মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা ৫৪২ জন

image_pdfimage_print

facebook1নিউজ ডেস্ক : পাবনা জেলায় থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা ৫৪২ জন। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসকে সামনে রেখে আজ শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে মানবসেবা উন্নয়ন সংস্থা।

থ্যালাসেমিয়া একটি ঘাতক ব্যাধি। এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের প্রতি মাসে অন্যের রক্ত নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। অনেক সময় যা খুবই দুষ্প্রাপ্য ও কষ্টদায়ক। এই মুহূর্তে নিরাপদ রক্তের সংকটে পড়েছেন পাবনা জেলার ৫৪২ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী।

বেসরকারি মানবসেবা উন্নয়ন সংস্থা জানায়, পাবনার নয়টি উপজেলায় ৫৪২ জন অসহায় থ্যালাসেমিয়া রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটি পাবনা জেলায় ২০০৮ সাল থেকে প্রতিটি থ্যালাসেমিয়া রোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেজলাই সার্ভে করে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এসব রোগীর সন্ধান পায়। এর মধ্যে ২৯৬ জন নারী ও ২৪৬ জন পুরুষ।

মানবসেবা উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ব্লাড ব্যাগ, ব্লাড সেট, ওষুধ, পরামর্শসহ এসব রোগীকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এই মুহূর্তে নিরাপদ রক্ত সংকটে ভুগছেন রোগীরা। অনেক সময় নিজের আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে রক্ত পাওয়া না গেলে ব্লাড ব্যাংক বা বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে বাধ্য হন থ্যালাসেমিয়া রোগীরা। তবে এসব রক্ত থেকে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, থ্যালাসেমিয়া এমন একটি রোগ যার কোনো ওষুধ নেই। নির্দিষ্ট সময় পরপর অন্যের রক্ত শরীরে গ্রহণ করেই বাঁচতে হয় এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে। এই রক্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার খরচ বেশি হওয়ায় তার জোগান দেওয়া মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র রোগীদের পক্ষে বেশ কষ্টকর।

চাটমোহর উপজেলার কাঠাখালী গ্রামের হতদরিদ্র আবু শামার ইমাম জানান, তাঁর দুই মেয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। প্রতিবার মেয়েদের রক্ত দেওয়ার সময় রক্তের ব্যাগ, সেট, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। যার জোগাড় করা তাঁর জন্য পক্ষে খুব কষ্টসাধ্য। তবে আট বছর ধরে মানবসেবা উন্নয়ন সংস্থা থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্তের ব্যাগ, সেট ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ায় এখন পর্যন্ত মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছেন তিনি।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দিলদার হেসেন জানান, এক মাস পরপর তাঁকে রক্ত নিতে হয়। প্রতিবারই রক্ত জোগাড় করাটা খুব কষ্টের কাজ হয়ে দাঁড়ায়। আত্মীয় বা পরিচিতজনদের রক্ত পাওয়া না গেলে নিরাপদ রক্ত পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে মানবসেবা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এম এস আলম বাবলু জানান, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় তাদের সংস্থার পক্ষ থেকে দরিদ্র রোগীদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা হয়। তবে নিয়মিত নিরাপদ রক্ত জোগাড় করতে না পারলে এসব সহায়তাই বৃথা হয়ে যাবে। তাই থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রাক্কালে নিরাপদ রক্ত সরবরাহের দিকে নজর দিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!