বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০১:১৩ অপরাহ্ন

পাবনায় ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন এসআই!

অভিযুক্ত এসআই মিন্টু দাস

পাবনা প্রতিনিধি : মাদক সেবনের মামলা থেকে বাঁচিয়ে দিতে দুই প্রবাসীর পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে পাবনার ফরিদপুর উপজেলা পরিষদের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এসআই মিন্টু দাস পাবনার ফরিদপুর থানায় কর্মরত রয়েছেন।

ফরিদপুর উপজেলার পারফরিদপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মুন্নাফ ও একই গ্রামের শামছুল হক এর ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী রাসেলকে মাদক সেবনের মামলা থেকে বাঁচিয়ে দিতে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ওই এসআই এ ঘুষ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ উঠে।

মুন্নাফ ও রাসেলের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, এসআই মিন্টু দাস সোমবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওভোগ বিলের পাড় থেকে তাদের মাদক সেবনের অভিযোগ দেখিয়ে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান।

রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে বলে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে দুই দফায় মোট ২০ হাজার টাকা নেন ওই এসআই।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় মুন্নাফ ও রাসেলকে ফরিদপুর সদরের ইউএনও ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মদ আলী ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের সাতদিনের কারাদণ্ড দেন। এতে দণ্ডিতদের আত্মীয়স্বজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

উপজেলায় ইএনও’র সিএ এর রুমে এসআই মিন্টু দাসকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আত্মীয়স্বজন। পরে ফরিদপুর থানার অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে তাকে উদ্ধার করে।

এ সময় রাসেলের চাচা মুনসুর আলী এসআই মিন্টু দাসকে তাৎক্ষণিক ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেন। এসআই মিন্টু থানায় গিয়ে টাকা ফেরত দিতে রাজি হন। কিন্তু উপস্থিত জনতা আরো বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। দেন দরবারের এক পর্যায়ে বিকেলে এসআই মিন্টু ২০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। পরে জনতা শান্ত হয়ে তাকে মুক্তি দেন।

গ্রেফতার রাসেলের মা সুজাতা জানান ‘আমার ছাওয়াল ৫ দিন আগে বিদেশ থেকে আইছে। তাক টেহার জন্যি পুলিশ ধরে লিয়ে আইছে। মিন্টু পুলিশ আমার ছাওয়ালেক ছাইড়ে দেওয়ার কথা কয়া ২০ হাজার টেহা লিছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে এসআই মিন্টু বলেন, আমি মাদকের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযান চালাই। তাই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি কারো কাছ থেকে কোনো ঘুষ গ্রহণ করিনি।

ফরিদপুর থানার ওসি এসএম আবুল কাশেম আজাদ বলেন, এসআই মিন্টু’র ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি আমার জানা নেই। সে অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিক্ষোভের কথা শুনে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।

ফরিদপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম কুদ্দুস বলেন, হট্টগোল শুনে আমার রুম থেকে বের হয়ে দেখি ইউএনও এর সিএ এর রুমে এসআই মিন্টু দাস অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইউএনও আহম্মদ আলী বলেন, ‘দুজন মাদক সেবনকারী তাদের দোষ স্বীকার করলে তাদের প্রত্যককে সাতদিনের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে অবশ্য অনেককে বিক্ষোভ করতে দেখেছি।’


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!