পাবনার মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল আর নেই

মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল আর নেই

মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল আর নেই

বার্তা কক্ষ: পাবনার নারী মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল বুধবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় ঢাকার হৃদরোগ ইষ্টিটিউশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন । ইন্নালিলাহে…….. রাজেউন)।

১৯৫০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরের দিলালপুর খান বাহাদুর লজে নানা বাড়ীতে শিরিন বানু মিতিল জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম- শাহজাহান মোহাম্মদ, মাতার নাম- বেগম সেলিনা বানু।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি স্বামী, একপুত্র, দুই কন্যাসহ আত্মীয় সজ্বন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল ছাত্র জীবনে প্রথমে ঢাকা নারী শিক্ষা মন্দির, পরবর্তীতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ এবং পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে লেখাপড়া করেছেন। এডওয়ার্ড কলেজে অনার্সে লেখাপড়া করা অবস্থায় তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে যান এবং উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তৎকালীন পাবনা জেলা প্রশাসক নুরুল কাদের, পাবনার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শক্রসেনাদের মোকাবেলা করতে প্রতিরোধ যুদ্ধ করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। সেই যুদ্ধ জনযুদ্ধে রুপান্তরিত হয়।

এ সময় শিরিন বানু মিতিল ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের পাবনা জেলা কমিটির সভানেত্রী। তিনি একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাবনার প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। এ সময় ছেলের পোশাক পড়ে ফুফাতো ভাই জাহিদ হাসান এবং সংগঠনের নেতা কর্মীদের সাথে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন শিরিন বানু মিতিল।

পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থাপিত হয় কন্ট্রোল রুম। পাবনায় ৩১ মার্চ সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এই কন্ট্রোল রুমের আওয়াতায় বিভিন্ন কাজ সমম্ময়ের এর জন্য একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়। আর এ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন, তৎকালীন ন্যাপ নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা।

পাবনার প্রতিরোধ যুদ্ধ শেষে ন্যাপ নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা’র নেতৃত্বে শিরিন বানু মিতিল সংগঠনের অন্যান্য নেতা কর্মীদের সাথে কুষ্টিয়া জেলা হয়ে চুয়াডাঙ্গায় যান। সেখান থেকে বাংলাদেশ সহায়ক সমিতির সাথে যোগাযোগ করার জন্য ভারতের কলকাতায় যান।

মেয়েদের জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প না হওয়া পর্যন্ত শিরিন বানু মিতিল ভারতের কচুয়াডাঙ্গা ক্যাম্পসহ ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করে নারী-পুরুষকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সচেতন করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ভাষণ দান করে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ভারতের জনগণকে উদ্ধুদ্ব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এরপর বাংলাদেশ সরকারের তত্বাবধানে মহিলা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি ওই ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ গ্যারিলা বাহিনী গঠিত হলে শিরিন বানু মিতিল সহযোদ্ধাদের নিয়ে এ বাহিনীর অর্ন্তভুক্ত হয়ে কাজ করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল একাধারে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সদস্য, কচিকাঁচা মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা এবং ঢাকাস্থ দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

এছাড়াও তিনি প্রিপট্রাস্ট নামক বেসরকারি সংস্থায়, জেন্ডার ও গভর্নেন্স ইউনিট এর পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার সকাল ১০ টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শিরিন বানু মিতিলের মৃতদেহ কিছুক্ষনের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রঙ্গনে রাখা হবে। এখানে প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মৃতুদেহ তার স্বামীর বাড়ী কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হবে। এখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠানের পর তার মৃতুদেহ দাফন করা হবে।

পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ, সাধারণ সম্পাদক আখিনুর ইসলাম রেমন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পাবনা জেলা ইউনিটের ডিপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন, উপজেলা ইউনিট কমান্ডার আবুল কাশেম বিশ্বাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি সন্তোষ রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন পাবনা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হাসান জিনদান, নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ পল্লব, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইর্টস ক্রাইম রিপোর্টাস ফাউন্ডেশন পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম শুভ, দৈনিক সিনসার সম্পাদক ও প্রভাষক মাহবুব আলম, দৈনিক বিবৃতির নির্বাহী সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা,পৃথক পৃথক বিবৃতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা বেদনা জানিয়েছেন।