বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

পাবনায় দশ যুবকের ১৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি

ছবি : প্রতীকি

ছবি : প্রতীকি

ছবি : প্রতীকি

পাবনা জেলা প্রতিনিধি : পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার খাগরবাড়িয়া গ্রামের একই পরিবারের তিন সহোদরসহ ১৫ দিনে  নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ১০ যুবক। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠা, উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে পরিবারের সদস্যরা।

অপহৃতদের খোঁজে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, সিআইডিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির বিভিন্ন দপ্তরে দিনে রাতে ধরনা দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একই কথা, অপহৃতদের কোনো খোঁজ তাদের কাছে নেই। চেষ্টা চলছে। তাদের সাদামাটা এ উত্তরে ক্ষুব্ধ অপহৃতের স্বজনরা।

গত ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ এসব ব্যক্তিকে উদ্ধারে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের পরিবারের সদস্যরা বুধবার (২৫ মে) পাবনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল করিম সরদার জানান, গত ১১ মে ভোর সোয়া ৪ টার দিকে সাদা রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে ১০ থেকে ১৫ জনের একদল সাদা পোশাকধারী তাদের বাড়িতে আসে। এদের মধ্যে ৩ থেকে ৪ জনের পরনে র‌্যাবের মতো কালো পোশাক এবং বাকিরা সাদা পোশাকের ছিল। কালো পোশাকধারীরা এবং সাদা পোশাকের মধ্যে ৫ থেকে ৬ জনের কাছে অস্ত্র ছিলো। তারা বাড়িতে ঢুকেই তার তিন ছেলে টিক্কা সরদার (৩৫), এরশাদ সরদার (৩২) ও সাদ্দাম হোসেনকে (২৯) হাতে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কেনো তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বা কোথায় নেয়া হচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে গাড়ির আরোহীরা কোনো জবাব দেননি। এরপর থেকে তাদের সন্তানদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সন্তানদের খোঁজ পেতে র‌্যাব, সিআইডি,  ডিবিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তরে গিয়েও কোনো খবর পাওয়া যায়নি গত ১৫ দিনে।

এ দিকে একই দিন প্রায় একই সময়ে ফরিদপুর ইউনিয়নের সাভার গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে দুলাল হোসেন (৩৫) এবং পাবনা পৌর এলাকার থানাপাড়া মহল্লার জুলু প্রামানিকের ছেলে রনি প্রামানিককে (২৫) একই কায়দায় বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয় বলে জানিয়েছে তাদের স্বজনরা। এদের মধ্যে দুলাল হোসেন খাগড়বাড়ীয়া থেকে অপহৃত তিন সহোদরের ভগ্নিপতি হন। দুলালকে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিন সহোদরের ফুপাতো ভাই আকরামুল আলম জানান, তার তিন ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ওইদিন সকালেই তারা র‌্যাব, ডিবি, সিআইডিতে খোঁজ নিতে গেছেন। সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের জানান, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

অপহরণ নিয়ে পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি অপহৃতদের পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি। তারা (পরিবারের সদস্যরা) জানিয়েছে অপহরণকারীরা র‌্যাবের মতো কালো পোশাক পরিহিত ছিল এবং তাদের কাছে অস্ত্র ছিল।

র‌্যাব-১২ সিপিসি-২ পাবনা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি মশিউর রহমান জানান, র‌্যাব পাবনা ক্যাম্প থেকে এ ধরণের কোনো অপারেশন হয়নি। তিনি আরো জানান, ফরিদপুর র‌্যাব-সিরাজগঞ্জের আওতার বাইরে। এখন পর্যন্ত তারা সিরাজগঞ্জ থেকেও এমন কোনো তথ্য জানতে পারেননি। তবে অপহরণকারীরা যেহেতু কালো পোশাকের ছিলো এবং তারা সশস্ত্র ছিলো, এ কারণেই র‌্যাব বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, থানাতে এ ধরণের কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অপহৃত পরিবারের দাবি, এ বিষয়ে মামলা দিতে গেলেও থানা  মামলা নেয়নি। উল্টো তারা এমপি, মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করায় নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে আদালত থেকে কোনো আদেশ দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে দীর্ঘ ১৫ দিনেও সন্তানদের কোনো খবর না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা। খাগরবাড়িয়া গ্রামের নিখোঁজ ৩ ভাইয়ের মা ভানু খাতুন পাগলের মতো ঘুরছেন আর তার কান্না থামানোর বৃথা চেষ্টা করছেন স্বজনরা। অশ্রুসিক্ত পরিবারের অন্য সদস্যরাও।

নিখোঁজ টিক্কা সরদারের স্ত্রী জাহেদা খাতুন বলেন, আমি ঘটনার দিনে ভোরে ধান সিদ্ধ করছিলাম, ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ২৫ থেকে ৩০ জন লোক বাড়িতে ঢুকে টিক্কার খোঁজ করতে থাকে। কয়েক জনের পরণে কালো পোশাক ছিল। তারা আমার স্বামীসহ ২ দেবরকে নাম ধরে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিয়ে যায়। আমাদের কোনো কথা বলতে দেয়নি তারা।

নিখোঁজ এরশাদের স্ত্রী দুলালী খাতুন বলেন, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আমি কোথায় যাব। আমার স্বামী ও দেবররা কোনদিন কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কিছু করেনি, থানায় কোনো অভিযোগও নেই তাদের বিরুদ্ধে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদপুর থানাকে জানানো হয়েছে। পুলিশ তাদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে পাবনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ পরিবারের লোকজন দাবি করেন, গত কয়েক দিনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, ঢাকা, চট্রগ্রাম, গাজীপুর থেকে ফরিদপুরের আরও অন্তত ৫ জনকে অপহরণ করা হয় । এদের প্রত্যেকের বাড়ি একই এলাকায়।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের গত ২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর উপজেলার সাভার গ্রামের যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম লিটন খুন হয়। সেই মামলার বাদি পক্ষের লোকজন বিএনপি সমর্থিত ও এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী। তারাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তিন ভাইকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের কাউকে আটক করলে অপহৃতদের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে তাদের ধারণা।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান একটি পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এ ধরণের কাজে কৌশল অবলম্বন করে সহযোগিতা করছেন। অর্থের বিনিময়ে এলাকার বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করছেন।

নিহত যুবদল নেতা লিটনের আত্মীয় স্বজন উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক দলের এমপি মন্ত্রী হওয়ায় নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের সক্রিয় নেতাকর্মী ও সমর্থক হওয়ার পরও তাদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। অপহরণের শিকার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, থানা পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একের পর এক অন্যায় অত্যাচার করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশের সুনাম ক্ষুন্ন করতে একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে।

এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল, পথ সমাবেশ, মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, নিখোঁজ সবাইকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন ও কর্মসূচি চলবে। তিনি বলেন, আমরা চাইনা এই অঞ্চলের মানুষ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের ঘটনার শিকার হোক।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!