শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

দৈন্যদশায় চলনবিল জাদুঘর

image_pdfimage_print

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম : ২৯ বছরেও চলনবিল জাদুঘরের দৈন্যদশা কাটেনি। অযত্ন অবহেলায় জাদুঘরটি শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি দুর্লভ প্রত্নতত্ব সম্পদগুলো অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই।

এদিকে বছরখানেক আগে বেশকিছু মূল্যবান সম্পদ রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর জাদুঘরটি প্রকৃতপক্ষে সাইনবোর্ডসর্বস্ব হয়ে পড়ে। এতে দর্শনার্থীরা হতাশ হচ্ছেন।

১৯৭৮ সালে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের খুবজীপুরগ্রামে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

চলনবিলের ইতিকথা বইয়ের লেখক অধ্যাপক এমএ হামিদ ব্যক্তি-উদ্যোগে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন।

তার জন্মও এ গ্রামে। তিনিই প্রথমে ব্যক্তি-উদ্যোগে উপমহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণ করেন জাদুঘরটিতে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। এ জন্য তিনি একটি ভবনসহ আট শতাংশ জমি জাদুঘরের জন্য রেজিস্ট্রি করে দেন।

চলনবিল জাদুঘরে প্রবেশপথেই রয়েছে চলনবিলের কৃতী সন্তান প্রখ্যাত ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকারের পোড়ামাটির মূর্তি। এ

ছাড়া দুর্লভ নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে তুলট কাগজ, গাছের ছালে লেখা প্রাচীন-মধ্যযুগের পুঁথির পান্ডুলিপি, বিভিন্ন সময়ের স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা।

আছে সুলতান নাসির উদ্দিনের নিজ হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরীফ, বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর, পোড়ামাটির ভাস্কর্য, রাজাদের ব্যবহার করা তরবারিসহ যুদ্ধাস্ত্র, রানি ভবানীর স্মৃতিচিহ্ন, মনসামঙ্গলের বেদিঘট, বগুড়ার কবি মরহুম রুস্তম আলী ব্যাপারীর দলিল-দস্তাবেজ ইত্যাদি।

২০০১ সালে জাদুঘরটি প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের অধীনে চলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাদুঘরটি প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের অধীনে চলে যাওয়ার পর অযত্ন আর অবহেলা যেন বাড়তে থাকে।

মূল্যবান সম্পদগুলো সংরক্ষণে আধুনিক সুবিধাসংবলিত কোনো আলমারি পর্যন্ত নেই। জাদুঘরের বেশিরভাগ সংরক্ষিত সম্পদের ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি।

মূল ভবনটি পুরনো হওয়ায় স্যাঁতসেঁতে থাকে সব সময়। কালেভদ্রে জাদুঘরটি খোলা হয়। বছরখানেক আগে বেশকিছু মূল্যবান প্রত্ন সম্পদ রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর সেগুলো আর ফিরিয়ে আনা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এতে এখন অনেকটাই সাইনবোর্ডসর্বস্ব হয়ে পড়েছে চলনবিল জাদুঘর।

এ কারণে জাদুঘরটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন আগত দর্শনার্থীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, জরাজীর্ণ ভবনটির বাইরের অংশে ঝকঝকে রং করা। তবে ভেতরে দুটি কক্ষে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে বিরাজ করছে।

এতে দুর্লভ নিদর্শনগুলো অগোছালোভাবে ঘরের খোলা জায়গায় ফেলে রাখায় এর ওপর ধুলো জমছে।

আকতার হোসেন নামের এক কর্মচারী জাদুঘরটি দেখভাল করলেও তার পক্ষে দুর্লভ সংগ্রহগুলো রক্ষা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে খুবজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ও স্থানীয় মেধাবিকাশ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, জাদুঘরটি আধুনিকভাবে যাত্রা শুরু করলে দর্শনার্থী বাড়বে। সরকার পাবে রাজস্ব।

প্রত্নতত্ব বিভাগের বগুড়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, জাদুঘরটি আধুনিকায়নে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে নিয়েছে।

এর মধ্যে জাদুঘরটির উদ্যোক্তা এমএ হামিদকে স্মরণীয় করে রাখতে তার ছবিসহ পৃথক একটি গ্যালারি থাকবে।

তিনি আর জানান, ভবন নির্মাণের পর ফিরিয়ে আনা হবে রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য নিয়ে যাওয়া সব প্রত্ন  সম্পদ।

 

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!