দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা পাবনার কৃতি সন্তান অ্যাড. আব্দুল হান্নান শেলী

নিজস্ব প্রতিনিধি : ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ভালোবাসেন। মানুষ ভালোবাসেন। হয়েছেন জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা। তিনি হলেন পাবনার কৃতিসন্তান অ্যাড. আব্দুল হান্নান শেলী।

পাবনা পৌর শহরের রাধানগর স্কুল পাড়ার এই বাসিন্দা আইন পেশার সাথে জড়িত থাকলেও অভিনয়কে ভালোবেসেছেন মনে প্রাণে।

তিনি পাবনার অন্যতম নাট্যচর্চা কেন্দ্র অনুশীলন ৮০’এর প্রতিষ্ঠাতা। পাবনা বনমালী শিল্পকলা একাডেমির কার্যকরী পরিষদের একজন সদস্য।

সদা হাসি মাখা মুখের এই মানুষটি বনমালী শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত বিভিন্ন মঞ্চ নাটকেও অভিনয় করেছেন।

তাঁর অভিনিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র- কীর্তনখোলা, জীবন ও তরী, মহাসংগ্রাম। অভিনয় করেছেন বিজ্ঞাপণে, এক হাজারেরও বেশী নাটকে অভিনয় করেছেন।

আব্দুল হান্নান শেলী অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক- তিন গ্যাদা/ ইমোশনাল ইমন/ প্রজাপতি প্রেম/ চাঁদের চাঁদা/ অফিসার/ উদ্দীপন/ পাগলা জামাই/ গিট্রু সেলিম/ খালাতো/ বউ/ আয়নামতি/ গুপ্তধন/ বউ হরন/ বোবার বিয়ে।

ছোটবেলা থেকেই তার অভিনয়ের প্রতি একটা অন্যরকম ঝোক ছিল। যার ফলে এগিয়ে যান অভিনয় জগতে।

স্কুলের গন্ডি পেড়িয়ে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে তার পড়ালেখা। সেখানেও মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন।

কলেজের গন্ডি পেড়িয়ে চলে যান রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে এবং সেখানে তিনি আইন বিষয়ে পড়ালেখা শুরু করেন।

সেখানেও তিনি বিভিন্ন মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৬৭ সালে তাঁর প্রথম নাটক ছিল ‘সাগর সেচা মানিক’ যেটি রচনা করেছিলেন কল্যান মিত্র।

সেরা নাট্যভিনেতা হিসেবে হান্নান শেলী ২০১৩ সালে RTV Star Award লাভ করেন। এ ছাড়াও পাবনার কৃতি সন্তান ও গুণী অভিনয় শিল্পীর হওয়ার কারনে বিভিন্ন সম্মাননা পুরস্কার ও সংবর্ধনা পেয়েছেন।

এই গুনি অভিনেতার জন্ম ২৫ ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে পাবনা জেলার রাধানগর মহল্লার ইছামতী স্কুল পাড়ায়। তার বাবার নাম আবু তাহের আনসারি ও মায়ের নাম হোসনেয়ারা বেগম শেফালী।

হান্নান শেলী পেশায় একজন এ্যাডভোকেট হওয়া সত্ত্বেও জনপ্রিয় অভিনেতা হয়ে ওঠেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ভালো তবলা বাদকও বটে।

মঞ্চের জন্য পাবনা ছেড়ে ১৯৯৫ সালে ঢাকায় পাড়ি জমান। এর পর নানা ধরনের চড়াই-উৎরাই,পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন আজকের জনপ্রিয় ‘আব্দুল হান্নান শেলী’।

১৯৭২ সালে থিয়েটার এবং ১৯৯৫ সালে সালে টিভি নাটক দিয়ে তার পথ চলা শুরু।