শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনার ঈদবাজারে ভেজাল প্রসাধনী!

পাবনার ঈদবাজারে ভেজাল প্রসাধনী!

image_pdfimage_print
পাবনার ঈদবাজারে ভেজাল প্রসাধনী!

পাবনার ঈদবাজারে ভেজাল প্রসাধনী!

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘রং ফরসা করে, দেয় উজ্জ্বল লাবণ্য; মাত্র সাত দিনে করে অপরূপ’। বাসে, ট্রেনে, রিকশায় চলার পথে হরহামেশাই চোখে পড়ে বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রসাধনীর এমন সব চটকদার বিজ্ঞাপন। যা বিক্রি হয় শহরতলি ও গ্রামের মুদি দোকানে।

ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে প্রসাধনীর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই প্রচারণা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। অন্যদিকে চলে রমরমা ব্যবসা। ঈদুল আজহার আগে পাবনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগঞ্জ ঘুরে চোখে পড়েছে এ ধরনের প্রসাধনীর বিশাল বাজার। ঈদ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে চলছে প্রসাধনী কেনাকাটা।

পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এম এস নেওয়াজ বলেন, নিম্নমানের ক্রিম ও প্রসাধনী ব্যবহারে চুলকানি হতে পারে। নিম্নমানের ক্রিম শরীরের চামড়া পাতলা, রক্তনালি সংকুচিত ও চামড়া স্থায়ীভাবে কালো করতে পারে। রোদে জ্বালাপোড়া এমনকি চুলকানি থেকে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। তাই প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার মান যাচাই করে নেওয়া উচিত।

জেলা শহরের স্বপ্নিল বিউটি পারলারের স্বত্বাধিকারী বিউটিশিয়ান সেলিনা খোন্দকার বলেন, অধিকাংশ নারী ও পুরুষ মুখমণ্ডলের ফরসা ভাবকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে তাঁরা ফরসা হওয়ার জন্য বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে নিম্নমানের ক্রিমসহ বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করেন। এটা মোটেও ঠিক নয়। এতে চামড়ায় স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়। ইদানীং এমন ক্ষতির সম্মুখীন বহু মানুষের দেখা মিলছে। ফলে চামড়ায় ফরসা ভাব তৈরি করার চেয়ে তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাটা জরুরি।

পাবনা নিউমার্কেটের তিনজন প্রসাধনী বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারে ক্রিম, ফেসওয়াশ, শ্যাম্পু, পারফিউম, লিপস্টিক, নেইলপলিশ, আইব্রো, মাশকারা, মেহেদি, ফেস পাউডারসহ প্রায় সব রকমের প্রসাধনীই ভেজাল ও নকল হচ্ছে। কিছু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন নামে নিম্নমানের এসব পণ্য তৈরি ও চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তা বাজারজাত করছে। অন্যদিকে নামীদামি প্রতিষ্ঠানের মোড়ক নকল করে এসব প্রসাধনী তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে ভেজাল ও নিম্নমানের প্রসাধনীর বাজার জমজমাট হয়ে ওঠে। শহরতলি ও গ্রামের মুদি দোকানে এ ধরনের প্রসাধনী বেশি বিক্রি হয়। দাম অপেক্ষাকৃত কম থাকায় গ্রামের মানুষ এসব পণ্য বেশি কিনে থাকেন।

বিভিন্ন সময় গ্রামে ঘুরে মেলে এর সত্যতা। হাটের ফুটপাত থেকে গ্রামের মুদি দোকান—সবখানেই দেখা যায় বাহারি নামের বহু প্রসাধনী। ১০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই মেলে এসব পণ্য।

আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গ্রামের ক্রেতারা একটু কম দামে ভালো পণ্য খোঁজেন। ফলে আমরাও বাধ্য হয়ে এসব পণ্য দোকানে রাখি। তবে যাঁরা চেনেন, তাঁরা আসলটাই নেন।’

জেলা সদরের দ্বীপচর গ্রামের মোমেনা খাতুন বলেন, ‘আমরা তো নকলটকল বুঝিনে। গিরামের দুকানথেনই তো কিনি সব সুময়। সব ভালোই মনে হয়।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই আমরা অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও নকল প্রসাধনী জব্দের পর ধ্বংস করেছি। এ ছাড়া এসব প্রসাধনীর ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে।’

র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কমান্ডার বিনা রানী দাস বলেন, ‘নকল ও ভেজাল প্রসাধনী বাজারজাত বন্ধে আমরাও অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

গত ৪ আগস্ট পাবনার আরিফপুর এলাকায় এমন একটি কারখানা থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার নকল ও ভেজাল প্রসাধনী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!