শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় একটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনার বর্ণনা

image_pdfimage_print

স্টাফ রিপোর্টার : এ বছরের গত ৫ মে দিবাগত রাতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার হিদাশকোল গ্রামে সাদেক আলী (৫২) নামের এক কৃষককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

কেন সাদেক আলী খুন হয়েছিলেন, কারা খুন করেছিলো এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে তৎপর হয়ে ওঠে পাবনার পুলিশ প্রশাসন। দীর্ঘ ২ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে জানাগেছে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা।

এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা বর্ণনা করে পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম তার ফেসবুক পেজ SP Pabna এ একটি স্ট্যাটস লিখেছেন। সেই স্ট্যাটসটি নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘জমি নাকি যমের সমান!!!!!!!

স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাকে নিয়ে আট বিঘা জমির মালিক কৃষক সাদেক আলীর সুখের সংসার।

আদরের ধন ছেলে- মেয়েদের মুখে নিয়মিত কোরমা পোলাও না তুলে দিতে পারলেও পরিশ্রমের ঘামের দামে কেনা শাকান্নে সুখের অভাব ছিলোনা।

মেয়েকে কাছ ছাড়া করবেনা বলে কাছেই ভাল জামাই দেখে বিয়ে দিলো আর ছেলের জন্য ঘরে ফুটফুটে বৌ নিয়ে আসলো সাদেক আলী।

মন চাইলেই মেয়ের কাছে যায়, মেয়ে আব্বাকে ভাত না খেয়ে আসতে দেয়না। বৌমাও শশুরকে যত্ন আত্বী কম করেনা।

নিহত সাদেক আলী

সুখের সংসারে হঠাৎই কাল বোশেখীর হানা, সাদেক আলীর স্ত্রী বিয়োগ। মাঝবয়সী শক্তপোক্ত গঠনের সদেক আলীর ছেলে মেয়েদের সংসারে আদরের অভাব না থাকলেও স্ত্রী বিয়োগের শুন্যতা বাড়তে থাকে মনের গভীরে।

বন্ধুবান্ধব ও ছেলে মেয়েদের পীড়াপিড়িতে আবারও বিয়ে করতে রাজি হয় সাদেক আলী। কিন্তু তার চাই কম বয়সী মেয়ে।

এখানেই ভুল বোঝাবুঝির শুরু হয় ছেলে মারুফ মৃধার সাথে। ছেলে চায় মাঝ বয়সী সন্তানহীন ( এবং ভবিষ্যৎ সন্তান ধারনের বয়স উত্তীর্ণ) কাউকে বিয়ে করুক যেন সংসারে তার ভাগীদার না আসে।

কিন্তু সাদেক আলী পার্শ্ববর্তী গ্রামে অল্পবয়েসী মেয়ে বিয়ের পাত্রী হিসেবে পছন্দ করলে ছেলের মনে ক্ষোভের দাবানল জ্বলে উঠে।

ভবিষ্যৎ সম্পত্তির ভাগিদার আসার সম্ভাবনাকে অংকুরেই ধ্বংস করতে পিতাকে খুনের ঘৃণ্য পরিকল্পনা করতে থাকে মারুফ মৃধা।

৫০০০০ টাকায় ভাড়াটে খুনি ঠিক করে সুদে ২০০০০ টাকা নিয়ে খুনীদের দেয় সে।সন্দেহ এড়াতে ছেলে মারুফ ঢাকায় চলে যায়।

গত ৫ মে তারিখ সন্ধ্যায় অন্যদিনের মত আদরের মেয়ের কাছে যায় সাদেক আলী।মেয়ের কাছ থেকে রাতের খাবার খেয়ে রাত ৯ টায় বাড়ির দিকে রওনা দিলে কিছুদুর পরেই খুনিরা তাকে ধরে নিয়ে দুরবর্তী আমবাগানে পরিকল্পনা মতো গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে।

সন্তানদের জন্য ঘামের দামে কেনা সম্পত্তির জন্য শেষ হয়ে যায় সাদেক আলী।

পিতার খুনি হয়েও নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতে নিজে বাদী হয় মারুফ।

কিন্তু আমার তদারকি ও দিকনির্দেশনায় পাবনা জেলা পুলিশের চৌকস সদস্যদের প্রযুক্তি নির্ভর তদন্তে অবশেষে বাদি মারুফ মৃধা আটক হয়ে পিতৃ হত্যার দ্বায় স্বীকার করে।

গত ১৩ জুলাই বিজ্ঞ আদালতে মারুফ মৃধা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
সমাজ মারুফ মৃধার মত পিতৃহত্যাকারীকে আর দেখতে চায়না।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!