সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১২:০৬ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনার কৃতি সন্তান বিশ্বখ্যাত মূকাভিনয় শিল্পী পার্থ প্রতিম মজুমদার

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ২১শে পদক নিচ্ছেন পার্থপ্রতীম মজুমদার।

বার্তাকক্ষ : মূকাভিনয় শিল্পী পার্থ প্রতিম মজুমদার ১৯৫৪ সালের ১৮ জানুয়ারি পাবনা জেলার কালাচাঁদপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মূকাভিনয় বা মাইম শিল্পী হিসেবে বিশ্বে তার স্থান দ্বিতীয়৷

সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফ্রান্স সরকারের শেভালিয়র উপাধি পেয়েছেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে তিনিই এ পদক পেলেন।

পার্থ প্রতিম মজুমদারের মূল নাম প্রেমাংশু কুমার বিশ্বাস। তার বাবার নাম হিমাংশু কুমার বিশ্বাস ও মা সুশ্রিকা বিশ্বাস৷ কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের বাবা পাবনার জমিদার ও প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গসঙ্গীতশিল্পী ওস্তাদ বারীণ মজুমদার ছিলেন তার দুঃসম্পর্কের আত্মীয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বারীণ মজুমদারের মেয়ে হারিয়ে যায়। তখন মেয়ে-হারানো বারীণ মজুমদারের অনুরোধে পার্থ ঢাকায় আসেন। তখন থেকেই তিনি পার্থ প্রতিম মজুমদার নামে পরিচিত।

Image result for পার্থ প্রতিম মজুমদারপার্থের পড়াশোনা শুরু বাড়ি থেকে খানিক দূরে জুবিলী স্কুলে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষের পর বড় ভাইয়েরা তাকে কাকা শুধাংশু কুমার বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে কলকাতা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে চন্দননগরে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে ড. শীতল প্রসাদ ঘোষ আদর্শ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিচয় হয় মূকাভিনয় শিল্পী যোগেশ দত্তের সঙ্গে।

পার্থ ১৯৬৬-১৯৭২ সাল পর্যন্ত কলকাতার যোগেশ দত্ত মাইম একাডেমিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন৷ ১৯৭২ সালে ভারতের চন্দননগর থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন৷ ১৯৭৬ সালে ঢাকা মিউজিক কলেজ থেকে স্নাতক হন৷Image result for পার্থ প্রতিম মজুমদার

১৯৮১ ও ১৯৮২ সালে মডার্ন কর্পোরাল মাইমের উপর ‘ইকোল দ্য মাইম’ এ শিক্ষা গ্রহণ করেন৷ এরপর ১৯৮২-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিখ্যাত মূকাভিনয় শিল্পী মারসেল মার্সোর কাছে ‘ইকোল ইন্টারন্যাশনালি দ্য মাইমোড্রামা দ্য প্যারিস’ এ মাইমের উপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন৷

পার্থ প্রতিম মজুমদার পৃথিবীর অনেক দেশে মূকাভিনয় প্রদর্শন করেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো মূকাভিনয় প্রদর্শন করেন৷ পরে ১৯৭৫-১৯৮১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪৮ বার মাইম প্রদর্শন করেন৷

এ ছাড়া ঢাকার ড্রামাটিক আর্টস স্কুলে মাইমের শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন থিয়েটার গ্রুপের ছেলেমেয়েদের নিয়ে কর্মশালা পরিচালনা করেন৷

১৯৮২-১৯৮৫ সালে তিনি প্যারিসের বিভিন্ন থিয়েটারে ২৬টি শো করেন। এ ছাড়া লন্ডনে ২টি, গ্রিসে ২টি ও স্পেনে ২টি শো করেন। ১৯৮৪ সালের জুলাই মাসে মারসেল মার্সোর সঙ্গে আমেরিকা যান এবং সেখানে মার্সোর নির্দেশনায় ‘ইকোল ইন্টারন্যাশনাল দ্য মাইমোড্রামা দ্য প্যারিস-মারসেল মার্সো’ নামে একটি শো করেন৷

১৯৮৫ সালের জুলাইয়ে মারসেল মার্সোর কোম্পানি ও ‘থিয়েটার দ্য লা স্পেহয়ার’ এর সঙ্গে যৌথভাবে ইতালিতে মাসব্যাপী ‘লে কারগো দ্য ক্রেপুসকুল’ ও ‘আবিম’ নামে দুটি মাইমোড্রামা প্রদর্শন করেন৷

১৯৮৬ সালে মারসেল মার্সোর তত্ত্বাবধানে পার্থ প্রতিম মজুমদার মাইমের তত্ত্ব বিষয়ক গবেষণা কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন৷ এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাইম প্রদর্শন করেন। তার মূকাভিনয় নিয়ে কিছু ভিডিও নির্মিত হয়েছে। পার্থ বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।
বর্তমানে তিনি ফ্রান্সে বসবাস করছেন।

পার্থ প্রতিম মজুমদার অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। উল্লেখযোগ্য হলো- কলকাতা যোগেশ মাইম একাডেমি থেকে ‘মাস্টার অব মাইম’ উপাধি (১৯৮৭), একক মূকাভিনেতা হিসেবে এথেন্স, নিউইয়র্ক, ডেনমার্ক, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ (১৯৮৮)-

লন্ডনে অনুষ্ঠিত বেঙ্গলি লেটারেচার ফেস্টিভালে একমাত্র বাঙালী অতিথি শিল্পী (১৯৮৯), বার্দোতে ও ননত শহরের মেয়র কর্তৃক মেডেল প্রাপ্তি (১৯৯১), নিউইয়র্কের ফোবানা সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা (২০০০), ফ্রান্সের জাতীয় থিয়েটারের মোলিয়ার এ্যাওয়ার্ড (২০০৯), একুশে পদক (২০১০) ও ফ্রান্স সরকারের শেভালিয়র (নাইট) উপাধি (২০১১)।

সূত্র : উইকিপিডিয়া।

দেখুন ভিডিও

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!