পাবনায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে পৌরবাসী

ছবিটি সোমবার পাবনা গভ:গার্লস হাইস্কুলের সামনে থেকে তোলা

ছবিটি সোমবার পাবনা গভ:গার্লস হাইস্কুলের সামনে থেকে তোলা

শহর প্রতিনিধি: পাবনা শহরে ময়লা-আবর্জনায় পানিনিষ্কাশন নালা (ড্রেন) অকেজো হয়ে পড়েছে৷ ফলে দুই দিনের বৃষ্টিতে পৌর এলাকার অধিকাংশ মহল্লায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পৌরবাসী।

সামান্য একটু বৃষ্টিতেই পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আর এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পৌর এলাকার প্রায় ৭/৮ হাজার পরিবার। পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে সাধারণদের ধারণা।

পাবনা পৌরসভা দেশের সবচেয়ে প্রচীনতম পৌরসভার মধ্যে একটি। ১৮৭৬ সালে এই পৌরসভার যাত্রা শুরু হলেও এটি এখন অনেক নতুন পৌরসভার উন্নয়ন থেকেও পিছিয়ে।

এই পৌরসভায় পানি নিস্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকায় পৌর এলাকায় একটু বৃষ্টিতেই ঘরের মধ্যে হাঁটু পরিমান পানি জমে যায়। অন্যদিকে শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদী থাকে শুকনো।

অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর পৌর কতৃপক্ষের অবহেলা উদাসিনতার কারনে পৌরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারনে সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

পাবনা পৌর রাধানগর, শালগাড়িয়া, শিবরামপুর, কুটিপাড়া, নয়নামতি, চকপৌলনপুর, আরিফপুর, কৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন স্থানে একটু বৃষ্টি হলেই এখানকার রাস্তা ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। গত রবি ও সোমবারের টানা বর্ষনে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় ৭/৮ হাজার পরিবার।

বাড়ির উঠান ও ঘরের মধ্যে জমে আছে হাঁটু পরিমান পানি । আর এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।

ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের এলাকায় যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একবারেই কম। আর যা আছে তা সংস্কার করা হয়না অনেকদিন ফলে পানি নিস্কাসন ব্যবস্থা ভেঙে পরেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি থাকায় অনেক পরিবার নানা রকম পানিবহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে জলাবদ্ধ এলাকায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সব সময় রোগ বালাই লেগেইে রয়েছে।

রাধানগর মাঠ পাড়ার বাসিন্দা কলেজ ছাত্রী হাফিজা জানান, তাদের এলাকায় ড্রেন নেই। ফলে এবারের ভারী বর্ষনে বৃষ্টির পানি ঠিকমত বের না হওয়ায় তাদের বাড়ির উঠান ও ঘরে হাঁটু পরিমান পানি জমে আছে।

আফরোজা পারভিন জানালেন, তাদের বাড়িতে পানি জমে থাকায় তারা রান্না করতে পারছে না। গত কয়েকদিন যাবত তারা শুকনো খাবার খেয়ে আছেন। আবার কোন সময় তারা পাশ্ববর্তি আত্মীয় স্বজনের বাসায় গিয়ে রান্না করে জীবনধারন করছেন।

পৌর বাসিন্দা একজন গৃহীনি সরস্বতী জানালেন, বৃষ্টি শুরুর পর থেকে তারা মাচা বানিয়ে রান্না করছেন। ঘরের মধ্যে পানি উঠে যাওয়ায় ঠিকমত রাতে ঘুমাতে পারছেন না।

স্কুল ছাত্রী তিন্নি বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় আমাদের স্কুলে যাতায়াত কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে।

এদিকে শালগাড়িয়া মহল্লার অবস্থা একবারেই করুন। সেখানে গিয়ে দেখা যায় একতলা বাড়ির বেশিরভাগ খাট, সোফাসেটসহ গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় জীনসপত্র পানিতে অর্ধেক ডুবে রয়েছে। অনেকের বাড়ির ফ্রিজ পানিতে ডুবে থাকায় সেগুলো নস্ট হয়ে গেছে।

বিশেষ করে রেনেসা পাঠাগার বা তার পিছনের এলাকার অবস্থা একবারেই করুন। শুধু তাই নয় শহরের রবিউল মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ অতি গুরত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা দুর করার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। এ ছাড়া পৌর এলাকার সমস্ত ড্রেন ইছামতি নদীমুখী করলেই এ সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।

পৌরবাসির এ দুর্ভোগ লাঘবে পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটিই আশা করছেন ভুক্তভোগিরা।