সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

পাবনায় টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম

image_pdfimage_print
পাবনায় টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম

পাবনায় টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম

শহর প্রতিনিধি : পাবনায় সরকারি বিপণন সংস্থার (টিসিবি) পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পাঁচটি পণ্য টিসিবির পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে বিক্রি করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তাও নিম্নমানের। মাত্র দুটি ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি হওয়ায় অনেক মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২৯ মে থেকে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে চিনি, খেজুর, ছোলা, সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল বিক্রি  হওয়ার কথা। এর মধ্যে প্রতি কেজি দেশি চিনি ৪৮ টাকায় (জনপ্রতি সর্বোচ্চ চার কেজি),  মসুর ডাল ৮৯ টাকা ৯৫ পয়সায় (জনপ্রতি দুই কেজি), ছোলা ৭০ টাকায় (জনপ্রতি পাঁচ কেজি), খেজুর ৯০ টাকায় (জনপ্রতি এক কেজি) ও সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকায় (জনপ্রতি পাঁচ লিটার) বিক্রি হবে। প্রতিটি ট্রাকে দৈনিক ৩০০-৪০০ কেজি চিনি, ১৫০-২০০ কেজি মসুর ডাল, ৩০০-৪০০ লিটার সয়াবিন তেল, ৪০০-৮০০ কেজি ছোলা ও ৫০ কেজি খেজুর বরাদ্দ থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনায় গত ২৯ মে থেকে টিসিবির দুটি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে স্বল্প মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে বিক্রি করা হচ্ছে ৪টি পণ্য। এগুলো হলো চিনি, ছোলা, মশুর ডাল ও সয়াবিন তেল। খেজুর বিক্রির কথা থাকলেও তা মিলছে না। যেসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। চাহিদামতো পণ্য কিনতে না পেরে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন অনেকেই।

টিসিবির আঞ্চলিক অফিস থেকে পাবনার তিন ডিলার প্রতিষ্ঠানকে টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রথমদিকে প্রতি ডিলারকে একদিনে বিক্রির জন্য ছোলা ৮০০ কেজি, চিনি ৪০০ কেজি, তেল ৪০০ কেজি, ডাল ২০০ কেজি করে বরাদ্দ দেওয়া হতো। কিন্তু ২ জুন টিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে রমজান মাস উপলক্ষ্যে ডিলারদের বরাদ্দ কমিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদিনের জন্য ডিলার প্রতি চিনি ২০০-৩০০ কেজি, সয়াবিন তেল ২৫০-৩০০ লিটার ও ছোলা ২০০-৪০০ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে ডিলারদের থেকে ক্রেতারা চিনি সর্বোচ্চ দুই কেজি, মশুর ডাল সর্বোচ্চ দুই কোজি ও ছোলা সর্বোচ্চ দুই কেজি করে কিনতে পারছেন।

টিসিবির পণ্যের গ্রাহক আবুল কালাম বলেন, ‘পাবনার মতো বড় একটি শহরে মাত্র দুটি ট্রাকে করে টিসিবি পণ্য বিক্রি করে সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে পারছে না। তা ছাড়া যে পরিমাণ পণ্য একজন ব্যক্তি কিনতে পারবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেই পরিমাণ পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।’

সাইফুল ইসলাম নামের অন্য এক গ্রাহক বলেন, ‘অনেকে টিসিবির পণ্য কিনে নিয়ে মুদি দোকানে বিক্রি করছে। এতে যাদের বেশি প্রয়োজন তাদের অনেকেই টিসিবির পণ্য কিনতে পারছেন না।’

হাসিনা আক্তার নামের এক গৃহিণী বলেন, ‘সরকারের পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্তটা অবশ্যই ভাল। তবে দু-একটি পণ্যের মান ভাল নয়। মানসম্পন্ন পণ্য বেশি করে সরবরাহ করা হলে রমজান মাসে আমরা উপকৃত হতাম।’

এলাকাবাসীর দাবি, টিসিবির পণ্যের ট্রাক সংখ্যা ও বিক্রির পয়েন্ট সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে। উপজেলা সদরগুলোতেও একটি বা দুটি করে ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা উচিত।

এদিকে উপজেলা পর্যায়ে ইশ্বরদীর দুই ডিলার টিসিবির পণ্য বিক্রি করছে। তারা হলো- ইশ্বরদীর সুমন স্টোরের সিরাজুল ইসলাম শিবলু ও ইসলামী ট্রেডার্সের সাইফুল ইসলাম। তাদের দাবি, রাজশাহী থেকে তাদের নামে সপ্তাহে দুই দিন টিসিবির পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। আগে বেশি বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে সেই বরাদ্দ আরো কমানো হয়েছে। এতে ক্রেতাদের চাহিদা মতো পণ্য সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না।

পাবনায় টিসিবির পণ্য বিক্রির বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও জেলা প্রশাসনের কাছে।

পাবনা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব-উল-আলম মুকুল বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে দেখছি পাবনা জেলা প্রশাসনের কাছে টিসিবির কোনো তথ্য থাকে না। তারা জানে না কারা টিসিবির ডিলার, কীভাবে বা বাস্তবায়ন হয় পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়াটি। খতিয়ে দেখা হচ্ছে না সাধারণ মানুষ টিসিবির সেবা পাচ্ছে কি না। এ কারণে কম মূল্যে মানুষকে পণ্যসেবা দেওয়ার সরকারের যে লক্ষ্য তা পূরণ হচ্ছে না।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পাবনা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ জেবুনেচ্ছা ববিন বলেন, ‘পাবনায় টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। কোথায়, কারা টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন, তা সাধারণ মানুষ জানতে পারছে না। গরীব মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্তভোগীরা। এ বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদারকির আওতায় আনা দরকার।’

এ বিষয়ে তথ্য জানতে যোগাযোগ করা হয় পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য শাখায়। সেখানকার কর্তব্যরত উচ্চমান সহকারী অনির্বাণ হালদার বলেন, ‘চলতি বছর টিসিবির কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। কোনো বরাদ্দপত্রের চিঠিও আমাদের কাছে আসেনি। টিসিবি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।’

পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুন্সী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘রাজশাহীতে টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রির বিষয়টি দেখা হয়। পাবনায় টিসিবির তিনজন ডিলার আছেন। তারা তাদের বরাদ্দকৃত পণ্য নেওয়ার পর আমাদের একটি চিঠি দেন। এর বাইরে কিছু জানা নেই। ঈশ্বরদী থেকে ডিলাররা এসে পাবনায় টিসিবির পণ্য বিক্রি করছে কি না জানি না। পাবনার ডিলাররা কোথায় বিক্রি করে সেটিও জানা নেই। তবে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!