বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় দেশি পণ্যের বেশি বিক্রি

পাবনায় দেশি পণ্যের বেশি বিক্রি

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনায় ঈদের বাজার রমজানের শুরুতে একটু মন্দা গেলেও শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। দরজি বাড়ি থেকে শুরু করে জুতা-স্যান্ডেলের দোকান, সবখানে উপচেপড়া ভিড়। বিক্রেতারা বলছেন, জেলাবাসী এবার বিদেশি পোশাকের দিকে ঝোঁকেনি। তাই শুরু থেকেই দেশীয় পণ্য বেশি বিক্রি হয়েছে।

জেলা সদরের কয়েকজন পোশাক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারী ক্রেতারা রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই পোশাক কিনতে শুরু করেছেন। রমজানের শুরুর দিকে তাঁরা থ্রি-পিস, ফ্রক, স্কার্টসহ বিভিন্ন পোশাকের কাপড় কিনে টেইলার্সে দিয়েছেন। এখন তাঁরা শাড়ি, স্যান্ডেল ও সাজসজ্জার জিনিসপত্রসহ টুকিটাকি পণ্য কিনতে বাজারে আসছেন। অনেকে টেইলার্স থেকে তৈরি পোশাক নিয়ে ম্যাচিং করে গয়না কিনতে বাজারে ঘুরছেন। অন্যদিকে পুরুষ ক্রেতারা শেষ মুহূর্তে পাঞ্জাবি, পাজামা, লুঙ্গি, টুপি, স্যান্ডেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে আসছেন। ফলে বর্তমানে প্রতিটি বিপণিবিতানে তুলনামূলকভাবে ভিড় বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে।

জেলা শহর ঘুরে দেখা গেছে, মধ্য শহরের নিউমার্কেট, রবিউল মার্কেট, খান বাহাদুর শপিংমল, স্টার কমপ্লেক্স, হাজী মার্কেট, হুমায়রা মার্কেট, সেভেন স্টার, এআর প্লাজা, এআর কর্নার, নিউ পয়েন্ট, পৌর হকার্স মার্কেট, নিক্সন মার্কেট, আওরঙ্গজেব সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক প্রতিটি স্থানই ক্রেতায় ঠাসা। বেশি ভিড় তৈরি পোশাক, টেইলার্স, শাড়ি, স্যান্ডেল ও গয়নার দোকানগুলোতে। শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা সারতে ব্যস্ত সবাই।

নিউমার্কেট ও রবিউল মার্কেটের সাত-আটজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিবছরই বিভিন্ন সিরিয়ালের নায়িকাদের পোশাক নকল করে তাঁদের নামে বাজারে পোশাক আসে। ক্রেতারা এসব পোশাক কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এবারও কিরণমালা, বাহুবলী, সাহারা, হুররুম, লীলাবতি, পাখিসহ বিভিন্ন নামে পোশাক এসেছে। কিন্তু এ বছর এসব পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যায়নি। অল্পবয়সী মেয়েরা কিছু বাহারি নামের পোশাক কিনলেও বড়দের দেশি থ্রি-পিস ও সুতি কাপড় বেশি কিনতে দেখা গেছে।

পোশাক ব্যবসায়ী সুমি আক্তার বলেন, ‘বাহারি নামের নকল করা বিদেশি পোশাকগুলো আমাদের সমাজব্যবস্থার সঙ্গে মানানসই না। অনেকেই শখ করে পোশাকগুলো কেনার পর আর পরতে পারে না। ফলে প্রথম দিকেই অধিকাংশ নারী ক্রেতা দেশীয় সুতি পোশাক বেশি কিনেছেন।’

শাড়ি ব্যবসায়ী সাইফুল আজম বলেন, ঈদ উপলক্ষে তিনি দেশীয় তাঁত, জামদানি, সিল্ক, জর্জেট ও নকশার বিভিন্ন শাড়ির পাশাপাশি বিদেশি শাড়ির বড় সংগ্রহ রেখেছিলেন। অধিকাংশ ক্রেতাই এবার দেশি শাড়ি বেশি কিনেছেন। দেশি তাঁতের শাড়ি, জামদানি, রাজশাহী সিল্ক ও বিভিন্ন ধরনের সুতি শাড়ি বেশি বিক্রি হয়েছে।

শহরের প্রবীণ টেইলার্স ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী বলেন, ‘রমজান শুরুর আগ থেকেই তিনি পোশাক তৈরির অর্ডার পাচ্ছেন। প্রায় ৩৫ জন কারিগর রাত-দিন পোশাক তৈরি করে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে গত এক মাসে তাঁরা প্রায় ১০ হাজার পোশাক তৈরি করেছেন। এসব পোশাকের অধিকাংশই আমাদের দেশীয় বিভিন্ন টেক্সটাইলের কাপড় ছিল।’

সুতি ও দেশীয় তৈরি পোশাক নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের কথা জানান ক্রেতারাও। গরমের দিনে বিদেশি ভারি পোশাক অস্বস্তি তৈরি করে বলে জানান অনেকে। ফলে এবার আরামদায়ক পোশাকের দিকেই ঝুঁকেছেন বলে দাবি তাঁদের।

রাধানগর মহল্লার আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, বিদেশি ভারী শাড়ি পরে আরাম নেই। তাই এবার তিনি দেশি জামদানি কিনেছেন।

পৈলানপুর মহল্লার জান্নাতুল জেরিন বলেন, ‘আমরা এবার হিন্দি সিরিয়ালে ভুলি নাই, হুজুগে পোশাক কিনি নাই।’

জানতে চাইলে পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুব-উল আলম বলেন, ‘আমাদের কাপড় ও তৈরি পোশাক গুণে ও মানে অনেক ভালো। বিদেশিরা আমাদের কাপড় নিয়ে পরছে। আর আমরা হুজুগে পড়ে বিভিন্ন সময় বিদেশি পোশাকে আকৃষ্ট হয়েছি। এবার ক্রেতাদের মধ্যে এই আকৃষ্টতা দেখা যায়নি।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!