বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

দুদকের হাতে আটক সার্ভেয়ার আল আমিনের পাবনায় কোটি টাকার সম্পদ!

image_pdfimage_print

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : দিনাজপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ারে আল আমিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে এখন আটক।

এ খবর ছড়িয়ে পরার পর তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের চরআন্ধারমানিক গ্রামের বাড়িতে পাওনাদারদের ভীড় পড়ে গেছে।

মোটা অংকের টাকা নিয়ে যাদের চাকরি দিতে চেযেছিল আল আমিন সেই সব চাকুরি প্রত্যাশিরা এখন ভীড় করছে তার বাড়িতে। টাকা না পাওয়ার আশংক্ষায় পড়েছেন বহু মানুষ।

জানা গেছে, আল আমিন শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের জলিল মোল্লার ছেলে। জলিল মোল্লার ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছে। আল আমিন ভাইদের মধ্যে সবার ছোট।

আল আমিন দিনাজপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হিসাবে কাজ করলেও নিজেকে সে এলাকায় দিনাজপুর এল,জি,ই,ডি ’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।

গত ৫ নভেম্বর ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় আল আমিন দিনাজপুর জেলা পরিষদ অফিসে দুদকের হাত ধরা পড়ার পর তার নিজ এলাকা শাহজাদপুরে এনিয়ে সোরগোল পরে যায় ।

অভিযোগ রয়েছে শাহজাদপুর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাকরির দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আল আমিন ।

দুদকের হাতে আটক দিনাজপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আল আমিন চাকরি পাওয়ার পর ৭-৮ বছরের মধ্যে হাতিয়ে নেয় লাখলাখ টাকা । আর এ টাকা দিয়ে পাবনা শহর ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি সহ প্রচুর জায়গা কিনেছে ।

সাত আট বছরেই আল আমিন জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হয়ে সে এখন শুন্যে থেকে কোটিপতি ।

জানা গেছে দিনাজপুরে জেলা পরিষদে চাকরি পাওয়ার পর তার ভাগ্যের চাকা খুলে যায় । স্থানীয়দের অভিযোগ দিনাজপুর জেলা পরিষদে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার অনেক বেকার ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে আল আমিন প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের সোনতোষা গ্রামের খবির উদ্দিন প্রামানিকের মেয়ে শাপলা খাতুনের স্বামী আব্দুল হালিম জানান, তার স্ত্রীকে দিনাজপুর জেলা পরিষদে ষাটলিপি করণিকের চাকুরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেন ওই সার্ভেয়ার।

একই উপজেলার একই ইউনিয়নের বড় ধুনাইল গ্রামের আলাউদ্দিনকে দিনাজপুর জেলা পরিষদে হিসাব রক্ষন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেয়া হয়।

এছাড়া তার গ্রামের পাশেই পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের আব্দুল্লাহকে দিনাজপুরে সমাজসেবা অফিসারে চাকরি দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকেও ৫লাখ টাকা নেয়া হয় ।

পাবনার বেড়া উপজেলার বৃ শালিকা গ্রামের আমানত ও বনগ্রামের নূর হোসেনকে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা নেন ওই সার্ভেয়ার আল আমিন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আল আমিন দিনাজপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার পদে চাকরি করলেও এলাকায় সে নিজেকে এল,জি,ই,ডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে দিনাজপুরে কর্মরত আছেন বলে এলাকায় তা প্রচার করেন।

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আল আমিন পাবনার বিাভন্ন জনের কাছ থেকে লাখলাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আর এ টাকা দিয়ে সে শাহজাদপুরের গ্রামের বাড়িতে বিশাল ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলে।

টিনের চাপড়া ঘর ভেঙে সেখানে দুইটি পাকা টিনসেড পাকা ঘর তোলেন ওই ঘুষখোড় আর আমিন। দুদকের হাতে গত মঙ্গলবার সে ধরা পরার পর তার খামার থেকে গরু ও বাড়ি থেকে মূল্যবান আসবাব পত্র সড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

আলাউদ্দিন, আব্দুল্লাহ, আমানত, হালিম, নূর হোসেন, শাপলা, আয়ুব, রতনসহ অসংখ্য চাকরি প্রত্যশিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সে পাবনা, বেড়া ও তার নিজ গ্রাম শাহজাদপুরের আন্ধারমানিকেও ফসলি জমি সহ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললেও চাকরি প্রত্যাশিদের কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত দেওয়ার নামটি তিনি করছেননা।

এদিকে দুদকের হাতে আল আমিন আটক হলে তার জারিজুরি ফাঁস হয়ে যায়। টাকা ফেরত না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন চাকরি প্রত্যাশিরা । স্থানীয়রা জানান, বাবা জলিল প্রামানিক কামলা বিক্রি করে ছেলে আল আমিনকে লেখাপড়া শেখান। সেই ছেলে অন্যায় পথে টাকা রোজগার করতে গিয়ে এখন জেল হাজতে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!