বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শিক্ষক সংকট

পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শিক্ষক সংকট। ছবি : সংগৃহীত

image_pdfimage_print

পাবনা প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ খ্যাত পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে চলছে শিক্ষক সংকট। বর্তমানে ২৬ হাজার শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য রয়েছেন মাত্র ১৩৪ জন শিক্ষক।

শতবর্ষ পেরিয়ে আসা এ বিদ্যাপীঠটিতে প্রতি ১৯৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। যদিও দেশের সরকারি কলেজগুলোয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাত ১:১০৩।

বর্তমানে এডওয়ার্ড কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার পাশাপাশি ১৭টি বিষয়ে স্নাতক ও ১৫টি বিষয়ে স্মাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে। এসব বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য কলেজটিতে শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৬১টি।

এর মধ্যে ২৭টি পদ বর্তমানে শূন্য। শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টি ও শূন্য থাকা পদে শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

শিক্ষক সংকটের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ূন কবির মজুমদার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে কলেজ পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

একাডেমিক কাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক অনেক কাজেও শিক্ষকদের অংশগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও বিঘ্নিত হচ্ছে।

সবমিলে শিক্ষক সংকটে কলেজের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এরপরও এ সংকট নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

শিক্ষক ও জনবল সংকট, অপর্যাপ্ত আবাসন এবং যানবাহন সুবিধাসহ নানা দুর্বলতায় দিন দিন ঐতিহ্য হারাচ্ছে সুপ্রাচীন এ এডওয়ার্ড কলেজটি ।

স্থানীয়রা বলছেন, নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত কলেজটির শিক্ষার মান সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে তা এখন অনেকটাই ম্লান হতে চলেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলাসহ পাবনার নয়টি উপজেলার শিক্ষার্থীরা এই কলেজটিতে পড়তে আসেন। শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি আবাসিক হলে আসন সংখ্যা ৮০০ হলেও গাদাগাদি করে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কলেজের ছাত্রাবাসের মধ্যে কামাল উদ্দিন ছাত্রাবাসটির অবস্থা বেশি নাজুক। আগাছায় ভরে গেছে চত্বর। বৈদ্যুতিক তারগুলো ঝুলে পড়েছে। শৌচাগারের অবস্থাও করুণ। নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

পাবনার উপজেলাগুলো থেকে ছাত্রছাত্রী পরিবহনের জন্য রয়েছে চারটি বাস। যদিও শিক্ষার্থী সংখ্যা বিবেচনায় তা যথেষ্ট নয়।

সংকট রয়েছে বেঞ্চ ও চেয়ার-টেবিলেরও। এদিকে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে তীব্র লোকবল সংকট।

৩৪ জন কর্মচারীর পদ থাকলেও কর্মরত আছে ১৩ জন। বাকি ২১টি পদ শূন্য থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম।

অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবির মজুমদার বলেন, অচিরেই ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করা হবে। পুরনো ভবনগুলো সংস্কারসহ রঙ করা হয়েছে।

১৮৯৪ সালে শ্রী গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী পাবনায় সর্বপ্রথম ‘পাবনা ইনস্টিটিউশন’ (বর্তমান গোপাল চন্দ্র ইনস্টিটিউট) নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৮ সালে এ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এডওয়ার্ড কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়।

একই বছরের ডিসেম্বরে এফ.এ স্ট্যান্ডার্ড কলেজ নামে প্রতিষ্ঠানটি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। সে সময় জমিদার বনমালী রায় বাহাদুরসহ পাবনার গুণী ব্যক্তিরা কলেজটি স্থাপনে সহযোগিতা করেন।

কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন অন্নদা প্রসাদ ভট্টাচার্য। প্রতিষ্ঠার অল্প সময়েই খ্যাতি অর্জন করতে সমর্থ হয় এডওয়ার্ড কলেজ।

এর পর গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী কলেজটির অধ্যক্ষ থাকাকালে এর নাম পরিবর্তন করে পাবনা কলেজ নামকরণ করা হয়। ১৯১১ সালে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে পুনরায় তত্কালীন ব্রিটিশ সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ডের নামানুসারে এডওয়ার্ড কলেজ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে এডওয়ার্ড কলেজ সরকারীকরণ করা হয়।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!