বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

নজরদারির অভাবে পাবনায় লাগামহীনভাবে বাড়ছে চালের দাম

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : ঈশ্বরদী’র জয়নগর মোকামে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে চালের দাম। চালের বাজার অস্থির হওয়াতে খুচরা ক্রেতাদের মাঝে বেড়ে গেছে অস্থিরতা।

রাজধানী ঢাকার বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ঈশ্বরদীর চাল মোকামেও। চালের বাজার অস্থির হচ্ছে ক্রমশই। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।

লাগামহিনভাবে দাম বাড়লেও এখন পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাবনায় চালের দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি (৮৪ কেজি) ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

গত মঙ্গলবার যে চাল ৩৮০০ টাকায় বেচা-কেনা হয়েছে তা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ৪৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈশ্বরদীর বাইরের চাল ব্যবসায়িরা এই মোকামে চালের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকায় চাল কিনতে আসছেনা বলে মোকাম সূত্রে জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের শক্ত নজরদারির অভাবেই চালের বাজারে অস্থিতীশিলতা দেখা দিয়েছে।

গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈশ্বরদীর জয়নগর মোকামে সপ্তাহান্তে চালের দাম উর্দ্ধমুখি।

বর্তমানে ঈশ্বরদীর এই মোকামে মিনিকেট চাল প্রতি বস্তা (৮৪ কেজি) চার হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে মিনিকেট চালের দাম ছিল ৩৪০০ থেকে ৩৪’শ ৫০ টাকা।

মোটা চাল বিআর-২৮ এক সপ্তাহ আগে ৩৩৫০ টাকা বর্তমানে ৪০৫০ টাকা, বিআর-২৯ এক সপ্তাহ আগে ৩১’শ টাকা বর্তমানে ৩৮০০ টাকা, বাঁশমতি এক সপ্তাহ আগে ৪৪’শ টাকা বর্তমানে প্রতিবাস্তা ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়াও অন্যান্য চালের দামও বেড়েছে বস্তা প্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়িরা জানান, তারা বিভিন্ন হাট বাজার ও মোকামে কৃষকদের নিকট থেকে ধান কিনে এনে এখানে চাল তৈরি করেন।

ঈশ্বরদীতে চাল উৎপাদনের এ রকম ৬০০ ধানের চাতাল রয়েছে। এসব চাতালে ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করছে।

এখান থেকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ ২০টি জেলায় নিয়মিত চাল পাঠানো হয়।

এসব জেলার ব্যাপারি ও মহাজনেরা এসেও এখান থেকে পাইকারি দামে চাল কেনেন।

ব্যবসায়িরা জানান, উত্তরবঙ্গে মোটা চালের বৃহৎ মোকাম ঈশ্বরদী’র জয়নগরে বর্তমানে চালের বাজার উর্দ্ধমুখি। এদিকে মোকামে চালের দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে প্রকার ভেদে চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১১ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত।

ঈশ্বরদী জয়নগরের ভ্যান চালক খালেক প্রামানিক বলেন, আমরা দিন আনি, দিন খাই। প্রতিদিন এভাবে চালের দাম বৃদ্ধি হলেও আমাদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছেনা। চালের দাম বাড়ার কারণে ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে। সরকার ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াতে চাইলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে ৬০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রি হচ্ছে।

জয়নগরের চাল ব্যবসায়ি আলমগির হোসেন বাদশা বলেন, বর্তমানে মোকামে ধানের দাম তুলনামুলক অনেক বেশি।

এখানকার ব্যবসায়িরা উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন ধানের মোকাম থেকে বেশি দামে ধান কিনছেন।

মোকামে ১৩৫০ টাকা দরে ৩৭.৫০ কেজি (বাংলা এক মন) ধান কিনতে হচ্ছে।

বাজারে এলসির চাল থাকার পরেও চালের দাম হু হু করে বেড়েই চলেছে। কারণ ভারত এলসির চালের দামও অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চালের দাম বাড়তি থাকার কারণে ঈশ্বরদীর বাইরের ব্যাপারিদের জয়নগর মোকামে কম দেখা যাচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ি সমিতির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মজিবর রহমান মোল্লা জানান, বর্তমান মওসুমে ধানের ফলন কম এবং কিছু কিছু এলাকায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অটো মিল মালিকেরা চড়া দামে ধান কেনার কারণে মোকামে ধানের প্রচুর চাহিদা থাকায় দাম বেড়ে গেছে।

অটো মিলের কারণে ঈশ্বরদী উপজেলার ৮০ ভাগ হাসকিন মিলের চাতাল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, চালের দাম বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে বর্তমানে এলসির চাল কম দামে কিনে এনে আমদানিকারকেরা সেই চালের মূল্যও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এক দিকে মোকামে ধান নেই, অপর দিকে এলসির চালের মূল্য বৃদ্ধি হওয়াতে বাজার ক্রমান্বয়ে অস্থির হচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা চাউল ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম জানান, হাওর-বিল তলিয়ে যাওয়ার কারণে বেশ কিছু ধানের মোকামে ধান নেই এবং ধানের ফলন তুলনামূলক অনেক কম হয়েছে।

কৃষক ধান বিক্রি করে দেয়ায় আমাদের দেশের কৃষকদের গোলায় এখন আর ধান নেই। কৃষকের ধান এখন মজুতকারিদের গোডাউনে চলে গেছে।

অটো মিল মালিকেরা সেই ধান চড়া দামে মোকাম থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্রয় করার কারণে সাধারণ হাসকিং মিলের ব্যবসায়িরা ধান পাচ্ছেন না।

মোকামে ধানের প্রচুর চাহিদা থাকায় দাম বেড়ে গেছে। যার ফলে চালের দাম উচ্চহারে প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশের স্বল্প আয়ের মানুষদের চালের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে জড়িত উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দ্রূত এলসির ভ্যাট প্রত্যাহার করে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

নইলে বর্তমান চালের বাজার কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!