নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির নামেও মামলা!

নিহত ইমদাদুল হোসেন ইন্দা

নিহত ইমদাদুল হোসেন ইন্দা

জাহাঙ্গীর আলম (চাটমোহর) পাবনা : সদ্য সমাপ্ত ৩য় দফা ইউপি নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ত্রিমুখী সংঘর্ষের সময় বিজিবি’র গুলিতে নিহত ইমদাদুল হোসেন ইন্দা কে (৩২) এজাহার ভুক্ত আসামী করা হয়েছে।

এই মামলায় সর্বমোট ৭০০/৮০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ও ৫ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক মামলাটি দায়ের করেন মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চাটমোহর মো: আলমগীর হোসেন।

নিহত ইমদাদুল হোসেন ইন্দা ওই এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে ও পেশায় একজন তালা-চাবি মেরামতকারি। মামলার এজাহারে নিহত ইন্দাকে উচ্ছৃঙ্খল ও হামলাকারীদের একজন ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এনিয়ে গোটা চাটমোহর উপজেলায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া আর সমালোচনা ঝড় বইছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, নিহত ইন্দা একজন দরিদ্র মানুষ তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা কোনো প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন না। ছিলেন একজন ভোটার। ভোট গণনার পর ফলাফল ঘোষণার সময় সৃষ্ট ঝামেলার উৎসুক দর্শক হিসেবে দেখতে গিয়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

সংঘর্ষের এ ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭০০/৮০০ জনের নামে মামলা করেছেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার উপ-সহকারি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন।

যে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে এর মধ্যে ৫ নাম্বার অভিযুক্ত হিসেবে এমদাদ হোসেন ইন্দার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নামে মামলা হওয়ায় অত্র এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

৫ জন আসামির অপর চারজন আসামী হলেন- বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুল খালেক বাগমারের ছেলে আতিকুর রহমান (৩০), মৃত আলমাছ বাগমারের ছেলে ইব্রাহিম খলিল বাগমার (৩৮), মৃত আফাজ উদ্দিন বাগমারের ছেলে মোশারফ হোসেন ওরফে মছলু (৩০) ও দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামের রফিজ উদ্দিন বাগমার ওরফে বাঘার ছেলে সোহেল বাগমার ওরফে সোলেম (২৭)।

মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে নিহত এমদাদ হোসেন ইন্দা অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে হৈ চৈ, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ সরকারী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে বাধা দিয়েছে, তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেছে এবং নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করেছে।

নির্বাচনে নিয়োজিত অফিসারদের জীবননাশসহ নির্বাচনী মালামাল লুট করার চেষ্টা করে। মামলার এজাহারের শেষে অবশ্য, হামলাকারীদের একজন ইন্দা মারা গেছে উল্লেখ করে তার নাম বাদ দিয়েই মামলা রুজু করার আবেদন করেন বাদি আলমগীর হোসেন। কিন্তু তা সত্বেও নিহত ব্যক্তির নামেও মামলা রুজু হওয়ায় অনেকেই হতভাগ হয়েছেন!