সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় এসেছিলেন জনপ্রিয় নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা

সাক্ষাৎকার

ফাতেমা তুজ জোহরা একজন জনপ্রীয় নজরুল সঙ্গীতশিল্পী। তিনি নজরুলগীতির পাশাপশি আধুনিক গানও করে থাকেন।

তিনি টেলিভিশন নাটকে অভিনয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনা এবং উপস্থাপনা করেন।

এছাড়া তিনি একটি কবিতার বই, দুটি ছড়ার বই, একটি উপন্যাস, একটি গল্প ও কলাম সংকলন এবং নজরুলের গান নিয়ে একটি সঙ্গীতের বই প্রকাশ করেছেন।

সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।

সম্প্রতি ৩ দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল সম্মেলনে যোগ দিতে পাবনায় এসেছিলেন তিনি।

নজরুল সম্মেলনের ফাঁকে কথা হলো ফাতেমা তুজ জোহরার সাথে। তাঁর সাথে কথা বলে লিখেছেন নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার এডিটর ইন চিফ ফয়সাল মাহমুদ পল্লব।

পাবনা এসে কেমন লাগছে?

খুবই ভালো লাগছে। পাবনার মানুষ খুবই সংগীত প্রিয়। এর আগেও আমি একাধিকবার পাবনায় এসেছি তখনই দেখেছি পাবনার মানুষ অনেক আন্তরিক। আমার বেশ পছন্দের শহর পাবনা। এবার পাবনা এসে বাড়তি একটা বিষয় দেখলাম, সেটা হলো কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেনের বাড়ি।

প্রিয় শিল্পী, সঙ্গীতের শুরুটা কবে থেকে?

আমার পিতা সৈয়দ ফরিদ উদ্দিন একজন রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। আমার বেড়ে ওঠা উত্তরের জেলা শহর জয়পুরহাটে। আমি যখন জয়পুরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করি, সেই সময় থেকে সঙ্গীত চর্চা শুরু করি, পাশাপাশি অভিনয়ও করতাম।

জোহরা সঙ্গীতচর্চা শুরু করেন ১৯৬৩ সালে হাবীবুর রহমান সাথীর নিকট। তিনি ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তার নিকট সঙ্গীতের তালিম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি মিথুন দে’র নিকট সঙ্গীতের তালিন নেন। এছাড়া তিনি নগেন ঘোষ এবং রফিকুল আলমের কাছে গানের তালিম নেন।

গান শেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বাবা বা আমার গুরুরা, ওস্তাদ হাবীবুর রহমান, নগেন ঘোষ ও রফিকুল আলম, কেউ আমাকে বলে নি যে বড় শিল্পী হতে হবে, বরং তারা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে সঠিকভাবে গান করতে হয়।”[

নতুন শিল্পীদের সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

তারা কষ্ট করছে। একটা গান গলায় তুলতে অনেক কষ্ট করতে হয়। যে গাচ্ছে, তার গায়কীটা কেমন হওয়া উচিত এটা তার জেনেই এগুতে হয়। যে গাচ্ছে সেতো ক্লাসিক্যাল বেজটা নিয়েই গাচ্ছে। ক্লাসিক্যাল বেজ না থাকলে  নজরুলের গান করা সম্ভব না। নতুন শিল্পীরাও বেশ ভালো করছে। তবে আমাদের সময় যেমন বহুদিন সাধনার পর মিডিয়ায় জায়গা পেয়েছি, এখন আর মিডিয়ায় জায়গা পেতে সেই সাধনা করতে হয় না। এখন মিডিয়ায় স্পেস অনেক বেশি, সবই হাতের কাছে। অনেক ক্ষেত্রে সহজে প্রচার পাওয়াটাও কিন্তু মাথা খারাপ করার জন্য যথেষ্ট।

সঙ্গীতাঙ্গনে আগের মতো দেখা যায় না আপনাকে। কেন?

কে বলল? আসলে আগে শুধু বিটিভিই ছিল। সেখানে গানের স্লট অনেক ছিল। এখন এতোগুলো চ্যানেল হয়েছে, কিন্তু গানের স্লটে বিটিভির সাথে পাল্লা দিয়ে পারবে না। সহজ উত্তর। ওখানে সবচেয়ে ইম্পরটেন্ট প্রোগ্রামগুলো হতো। সেখানে ক্লাসিক্যাল হতো এবং অনেক নামের অনেক সুন্দর সুন্দর অনুষ্ঠান হতো আধুনিক গানের। এরপর নজরুল সঙ্গীত যেমন- মালঞ্চ, দোলনচাঁপা এমন সব অনুষ্ঠান হতো। এখনও ভালো ভালো অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমার বিশ্বাস যারা সঙ্গীত ভালোবাসে তাদের দেখার জায়গা বিটিভি। আমি নিয়মিত আছি।

বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?

গান ছাড়া আর আমার ব্যস্ততা বলতে কিছু নেই। সংসার করতে হয় তো। ছেলে-মেয়ে, স্বামী, সংসার এসবও দেখতে হয়। মা মারা গেলেন দু’বছর হয়নি। আম্মাকে নিয়ে প্রায় আড়াই বছর হসপিটাল, ক্লিনিকে ব্যস্ত থাকতে হলো। মা মারা যাওয়ার পর থেকে নিত্যনৈমিত্তিক কাজগুলোও নিয়ম করে হয় না। মায়ের বিষয়, কাজেই মানসিক একটা প্রভাব তো থাকেই। কখনো কখনো ভালো লাগে না।

জীবনের একটা রোম্যান্টিক মোমেন্ট শেয়ার করুন আমাদের সাথে।

এসব বলা যাবে না (হাসি)। পছন্দ করতো তো অনেকেই। তবে ‘তুমি আমার’ লেখা একটা এক ইঞ্চি চিরকুট প্রথম জীবনে দিয়েছিল একজন। আমি তখন স্কুলে পড়ি। তার সাথে আর দেখা হয়নি। এরপর বড় চিঠি অনেক এসেছে। ওসব চিঠিতে আপনাদেরও যা লিখেছে, আমাদেরও তা-ই লিখেছে। অনুভূতির বিষয়তো একই রকম।

কি আর বলব! ( হাসি ) আমি যেহেতু গান করতাম, তাই একপাক্ষিক ব্যাপারটাই বেশি ছিল। আর দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আমার বাড়িতে প্রচুর শাসন ছিল। জানলে মেরে শেষ করে ফেলবে। কাজেই সেই সাহস দেখাই নি।

পরিবার সম্পর্কে একটু জানতে চাই?

আমার দুই মেয়ে এক ছেলে। তারাও গান করে। আমার স্বামী এবং তার ভাই-বোনেরাও সঙ্গীতপ্রেমী। তারা ছায়ানটের সাথে যুক্ত ছিলেন। বড় মেয়ের ঘরের নাতনি আছে আমার। নাতনির নাম আমেনা। আমারই রাখা নাম।

বর্তমান সময়ে নজরুল সঙ্গীত নিয়ে কেমন চর্চা হচ্ছে?

এখন সঠিক সুরে গান করছে নতুন প্রজন্ম। অর্থাৎ আদি রেকর্ড থেকে যে নোটেশনটা উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলোই সমস্ত বই এবং সিডি আকারে পাওয়া যাচ্ছে। নজরুল ইন্সটিটিউট করেছে এটা। এটা কিন্তু যারা নজরুলচর্চা করে তাদের জন্য খুবই হেল্পফুল হচ্ছে। এবং আমাদের জন্যও হেল্পফুল। আমরা এমন গান করেছি, যা আমাদের অগ্রজরাও করেছেন, কিন্তু একসময় এসে শুনি এটা নজরুলের গান না। আমরা তো সাধারণত অগ্রজদেরই অনুসরণ করি। এমন অনেক গান করেছি, পরে শুনি এটা নজরুলের গান না বা তার সুর না। এটা কেন তার উত্তর আমি দিতে পারব না। এখনকার শিল্পীদের সেই ভুলটা হবে না। কারণ তারা অনেক ধরনের সাপোর্ট পাচ্ছে। নজরুলের গান এবং অথেনটিক সুরটা তারা পাচ্ছে, যার কারণে মনের জোরটাও পাচ্ছে তারা। আমাদের সময় এসব সুযোগ ছিল না।

নতুন প্রজন্মের নজরুল সঙ্গীত শিল্পীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

তাদের প্রতি পরামর্শ হলো ক্লাসিক্যাল চর্চাটা করতেই হবে। ক্লাসিক্যাল চর্চা মানে কিন্তু ক্লাসিক্যাল গাওয়া না। আর গাইতে পারলে তো আরও ভালো। ক্লাসিক্যাল চর্চাটা করলে হয়কি, নজরুলের গানে যে বিভিন্ন গহনার কারুকাজ আছে, তা ফুটিয়ে তুলতে ক্লাসিক্যাল দরকার। নজরুলের গানে কি কি গহনা আছে, তার কারুকাজ কেমন তা একজন নজরুল সঙ্গীত শিক্ষার্থীই বুঝবে।

আপনার সাথে কথা বলে ভাল লাগলো; ভাল থাকবেন

আপনিও ভাল থাকবেন। নিউজ পাবনা’র পাঠকদের জন্য আমার শুভ কামনা রইলো।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!