মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

দলীয় কোন্দল, ছুরিকাঘাতে আহত যুবলীগ কর্মীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

image_pdfimage_print
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ছুরিকাঘাত ও হামলায় আহত  ঈশ্বরদীর যুবলীগ কর্মী আরিফুল ইসলাম আলম ওরফে ‘গুলি আলম’ (৩৩) মারা গেছেন। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোববার (২১ আগস্ট) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদার ও আলমের বাবা সৈয়দ আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলম ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারের হাতের আঙুল কেটে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।

আলমের বাড়ি শহরের মধ্য অরণকোলা আলহাজ ক্যাম্পে। বাবা সৈয়দ আলী পেশায় গাড়িচালক।

আলমের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দ্বন্দ্বের জের ধরে আলমকে খুন করার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

আলমের বাবা সৈয়দ আলী জানান, ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় আলমকে চা খাওয়ার কথা বলে এক বন্ধু বাড়ি থেকে আলহাজ মোড়ে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে একটি দোকানে বসে চা খাওয়ার সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাত-আটজন যুবক আলমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা হাতুড়ি, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাতে থাকে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়।

সৈয়দ আলী আরও বলেন, ‘আলমের দুটি পায়ের অবস্থা এতই গুরুতর ছিল যে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা দেহের নিচের অংশ থেকে কেটে ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা হয়ে সন্তানের দুটি পা কেটে ফেলার সেই সিদ্ধান্ত আমি মেনে নিতে পারেনি। তাই ওর পা কাটা হয়নি। এ অবস্থায় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল পা থেকে। মনে হয় পচনও ধরেছিল। অবশেষে গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার পরে খবর পেলাম আমার ছেলে আর নেই।’

আলমের মা আহাজারি করে বলেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে তাঁর ছেলেকে খুন হতে হলো।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, তিনি শুনেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি (বহিষ্কৃত) জুবায়ের বিশ্বাসের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বের দ্বন্দ্বের জের ধরে আলমের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে পুরো ঘটনাটি এখনো তাঁর অজানা। তিনি ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের সহযোগী ছিলেন।

ওসি আব্দুল হাই তালুকদার জানান, মৃত্যুর ঘটনায় গত রোববার রাতে আলমের স্ত্রী রুপা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী সাতজনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আলহাজ ক্যাম্পপাড়ার রনি হোসেন, অমিত, আব্দুল্লাহ, বাপ্পি ও পাপ্পু, সজীব হোসেনসহ সাত যুবলীগ কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাত-আট বছর আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের আলমের পায়ে গুলি লাগে। সেই থেকে আলম ঈশ্বরদীতে ‘গুলি আলম’ বলে পরিচিত ছিলো।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!