পাবনায় ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র’র জন্মস্থান অবমুক্ত দাবী করে ভক্তদের সংবাদ সম্মেলন

পাবনা প্রতিনিধি : যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র’র পূণ্যভূমি পাবনার হিমাইতপুর জন্মস্থান অবমুক্ত, সংরক্ষণ এবং ঠাকুরকে নিয়ে একটি চক্রের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন থেকে বিরত থাকা ও ঐতিহ্য রক্ষা ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

রোববার (০২ এপ্রিল) দুপুরে হিমাইতপুর সৎসঙ্গের লাইব্রেরি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী জানিয়েছেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ হিমাইতপুরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শ্রী যুগল কিশোর ঘোষ। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সৃষ্টি পর সরকারের কাছে আবেদন নিবেদনের কমতি ছিল না শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র’র জন্মস্থানটুকু পূর্ণ মর্যাদায় সংরক্ষণের জন্য।

অবশেষে নানা বাঁধা বিপত্তি, চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে ঠাকুরের জন্মস্থানখ্যাত পাবনার হিমাইতপুরে অবস্থিত পাবনা মানসিক হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ০.১৫ একর জমি সরকারের ১ নং খাস খতিয়ান ভূক্তির পর সৎসঙ্গ কর্তৃপক্ষকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।

সকল নিয়মনীতি মেনে ইতোমধ্যে ওই জমি ঠাকুর ভক্তবৃন্দরা দখলে নিয়েছেন।

তাছাড়াও সরকারের ঘরে জমিটির মুল্য বাবদ ৬ লক্ষ ৫ হাজার ৮৮৬ টাকা ৭৫ পয়সা ব্যাংক চালান রশিদের মাধ্যমে জমাও দিয়েছেন। কিন্তু ঠাকুরের জ্যেষ্ঠপুত্র শ্রী অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় সৎসঙ্গ বাংলাদেশ নামধারী একটি চক্র ওই জায়গাটি ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ এর নামে বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য পাবনার হিমাইতপুর আশ্রমের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঠাকুর ভক্তদের বিভ্রান্ত করছে।

তারা ঠাকুরের বিভিন্ন বাণী পরিবর্তন ও বিকৃত করেও ঠাকুরের অনুসারী দেশী বিদেশি ভক্তগণকে মারাত্বক বিভ্রান্তিতে ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সৎসঙ্গীদের দাবী, সৎসঙ্গ বাংলাদেশ, পাকুটিয়া, টাঙ্গাইল এর নামে বিভিন্ন সময়ে মৌখিক ও লিখনের মাধ্যমে ঠাকুর ও তার জ্যৈষ্ঠপুত্রের দোহাই দিয়ে আর্থিক লাভবান ও নিজস্বার্স্থ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাবনার হিমায়েতপুরের প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস ও প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পাবনাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান এবং একই সাথে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. রবীন্দ্রনাথ সরকার, অধ্যাপক গোপীনাথ কুন্ডু, হিন্দু বৈদ্ধ্য খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিনয় জ্যোতি কুন্ড, সাধারন সম্পাদক চন্দুন কুমার চক্রবর্তী, নরেশ মশু, চিত্র রঞ্জন দাশ প্রমুখ।

এ সময় পাবনা কর্মরত স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় ও টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।