News Pabna
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ মে ২০২২

নিয়ম ভেঙে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে রাতেও চলে স্পিডবোট!

News Pabna
মে ২৬, ২০২২ ১১:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

আরিফ খান, বেড়া-সাঁথিয়া, পাবনা: পাবনার বেড়া উপজেলার কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে সন্ধার পরও চলে স্পিডবোট অথচ স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি রয়েছে দিনের আলোতে। কিন্তু সন্ধ্যার পরে বা কখনও কখনও একটু বেশি রাতেও ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটগুলো চলাচল করছে।

চলাচলকারী স্পিডবোটগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী যেমন নেওয়া হচ্ছে তেমনি তাঁদেরকে লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হচ্ছে না। রাতে পার করে দেবার অযুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়াও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাজীরহাট স্পিডবোট মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, দুই পারের (আরিচা ও কাজীরহাট) লোকজনের মালিকানায় দেড় শতাধিক স্পিডবোট রয়েছে। এর মধ্যে কাজীরহাট এলাকার লোকজনের মালিকানায় রয়েছে ৭১টি স্পিডবোট। তবে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে দুই পারের মিলিয়ে প্রতিদিন মোট ২০টি স্পিডবোট চলচল করছে।

এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুম হওয়া সত্বেও বিআইডব্লিউটিএ দিনের আলোতে অর্থাৎ সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই যমুনা নদী ফুলে-ফেঁপে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এর ওপর সৃষ্টি হয়েছে তীব্র স্রোত। এ অবস্থায় বিকালে প্রায়ই ঝড়-বৃষ্টি হয় বলে বিকাল ৫টার পর স্পিডবোটের মতো নৌযানগুলোর চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

তার ওপর সন্ধ্যার পরেও স্পিডবোট চালানো হচ্ছে বলে বুধবার বিকেলে (২৫ মে) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে। ঘাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, যাত্রী পাওয়া গেলে বেশি ভাড়া নিয়ে অনেক সময় রাত ৮টার পরেও স্পিডবোট চলাচল করে।

স্পিডবোট ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, রাত ৭টার দিকে যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট ছেড়ে যাচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদকসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে স্পিডবোট কর্তৃপক্ষের লোকজনকে স্পিডবোটে আর কোনো যাত্রী তুলতে দেখা যায়নি। এমনকি সাংবাদিকের উপস্থিতির কারণে আরিচার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীদেরকে লাইফজ্যাকেট সরবরাহও করতেও দেখা গেছে।

এদিকে ১৮ ও ১২ আসনের দুই ধরনের স্পিডবোট চলাচলের জন্য রয়েছে। অথচ এগুলোতে প্রায়ই দুই-তিনজন যাত্রী বেশি তোলা হয়। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী তোলার ব্যাপারে যাত্রীরা আপত্তি করলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া প্রত্যেক যাত্রীকে লাইফজ্যাকেট দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তাঁদের তা দেওয়া হয় না। অনেক যাত্রী চেয়েও লাইফজ্যাকেট পান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে ঘাটের একাধিক দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রী থাকলে সন্ধ্যার বেশ পরে এমনকি রাত ৮টার দিকেও স্পিডবোট ছেড়ে যায়। তবে তিনটি ফেরির দুইটি ফেরি নষ্ট হবার পরই রাতে বেশি স্পিডবোট চলছে।

পাবনার মাধপুরের বাসিন্দা ফয়সাল আহম্মেদ ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবী রাত ৭টার দিকে স্পিডবোটের আরিচা যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, চার থেকে পাঁচদিন আগে তিনি রাত ৭টার দিকে আরিচা থেকে কাজীরহাট এসেছিলেন। আজ আবার ঢাকায় যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

তবে কাজীরহাট ঘাটের স্পিডবোট মালিক সমিটির তত্ত্বাবধায়ক হায়দার আলী দাবি করেন, তাঁদের শেষ স্পিডবোটটি কাজিরহাট থেকে মাগরিবের আজানের আগেই ছেড়ে যায়। এর পর কোনোভাবেই আর কোনো স্পিডবোট চলে না।

তবে আরিচা থেকে মাগরিবের আজানের আগে ছেড়ে যে স্পিডবোটটি কাজীরহাটে আসে সেটি যাত্রী নামিয়ে দিয়ে খালি অবস্থায় আবার আরিচায় ফিরে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, সরকার নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে একজন যাত্রীও অতিরিক্ত বহন করা হয় না। আর প্রত্যেকটি বোটে পর্যাপ্ত লাইফজ্যাকেট আছে। যাত্রীদের তা পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও কেউ নিতে চায় না।

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) খালেদ মোশারফ বলেন, ‘দিনের আলোতে স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি আছে। এই সময়ের বাইরে কেউ স্পিডবোট চালালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা নৌপুলিশকে জানিয়েছি।’

এ ব্যাপারে নগরবাড়ী নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যার পর স্পিডবোট চলাচলের ব্যাপারে আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। আমি বুধবার ঘাটে গিয়ে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভাতেও আলোচনা হয়েছে। এর পরেও যদি তারা নিষেধ উপেক্ষা করে রাতে স্পিডবোট চালায় বা অতিরিক্ত যাত্রী নেয় তবে স্পিডবোট আটকসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে।’