বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনার সংবাদকর্মীদের জেলা প্রশাসকের অভিনন্দন

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : পাবনায় এক গৃহবধুকে দলবদ্ধ সিরিজ ধর্ষণের পর মামলা না নিয়ে থানায় বিয়ের ঘটনা উদঘাটনে পাবনার গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।

রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ বাসভবনে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়ায় এক গৃহবধুকে গনধর্ষণের পর মামলা না নিয়ে থানায় বিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিউজ পাবনাসহ গণমাধ্যমে এ ধরণের প্রকাশিত খবরের সত্যতা জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ।

তিন সদস্যের তদন্ত দল গত বৃহঃস্পতিবার থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিটি বিষয় অনুন্ধান করে ধারাবাহিক দলবদ্ধ ধর্ষণ, ওসির নির্দেশে থানায় বিয়েসহ প্রতিটি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।

প্রায় ধামাচাপা পড়ে যাওয়া একটি ঘটনা অনুসন্ধান করে সত্য তুলে ধরে সংবাদকর্মীরা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে তিনি জানান। ভয়ভীতির উর্দ্ধে উঠে এমন একটি স্পর্শকাতর অপরাধের বিবরণ সঠিক ও বস্তনিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন যা ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আগামীতে প্রশাসন পরিচালনায় যে কোন অন্যায় অসংগতি তুলে ধরার জন্য তিনি সংবাদ কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জেলা প্রশাসক জানান, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ৪টি বিষয়ে পর্যবেক্ষণ এবং ২টি বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছে। তবে এ বিষয়ে কোন সুপারিশ করেনি। প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও দলবদ্ধ ধর্ষণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঘটনাটি কেবল গণধর্ষণ নয়; ওয়ান কাইন্ড অফ সিরিজ রেপ।’

Displaying 1111.jpg

তবে তদন্ত কমিটির এক সদস্য প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে বলেন, প্রথম দিন রাসেল এবং হোসেন ড্রাইভার ওসমানের সহায়তায় তিন সন্তানের জননী ঐ গৃহবধুকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি শরীফুল ইসলাম ঘন্টুর কাছে বিচার চাইলে ঘন্টু ঐ নারীকে তার টেবুনিয়ার সিড গোডাউনে এলাকায় ঘন্টুর অফিসে আটকে রেখে তিন দিন ধরে ধর্ষণ করে।

পরে, এ বিষয়ে নির্যাতিতা গৃহবধু থানায় মামলা করতে গেলে পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক ধর্ষণ মামলা না নিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে মীমাংসার জন্য চাপ দেন।

পরে, ইচ্ছাকৃতভাবে মামলার আলামত নষ্ট করে এবং দারোগা একরামুল হককে বিয়ের আয়োজন করতে নির্দেশ দেয়। পরে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া থেকে কাজী ফজলুল আযমকে ডেকে অভিযুক্ত পাঁচ ধর্ষকের একজন রাসেলের সঙ্গে ধর্ষিতার আড়াই লক্ষ টাকার দেনমোহরে বিয়ে দেওয়া হয়।

মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের তিন সদস্যের তদন্ত দলে ছিলেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জাহেদ নেওয়াজ, পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান ও পাবনা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কেএম আবু জাফর।

তদন্ত কমিটির সদস্য পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত সকল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতিতা নারীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

ইবনে মিজান আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় বিয়ের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার এবং উপ-পরিদর্শক ইকারামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক নারীকে গত ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে অপহরণ করে এবং আটকে রেখে টানা চারদিন ধরে গণধর্ষণ করে।

পরে গৃহবধূ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করলেও মামলা নথিভুক্ত না করে ধর্ষিতাকে তার সাথে থানা চত্বরে বিয়ে দিয়ে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা চালায়।

এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলা দায়েরের পর সকল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!