শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা

image_pdfimage_print

প্রধান বিচারপতি এবং বিচারাধীন বিষয়ে বিরূপ মন্তব্যের জন্য খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে ৫০ হাজার করে জরিমানা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। তাদেরকে সাতদিনের মধ্যে জরিমানার টাকা ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশনকে দিতে হবে।

জরিমানা অনাদায়ে সাতদিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে দুই মন্ত্রীকে।

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা দুই মন্ত্রীর আবেদন নামঞ্জুর করে সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন, মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেছেন তারা।

রোববার (২৭ মার্চ) সকালে শুনানি শেষে এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাদের মন্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা ও শো’কজ নোটিশের জবাব দিতে সুপ্রিম কোর্টে  ফের হাজির হন দুই মন্ত্রী।

তারা দু’জনই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। এর মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) নতুন করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছিলেন। আর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর আগের আবেদনটিই উপস্থাপন করা হয়।

কামরুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আবদুল বাসেত মজুমদার। মোজাম্মেল হকের ক্ষমা চেয়ে করা আবেদনটি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

আদালতের নির্দেশে দুই মন্ত্রীর করা মন্তব্য পড়ে শোনান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এরপর সকাল দশটা দশ মিনিট পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ে ফের বসে চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ।

পরে আবদুল বাসেত মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন নামঞ্জুর করে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে সাতদিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) আবেদন করবেন কি-না, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবো।

এ দণ্ডাদেশের কারণে তাদের মন্ত্রিত্ব থাকবে কি-না সে বিষয়েও জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, সংবিধান ও আইন দেখে পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করবো।

গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বাদ দিয়ে মীর কাসেম আলীর আপিল মামলার আপিল শুনানি পুনরায় করার দাবি জানান খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

এ বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের পর গত ৮ মার্চ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে তলব করেন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিশ জারি করেন। সরকারের এ দুই মন্ত্রীকে ১৫ মার্চ সকাল ৯টায় সর্বোচ্চ আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। অন্যদিকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয় ১৪ মার্চের মধ্যে। নোটিশে কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না- তা দুই মন্ত্রীর কাছে জানতে চান আপিল বিভাগ।

এ পরিস্থিতিতে দুই মন্ত্রীর পক্ষে গত ১৪ মার্চ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় নোটিশের জবাব দাখিল করা হয়। এছাড়া আদালতের তলবাদেশের প্রেক্ষিতে গত ১৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক হাজিরা দেন। তবে, বিদেশে থাকায় সেদিন হাজিরা দিতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ২০ মার্চ ফের দুই মন্ত্রীকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ।

পরে ২০ মার্চ সকালে হাজির হন দুই মন্ত্রী। ওইদিন আপিল বিভাগ খাদ্যমন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন এবং ২৭ মার্চ দুই মন্ত্রীকে ফের হাজির হতে নির্দেশ দেন। এ কারণে গত বৃহস্পতিবার নতুন করে আবারো নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানান খাদ্যমন্ত্রী।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!