বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৪ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনাবাসীর জন্য আশীর্বাদ ‘মুজিব বাঁধ’

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : বৃহত্তর পাবনা জেলাকে বন্যা থেকে রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতিহারে তিনি পাবনায় বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দেন।

১৯৭২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে মাটি কেটে ১৫৭.৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন।

পরে এলাকাবাসী বাঁধটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। পরবর্তীতে বাঁধের নামকরণ হয় ‘মুজিব বাঁধ’।

বাঁধটি নির্মাণের পর পাবনার মানুষের জন্য তা আশীর্বাদে পরিণত হয়।

ঐতিহাসিক এ মুজিব বাঁধ পাবনা জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণে রক্ষাকবচে পরিণত হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের পর থেকে পদ্মা ও যমুনা নদী বেষ্টিত পাবনা বন্যামুক্ত থাকে।

একইসঙ্গে যাতায়াতের জন্য তৈরি হয়েছে প্রশস্ত সড়ক। বন্যা না হওয়ায় এলাকার এক ফসলি জমি থেকে এখন পাওয়া যায় তিন ফসল।

জানা যায়, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি হেলিকপ্টারযোগে পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী এলাকার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে এক সংক্ষিপ্ত জনসভায় উপস্থিত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধুর পাবনায় আসার খবরে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে জড়ো হতে থাকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত নগরবাড়ী এলাকায়।

বঙ্গবন্ধুকে এক নজর দেখতে আসা মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় নগরবাড়ীসহ এর আশপাশের এলাকা।

জনসভা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সেই ঐতিহাসিক সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধু মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় নির্যাতনের শিকার নারীদের বীরাঙ্গনা খেতাবে ভূষিত করেন।

মুজিব বাঁধ স্মৃতি ফলক সেদিনের সেই জনসভা পরিচালনাকারী তৎকালীন পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি (বর্তমান বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান) আব্দুল কাদের জানান, জাতির পিতার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের হাজারো প্রমাণের একটি মুজিব বাঁধ। সেদিনের সমাবেশ শেষে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে মাটি কেটে শুরু করেন ১৫৭.৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের নির্মাণ কাজ।

পরবর্তীতে এলাকার হাজারো মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্মাণ কাজ শেষ করেন। এলাকাবাসী নিজেরাই এই বাঁধের নামকরণ করে ‘মুজিব বাঁধ’।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য ঐতিহাসিক বাঁধটি নির্মাণের ৪৮ বছরেও এখানে কোনও স্মৃতিফলক ছিল না।

জনসাধারণের দাবির মুখে দীর্ঘদিন পর মহান নেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়।

পাবনা জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, এক সময় পদ্মা ও যমুনা নদী বেষ্টিত পাবনা জেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যার সময় প্লাবিত হতো।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বাঁধটি নির্মিত হওয়ায় জেলার মানুষ যেমন রক্ষা পেয়েছে, তেমনি কৃষি ক্ষেত্রে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

অন্যদিকে নদী ভাঙনে সহায়সম্বলহীন মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে মুজিব বাঁধ। মুজিব বাঁধ নির্মাণের ফলে আশপাশের এলাকার এক ফসলি জমি রূপান্তরিত হয়েছে তিন ফসলি জমিতে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকার কৃষক পরিবারগুলো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উঠেছে। কৃষি সমৃদ্ধ জেলা হয়ে উঠেছে পাবনা।

প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হচ্ছে মৌসুমি সবজি, ফল, ধান, পাট, আঁখ, চিনাবাদাম, আলু, পটল, রসুনসহ অন্যান্য অর্থকরী ফসল।

দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের এক তৃতীয়াংশ সরবরাহ হয় পাবনা থেকে।
পদ্মা, যমুনা, হুরাসাগর ও বড়াল নদীর বন্যা থেকে রক্ষা করতে নির্মিত এই বাঁধ পাবনার ৯টি উপজেলা, নাটোরের দুটি এবং সিরাজগঞ্জের একটি উপজেলার আংশিক এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত।

১৫৭.৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহাসিক মুজিব বাঁধ জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণে পাবনার মানুষের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!