বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ভূমিমন্ত্রীর হাতে

অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল কাদের

image_pdfimage_print

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতির অভিয়োগ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগ ভূমিমন্ত্রীর হাতেও জমা দেওয়া হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি, শিক্ষক নিয়োগে সীমাহীন বাণিজ্য, স্কেল পরিবর্তন ও পদোন্নতি দিতে শিক্ষকদের কাছ থেকে কৌশল করে অর্থ আদায়, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি প্রদান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ, দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় মেধাবী শিক্ষকদের নানা অজুহাতে কলেজ থেকে চাকুরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।

এ সব অভিযোগ এনেছেন কলেজের ৪০ জন শিক্ষক।

অভিযোগে জানা গেছে, মঙ্গলবার কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির সভাপতিত্বে কলেজ গভর্ণিংবডি ও শিক্ষকদের মাঝে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই মতবিনিময় সভায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ লিখিতাকারে তুলে ধরা হয়।

এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল কাদের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় লিখিত অভিযোগ পাঠ করে শোনান কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মুশফিকুর রহমান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম।

প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষর করা ওই অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল কাদের জাতীয় শোক দিবস, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবল্টু’ বলে সম্বোধন করে থাকেন।

অধ্যক্ষের এই ঘৃণিত কাজের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা প্রতিবাদও করেছেন। অথচ অজ্ঞাত কারণেই জাতির পিতাকে নিয়ে কটুক্তিকারী ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

কেউ অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে কথা বললে বা প্রতিবাদ জানালেই তার উপর চাকুরি হারানোর হুলিয়া জারি হয়ে যায়।

জানা যায়, চাকুরি স্থায়ীকরণের কথা বলে ইংরেজী সাহিত্যের শিক্ষক রফিকুল ইসলামের নিকট থেকে ৮ লক্ষ ৫ হাজার এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক লাবণী দাসের নিকট থেকে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই অধ্যক্ষ।

অথচ তাদের চাকুরি স্থায়ী হবে না বলে শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে।

তারপরেও তাদের অর্থ ফেরত দিতে অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের টালবাহনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্কেল পরিবর্তন ও পদোন্নতির সময়ে অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল কাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করে থাকেন বলে শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে জুনিয়রকে সিনিয়র এবং সিনিয়রকে জুনিয়র বানিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ভূয়া রশিদ বানিয়ে আত্মসাৎ করে আসছেন।

অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা এবং দূর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে রোষানলের শিকার হয়ে চাকুরিচ্যুত হয়েছেন কলেজের গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষক মোঃ আজমল হোসেন ও ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক মোছাঃ কোহিনুর ফেরদৌস।

অপর একজন ইংরেজী বিষয়ের মেধাবী শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলামকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতিকে উপক্ষো করে পাঁচ বছর বরখাস্ত করে রেখেছেন অধ্যক্ষ।

মঙ্গলবারের মতবিনিময় সভা শেষে কলেজ গভর্ণিংবডির সভাপতি, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে গভর্ণিংবডির অন্যতম সদস্য সাইদুল ইসলাম মান্না সরদারকে। এই কমিটিকে আগামি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!