শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনার আলোচিত নিত্যরঞ্জন হত্যার জট খুলতে ধোয়াশায় পুলিশ

পাবনার আলোচিত নিত্যরঞ্জন হত্যার জট খুলতে ধোয়াশায় পুলিশ

image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিনিধি : গত ২০১৬ সালের ১০ জুন পাবনার হেমায়েতপুরে মানসিক হাসপাতালের গেটের কাছে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের এক কোপে নিহত হন শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ সেবাশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে (৬২)।

পাবনার আলোচিত এই হত্যাকান্ডের আজ ১ বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু গত এক বছরে নিত্যরঞ্জন পান্ডে হত্যার কোন কুল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এই হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে এখনও ধোয়াশায় রয়েছে পাবনার পুলিশ প্রশাসন।

নিত্যরঞ্জন পান্ডে হত্যার ঘটনায় ওই দিন রাত ১১টার দিকে ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক যুগোল কিশোর ঘোষ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে পরদিন এক শিবির নেতাকে আটক করে পাবনা সদর থানা পুলিশ।

পরে সেই শিবির নেতাকে ৫ দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়। ঘটনার ৪-৫ দিন পরে আরো দু’জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তাদের নিকট থেকে তেমন কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পাবনা থানা পুলিশ।

এদিকে সেই সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল হাসান। ঘটনা তদন্তের মাঝামাঝি সময়ে বগুড়া গাবতলী মডেল থানায় বদলী হয়ে যান ওসি আব্দুল্লাহ আল হাসান এবং এবছরের ২৯ মার্চ সরকারি বাসভবনের শয়ন কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

সেই সময়ে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আলমগীর কবির। কিন্তু ঘটনার কিছু দিনের মাথায় অন্যত্র বদলী হয়ে যান পুলিশ সুপার আলমগীর কবির।

সেই দিন, নিত্য রঞ্জন পান্ডের হত্যার ধরণ দেখে পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিকিল্পত হত্যার মতো দুর্বৃত্তরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মূলত দেশকে অস্থিতিশীল ও মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ হত্যার তদন্ত করছি।’

অবশ্য র‌্যাব দাবি করেছিল ঘটনাটি ঘটিয়েছে ‘নব্য জেএমবি’।

তবে গত ১ বছরে পাবনার আলোচিত এই হত্যাকান্ডের উল্লেখ করার মত কোন অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর পাবনার হেমায়েতপুর এলাকার সাধারণ মানুষ পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা তখন দাবি করেন যে, অভিযোগপত্রে নিরীহ মানুষদের আসামি করা হচ্ছে। এই মর্মে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করেন।

সাধারণ মানুষ দাবি করেন টাকার বিনিময়ে আশ্রমের আর্থিক অনিয়ম ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি উপেক্ষা করে নিরীহ মানুষদের ফাঁসিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত বছর নাটোরে মুদি দোকানি সুনীল গোমেজ, ঝিনাইদহে পুরোহিত আনন্দ গোপাল, চট্টগ্রামে এসপির স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই পাবনায় একই কায়দায় খুন হন শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে (৬২)।

প্রতিদিনের মতো ওই দিন ভোরে আশ্রম থেকে হাঁটতে বের হয়েছিলেন নিত্যরঞ্জন। কিছু দূর যাওয়ার পরই পাবনা মানসিক হাসপাতালের মূল গেটের রাস্তায় দুর্বৃত্তরা ঘাড়ে-মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে রেখে চলে যায়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বেছে বেছে হত্যার (টার্গেট কিলিং) ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেশজুড়ে জঙ্গি দমনে সাত দিনের ‘সাঁড়াশি অভিযান’ শুরুর দিন সকালেই খুন হন নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে।

নিত্যরঞ্জন প্রায় ৪০ বছর ধরে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সত্সঙ্গ আশ্রমের সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!