পাবনার কৃতীসন্তান অভিনেত্রী শাহনাজ খুশির আজ জন্মদিন

বার্তাকক্ষ : বাংলা নাট্যজগতের সাড়াজাগানো অভিনেত্রী ও পাবনার কৃতীসন্তান শাহনাজ ফেরদৌস খুশির আজ জন্মদিন।

অভিনেত্রী শাহনাজ ফেরদৌস খুশি আজকের এই দিনে (১৫ নভেম্বর) পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার পুরাতন বাজারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা খন্দকার সহিদুর রহমান ও মাতা জাহানারা রহমান। সাত বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে খুশি অষ্টম।

পাবনার মাটি ও মানুষের সাথে যাঁদের রয়েছে সুগভীর সম্পর্ক, শাহনাজ খুশি তাঁদেরই একজন। পাবনার যে কোনো অনুষ্ঠানে শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি হাজির হন। পাবনার আঞ্চলিক ভাষাকে জাতীয়ভাবে পরিচিত করতেও রয়েছে তাঁর যথেষ্ট অবদান।

ঢাকাস্থ পাবনা সমিতির প্রতিটি বার্ষিক মিটিংয়ে শাহনাজ খুশি, বৃন্দাবন দাস, চঞ্চল চৌধুরী ও সংগীতশিল্পী পূজন দাস উপস্থিত থাকেন।

শাহনাজ ফেরদৌস খুশি চাটমোহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রখ্যাত নাট্যরচয়িতা বৃন্দাবন দাসের সঙ্গে বৈবাহিকসূত্রে আবদ্ধ হওয়ার সুবাদে ঢাকা আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে পরিচয় ও পরবর্তীতে সদস্যপদ লাভ করেন তিনি।

বিশিষ্ট নাট্যকার মামুনুর রশীদের লেখা ও নির্দেশনায় জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের প্রযোজনায় পাবলিক নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে খুশির মঞ্চ অভিনয় শুরু।

আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজিত মামুনুর রশীদের রচনা ও পরিচালনায় “জয়জয়ন্তী” নাটকে অভিনয় করে প্রশংসীত হন। ঘটনাক্রমে আরণ্যক নাট্যদল ছেড়ে আরও কয়েকজন সহশিল্পীর সঙ্গে “প্রাচ্যনাট” গঠন করেন।

প্রাচ্যনাট্যের প্রথম প্রযোজিত “কাঁদতে মানা”সহ ‘দুই বলদের গল্প’, ‘অরণ্য সংবাদ’, ‘দড়ির খেলা’, ‘ সার্কাস সার্কাস’ নাটকে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেন তিনি।

এছাড়া রেপার্টরি দল বাঙলা থিয়েটারের প্রযোজনায় “লেবেদেবে”তে অভিনয় এবং সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটারের বিখ্যাত প্রযোজনা “বুনোহাস”-এ উপমহাদেশের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব এমকে রায়নার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন খুশি।

বৃন্দাবন দাসের রচনা ও সালাউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক “ঘর কুটুম” নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে খুশির টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু।

এই নাটকে গহর চরিত্রে অভিনয় করে খুশি খুব দ্রুত দর্শকের মনে স্থান করে নেন। এরপর থেকে ‘ওয়ারেন’, ‘হাড় কিপটে’, ‘পত্র মিতালী’, ‘সার্ভিস হোল্ডার’, ‘ঘর কুটুম’, ‘পাত্রী চাই’, ‘তিন গেদা’, ‘আলতা সুন্দরী’, ‘সাকিন সারিসুরি’, ‘মেহের শেখ’, ‘কতা দিল্যেম তো’, ‘ফিরে পাওয়া ঠিকানা’, ‘ডায়রী’, ‘কাসু দালাল’, ‘ঢোলের বাদ্যি’, ‘রূপসী টেইলার্স’, ‘ঝগড়ালী’ সহ বহু একক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে সুখ্যাতি অর্জন করেন খুশি।

অভিনয়ে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস), বিনোদন বিচিত্রা, ঢালিউড (নিউইয়র্ক), প্রতিবিম্ব (অস্ট্রেলিয়া) সহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন।

স্বামী প্রখ্যাত নাট্যকার-বৃন্দাবন দাস এবং দুই সন্তান- দিব্য জ্যোতি ও সৌম্য জ্যোতিকে নিয়ে খুশি ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

(সংক্ষিপ্ত, বিস্তারিত : বহুমাত্রিক প্রতিভার মেলবন্ধনে পাবনা, দ্বিতীয় সংস্করণ, সম্পাদক : মো. মহিউদ্দিন ভূঁইয়া)