শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:০০ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ধুঁকে ধুঁকে চলছে পাবনার ৪ সিনেমা হল

চলছে পাবনার ৪ সিনেমা হল

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : এক সময় মানুষের বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দুই ছিল সিনেমা হল। ঈদ, নববর্ষ বা কোনো বিশেষ দিবস উপলে সিনেমা হলে নতুন ছবি এলে অথবা মানুষের হৃদয় জয়করা কোনো ভালো ছবি মুক্তি পেলেই টিকিট বিক্রি হতো কালোবাজারে।

অনেক সময় টিকিটের জন্য মারামারি-খুনাখুনির ঘটনাও ঘটেছে।

ওই সিনেমা হলগুলো এখন দর্শকবিমুখ হয়ে পড়েছে। টিকিট কেনা নিয়ে মারামারি তো দূরের কথা, এখন টিকিট কাটতে লাইনেও দাঁড়াতে হয় না। ফাঁকা পড়ে থাকে হলের টিকিট কাউন্টার।

পাবনা জেলার ৯ উপজেলায় ২৬টি সিনেমা হলের মধ্যে বর্তমানে নিভু নিভু অবস্থায় চলছে ৪টি সিনেমা হল। এর মধ্যে পাবনা সদরে বীণা সিনেমা, রূপকথা সিনেমা, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মৌচাক সিনেমা ও চাটমোহর উপজেলায় লাভলী সিনেমা হল চালু রয়েছে। বাকি ২২টি সিনেমা হলই বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পাবনা জেলার সবচেয়ে পুরনো সিনেমা হল ছিল শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে ‘অরড়া টকি’। এটি বর্তমানে বাণী সিনেমা হল নামে পরিচিত।

একই মালিকের বাণী সিনেমার গা ঘেঁষে গড়ে তোলা বীণা সিনেমা হলটি। বর্তমানে দর্শক স্বল্পতার কারণে বাণী সিনেমা হলটি বন্ধ রয়েছে।

তবে ঈদের সময় এবং মাঝে মধ্যে এই সিনেমা হলে ২-১টি চলচ্চিত্র চালানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া এক সময়ের সাড়া জাগানো পাবনার অনন্ত সিনেমা হলটি এখন গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই মালিকের রূপকথা সিনেমা হল টিকে আছে কোনো রকমে।

সিনেমা হল মলিকরা জানান, বর্তমানে সিনেমা হলের ব্যবসায় একেবারেই মন্দা। সিনেমা হলের দর্শক শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীর বেতন, সিনেমা ক্রয়সহ বিভিন্ন খরচ হিসাব করে লোকসান গুনতে হয়। তাই বাধ্য হয়েই তাদের ওই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হয়েছে। অনেকে সিনেমা হলের ভবনটিতে গোডাউন বা অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে দেখে গেছে, জেলার বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাবনা শহরের বাণী সিনেমা, অনন্ত সিনেমা, সদর উপজেলার টেবুনিয়ায় আনন্দ সিনেমা, সুজানগর উপজেলার নন্দিতা সিনেমা, ঈশ্বরদী উপজেলার প্লাজা সিনেমা, রাজু সিনেমা, স্বপ্না সিনেমা, চাটমোহর উপজেলার অর্পণ সিনেমা, দেওয়ানা সিনেমা, বেড়া উপজেলার ইছামতি সিনেমা, মন্দিরা সিনেমা, মুভি সিনেমা, সাঁথিয়া উপজেলার অলঙ্কার সিনেমা, শাপলা সিনেমা, ভাঙ্গুড়া উপজেলার রংধনু সিনেমা, পাইলট সিনেমা, ফরিদপুর উপজেলার বলাকা সিনেমা, মধুমিতা সিনেমা ও আটঘরিয়া উপজেলার একমাত্র উপহার সিনেমা হল।

পাবনা সদর উপজেলার আনন্দ সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারী মো. মানিক জানান, সিনেমা হলের ব্যবসা তাদের কাছে ভালো লাগছিল না। তাই তারা এই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন হলটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন।

পাবনা শহরের নাট্যকর্মী ভাস্কর চক্রবর্ত্তী বলেন, বর্তমানে চলচ্চিত্রে ভালো গল্প বা কাহিনি নেই। এ ছাড়া মানুষের হৃদয় জয় করার মতো অভিতেনা-অভিনেত্রীর অভাব।

তিনি বলেন, ‘ভাত দে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘অবুঝ মন’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘নয়নমণি’এমন কালজয়ী ছবি আগে সিনেমা হলে প্রদর্শিত হতো। এসব ছবি মানুষ ৩ ঘণ্টা ধরে দেখত।

বর্তমানে মানুষের ৩ ঘণ্টা ধরে ছবি দেখার মানসিকতা নেই। এখন সব শ্রেণির মানুষের দেখার মতো ছবিও খুবই কম। ফলে মানুষ সিনেমা হলবিমুখ হয়ে পড়েছে। শুধু তা-ই নয়, এখন বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যম চালু রয়েছে মানুষের হাতে হাতে।

সিনেমা হলে দর্শককে ফেরাতে হলে রুচিসম্মত, জ্ঞানভিত্তিক, সামাজিক কাহিনি নিয়ে ছবি তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া সিনেমা হলের পরিবেশ সুন্দর করতে হবে। তাহলে আবার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে হলে গিয়ে সিনেমা উপভোগ করবেন বলে পাবনার সচেতন মহল মনে করে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!