শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৭:৪২ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

নওগাঁয় প্রথমবারের মতো দেয়াল পত্রিকা উৎসব

নওগাঁয় প্রথমবারের মতো দেয়াল পত্রিকা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দিনব্যাপী শহরের পুরাতন কালেক্টরেট চত্বর (মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ) স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ এর আয়োজন করেন।

দেয়াল পত্রিকা। এক ধরনের হাতে লেখা পত্রিকা। যেখানে গল্প, কবিতা ও চিত্রাঙ্কনসহ অন্যান্য রচনা প্রকাশ করা হতো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অন্যদের সঙ্গে নিজের লেখাটি জানান দিতে এটি করে থাকতো। এছাড়া গল্পকার ও সাহিত্যকরাও নিজেদের লেখা দেয়াল পত্রিকায় প্রকাশ করতেন। এটি দেয়ালিকা নামেও পরিচিত। সময়ের বিবর্তনে সেটি আজ বিদায়ের পথে। তাই বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টির পরিচয় করাতে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ।

সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুর বারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের উপদেষ্টা সাবেক অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান, কবি সাহিত্যিক আতাউল হক সিদ্দীকি, বিন আলী পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক এমএম রাসেল, আবৃতি পরিষদ নওগাঁর সভাপতি ডা. ময়নুল হক দুলদুল, শিক্ষার্থীসহ অনেকেই।

জানা যায়, এক সময় হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকার বেশ প্রচলন ছিল। ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল এ দেয়াল পত্রিকা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাদের কথা জানান দিতে হাতে লিখে দেয়াল পত্রিকায় প্রকাশ করতেন। যেখানে সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা বের হতো। তবে পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা বেশি প্রকাশ করা হতো। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভা প্রকাশের জন্য নিজেদের চারপাশের পরিবেশ ও মনোজগতের বিষয়ে বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর সুযোগ পায়।

বর্তমান সময়ে আধুনিক ডিজাইনের প্রকাশনা, টেলিভিশন, তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, স্মার্ট ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার হওয়ায় দেয়াল পত্রিকা এখন বিলুপ্তির পথে। হারিয়ে যাওয়া দেয়াল পত্রিকা বিষয়ে নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে এবং ছোটদের শুপ্ত মেধাকে জাগ্রত করতে আগস্ট মাস থেকে কাজ করছে একুশে পরিষদ। উৎসবে জেলার ২৫টি স্কুলের ১১০টি পত্রিকা প্রদর্শিত হয়।

নওগাঁর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আগে কখনো দেয়াল পত্রিকার বিষয়টি জানতো না। কয়েকজন বন্ধু মিলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবির প্রতিকৃতিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য নিয়ে দেয়াল পত্রিকায় এঁকেছের। শিক্ষকরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন তাদের।

একুশে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এমএম রাসেল বলেন, দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মনোভাব, আঁকাআঁকি ও লেখালেখির অভ্যাস বৃদ্ধি পাবে। এতে করে তাদের লেখার আগ্রহ ও জ্ঞানের পরিধি বাড়বে। আগামীতে তারা আরো এগিয়ে যাবে।

দেয়াল পত্রিকা উৎসবে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুর বারী বলেন, উৎসবে শিক্ষার্থীরা হারিয়ে যাওয়া নতুন করে দেয়াল পত্রিকা সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তারা কাজ করতে গিয়ে নতুন বিষয়ে ধারণা পেয়েছে। এতে করে তাদের সৃজনশীল মনোভাব, আঁকাআঁকি ও লেখালেখির অভ্যাসে পরিণত হবে। এ থেকে তাদের লেখার আগ্রহ ও জ্ঞানের পরিধি বাড়বে।

 

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!