাটি। পাশে তার ভায়রা প্রকৌশলী শামসুল হকের আরেকটি একতলা টিনশেড বাড়ি রয়েছে। আরেক ভায়রা ওষুধ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন গত ৫ নভেম্বর ওই চারজনকে ভাড়া দেন বাড়িটি। ছাত্র ছদ্মবেশে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ভাড়াটিয়াদের সঠিক নাম-ঠিকানা বা পরিচয় যাচাই করা হয়নি। থানা পুলিশেও ভাড়াটেদের তথ্য জমা দেওয়া হয়নি। থানার অদূরে হলেও গত দুই সপ্তাহ থেকে গোয়েন্দা তৎপরতার বাইরেও ছিল বাড়িটি।

শনিবার সরেজমিন গেলে বাড়ির সামনে র‌্যাব সদস্যদের প্রহরা দেখা যায়। এলাকাবাসী জানায়, জঙ্গিরা নুরু পুলিশের বাড়িতে থাকত। অন্যদিকে, ওষুধ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ৫ নভেম্বর চার সুদর্শন যুবক বাড়ি ভাড়া নেয়। জাতীয় পরিচয়পত্র জমা না দিলেও দু’জন অভিভাবক নিয়ে এসে ছাত্র পরিচয়ে ভাড়া নেয় তারা। তাদের দেখে প্রাথমিকভাবে জঙ্গি মনে হয়নি। পরে র‌্যাবের অভিযানে তাদের আটকের খবর জেনে আমরাই হতবাক হয়েছি। এদিকে, সাবেক আইন সচিবের ভাই সামিউল হক লাইজু বলেন, একবারে পৌরসভার মধ্যে নুরু পুলিশের বাড়িতে জঙ্গি যুবকরা থাকত। থানার অদূরে, তারপরও এতদিন পুলিশ বা আমরা কেউ টের পাইনি।

শুক্রবার র‌্যাবের অভিযানে আটককৃতরা হলো জেএমবি সংগঠনের শীর্ষ সক্রিয় সদস্য পাবনার সাথিয়া উপজেলার দাড়ামুধা গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে শামীম হোসেন ওরফে কিরণ, একই এলাকার আবু তালেবের ছেলে নাইমুল ইসলাম, দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার শশরাসাহাপাড়া গ্রামের মানিক হোসেনের ছেলে আতিউর রহমান আতিক ও সাতক্ষীরার তালা থানার দক্ষিণ নলতা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলাম শান্ত।

শান্ত দক্ষিণ নলতা গ্রামে দীর্ঘদিন মায়ের সঙ্গে বাস করত। কিন্তু প্রেম করে একই গ্রামে বিয়ে করার পর থেকে সে তার নানা মরহুম হানিফ আলী গাজীর বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কয়েক বছর আগে শান্ত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। সে তালা বি. দে. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, তালা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। পরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে অনার্স পাস করে।

অভিযান শেষে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার সাংবাদিকদের জানান, শামীম হোসেন কিরণ রাজশাহী জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাহমুদের সেকেন্ড ইন কমান্ড এবং পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের আঞ্চলিক নেতা। তারা জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে জেএমবি কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে সংগঠন পরিচালনায় চাঁদা সংগ্রহ করত বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। পরিচয় গোপন করে তাবলিগ জামাতের ছদ্মবেশে প্রচার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করত তারা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী শাহ মখদুম এলাকা থেকে জেএমবি উত্তরাঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার মাহমুদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যমতে শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে শাহজাদপুরের ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টার অভিযান শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই চার জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে।

মাদ্রাসায় ভর্তির কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল আতিক: দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, বাবা পেশায় শ্যালো মেশিনের মিস্ত্রি। মা গৃহিণী। বাড়িতে আছে ছোট একটি বোন। গত ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের কথা না শুনেই ১৩০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় আতিক। বাড়িতে জানিয়েছিল, সে রাজশাহীর একটি বড় মাদ্রাসায় ভর্তি হবে। পরে অবশ্য মোবাইল ফোনে মাকে জানায়, রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। পরে জানা যায়, আতিক দু’দিন আগে শাহজাদপুরের জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে একজন।

আটক চারজনের বিরুদ্ধে তিন মামলা, কারাগারে প্রেরণ: আটক চার জেএমবি সদস্যকে নাশকতা, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও বিস্ম্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারাসহ তিনটি পৃথক মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। র‌্যাব-১২-এর অপরাধ দমন বিশেষ ইউনিটের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আনোয়ারুল ইসলাম গতকাল শাহজাদপুর থানায় মামলাগুলো করেন। সন্ধ্যার পর আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!