শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

কুমিল্লায় পবিত্র কোরান অবমাননা সংক্রান্ত খবরটির প্রতি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সকলকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

নৌকায় ভাসমান মসজিদ

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রবণ এলাকা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের মুসল্লিদের জন্য নৌকায় ভাসমান মসজিদ বানানো হয়েছে। ৫৫ ফুট লম্বা এবং ১২ ফুট দৈর্ঘের নৌকায় মসজিদটি বানানো হয়। এই মসজিদে প্রায় ৮০ জন মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদটির ভেতরে আছে মিনি অজুখানা, টয়লেট, সোলার লাইট, সাউন্ড সিস্টেম, কোরআন শরীফসহ বুক শেলফ ইত্যাদি। এছাড়া ভাসমান মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য থাকছে একটা ছোট নৌকা।

নৌকায় ভাসমান মসজিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করায় অনেকে লাইক ও কমেন্স করছেন। শামসুল হক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে নৌকায় মসজিদ করায় ধন্যবাদও জানিয়েছেন অনেকে।

মঙ্গলবার (০৫ অক্টোবর) জোহরের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে ভাসমান মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। উপকুলের বানভাসি মানুষের জন্য প্রতাপনগরে হাওলাদার বাড়ি ভাঙন পয়েন্টে ভাসমান মসজিদের উদ্বোধন করেন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন।

আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি স্থাপন করা হয়েছে। মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে ‘আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন মসজিদে নুহ (আঃ)।’

হাওলাদার বাড়ি বায়তুন নাজাত জামে মসজিদের ঈমাম ও খতিব হাফেজ মঈনুর রহমান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমফান ও ইয়াসের সময় খোলপেটুয়া নদীর বন্যতলা এলাকার বাঁধ ভেঙে যায়। নদীভাঙন ধীরে ধীরে লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে। গত ১০ আগস্ট থেকে নদীর পানি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। রাস্তাটিও ধসে যায়। এরপর থেকে মসজিদে নামাজ আদায় ও আজান দেওয়ার জন্য সাঁতরে যেতে হতো। মুসল্লিদের কথা চিন্তা করে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন নৌকার ওপর বিশেষভাবে নির্মিত একটি ভাসমান মসজিদ উপহার হিসেবে দিয়েছেন।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মৌলভী ইবাদুল সানা বলেন, দুই মাস ধরে আমরা নামাজ আদায় করতে পারছি না এই মসজিদে। ভাসমান মসজিদটি পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। এখন জামাতে নামাজ আদায় করব। যারা এটি করে দিয়েছেন, তাদের জন্য আমরা দোয়া করব।

আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাসিরউদ্দীন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি, মসজিদের ইমাম সাঁতরে গিয়ে মসজিদে আজান দিচ্ছেন। বিষয়টি দেখে আমরা মর্মাহত হয়েছি।

তিনি বলেন, এখানকার মানুষের নামাজের প্রতি আগ্রহ দেখে নৌকার ওপর বিশেষভাবে অস্থায়ী একটি ভাসমান মসজিদ তৈরি করে দিয়েছি। এখন থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। আগের মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি এই মসজিদের দায়িত্ব পালন করবে।

0
1
fb-share-icon1


© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!