শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

দুধ বিক্রি হচ্ছে পানির দরে!

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন পাবনা-সিরাজগঞ্জের খামারিরা। এরই মধ্যে আবার দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহের পরিমাণ ও দাম কমিয়ে দেওয়ায় লোকসানের মুখে কোনো কোনো খামারি গরু বিক্রি করেছেন।

তবে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা বন্যাকবলিত এলাকার খামারিদের। বন্যায় তাঁরা গরুগুলোকে রক্ষা করেছেন, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় গোখাদ্য কিনতে পারছেন না। গরুর দুধ বেচে যে গোখাদ্য কিনবেন, তারও উপায় নেই।

কারণ, ঠিকমতো দুধ বিক্রিই হচ্ছে না, হলেও তা বিক্রি হচ্ছে পানির দরে।

পাবনার বেড়ার দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘বন্যায় বাড়িঘর, গরুর গোয়াল সব ভেঙেচুরে একাকার। এ অবস্থায় গুরুগুলো নিয়্যা পড়ছি মহা বিপদে।

২২০ টাকা মণের খ্যারের (খর) দাম হইছে ৩৩০ টাকা, ৮০০ টাকা দরের এক বস্তা (৩৭ কেজি) ভুসির দাম হইছে ১ হাজার ১২০ টাকা। অথচ এক মাস আগেও ৩৭ টাকা লিটার দরে যে দুধ বেচছি, তার দাম এখন ৩১-৩২ টাকা। তাই ঠিক করিছি সব গরু বেচে দেব।’

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের প্রধান গরুর দুধ উৎপাদনকারী এলাকা।

এ অঞ্চলের লক্ষাধিক খামারে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ লিটার দুধ উপাদিত হয়। উৎপাদিত দুধ মিল্ক ভিটা, আড়ং দুধ (ব্র্যাক), প্রাণ, ফার্মফ্রেশ, অ্যামোমিল্ক, আফতাব, রংপুর ডেইরিসহ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করে।

কয়েকজন খামারি বলেন, মাসখানেক হলো প্রতিষ্ঠানগুলো দুধের সংগ্রহমূল্য এক থেকে দুই টাকা কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ করছে আগের চেয়ে কম। বাধ্য হয়ে খামারিরা বাজারে ২০ থেকে ২৫ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করছেন। ফলে খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মিল্ক ভিটার আওতাভুক্ত বেড়ার হাটুরিয়া মোল্লাপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি মোমিন মোল্লা বলেন, ‘২১ জন খামারি নিয়ে আমার সমিতি। আমাদের সমিতি থেকে মিল্ক ভিটা এখন দুধ নেয় না বল্লেই চলে। বাধ্য হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে বা খোলাবাজারে কম দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। এমন অবস্থা চল্লে সব খামারিই গরু বেচে দেবে।’

মিল্ক ভিটার শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি প্রামাণিকপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক কেসমত আলী বলেন, ‘মিল্ক ভিটা দুধের সংগ্রহমূল্য লিটারে দুই টাকা কমাইছে। এর ওপর তারা মাসখানেক হলো দুধের সংগ্রহও কমায়ে দিছে।’

মিল্ক ভিটার বাঘাবাড়ি কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমরা দুধের দাম কমাইনি। স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাটসম্পন্ন দুধের দাম আগে ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা ছিল, এখনো তা-ই আছে।

বন্যায় দুধের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংগ্রহ কমেছে। আমাদের সমিতির সদস্যদের সব দুধই নিচ্ছি, বাইরের কোনো কোনো খামারি দুধ বিক্রি করতে না পেরে এখানে আসছে। সেই দুধ না নেওয়াতেই এসব কথা উঠছে।’

প্রাণ ডেইরির পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শরীফউদ্দিন তরফদার বলেন, ‘আমরা স্ট্যান্ডার্ড মানের দুধের সংগ্রহমূল্য লিটারে এক টাকা কমিয়েছি। কিন্তু সংগ্রহের পরিমাণ খুব একটা কমাইনি।’

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!