শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় দেড় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা, পরিবেশদূষণ

পাবনায় দেড় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা, পরিবেশদূষণ

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনার নয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে দেড় শতাধিক ইটভাটা চলছে। নিয়ম না মেনে কৃষিজমি ও আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ভাটার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন।

এ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ইটভাটার ধোঁয়া মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করে। প্রতিনিয়ত এই ধোঁয়া নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে সাইনোসাইটিস, ব্রংকাইটিস, শিশুদের নিউমোনিয়া, সিলিকোসিস এমনকি ফুসফুসের ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন জীবন। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। অধিকাংশ ইটভাটাই কোনো ধরনের আইন না মেনে, আবাসিক এলাকা অথবা ফসলি জমিতে তৈরি হচ্ছে। ফলে ভাটার ধোঁয়া ফলমূল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে কিছু বলছে না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা এসব ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’

পাবনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার নয় উপজেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা দেড় শতাধিক। এর মধ্যে অনুমোদিত (লাইসেন্সকৃত) ইটভাটা ৫৬টি। তবে ৫০টি ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স নবায়ন করছে না। ফলে প্রকৃত বৈধ ইটভাটা রয়েছে মাত্র ছয়টি। অবৈধ ভাটার মালিকেরা লাইসেন্স নবায়ন করতে উৎসাহ বোধ করছেন না। অন্যদিকে তাঁদের ওপর কোনো চাপও নেই।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি ও স্থানীয় ইট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার নয় উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে জেলা সদরের হিমাইতপুর, চর বাঙাবাড়ি, বাংলাবাজার ও বাজিতপুর এলাকায়।

এ ছাড়া সুজানগর উপজেলার কামালপুর, বেড়া উপজেলার আমিনপুর, চাটমোহর উপজেলার চর সেনগ্রাম ও ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডায় আবাসিক এলাকা এবং ফসলি জমি নষ্ট করে অনেক ইটভাটা গড়ে উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ভাটার মালিকেরা সবাই লাইসেন্স নবায়ন করতে চান। কিন্তু ভাটা তৈরির শর্ত পূরণ না হওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কোনো ভাটার মালিকই পরিবেশ ছাড়পত্র পাচ্ছেন না। ফলে কেউ লাইসেন্সও করতে পারছেন না।

সম্প্রতি সরেজমিনে জেলা সদরের হিমাইতপুর উপজেলার চর বাঙাবাড়ি গ্রামে দেখা যায়, পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও পাবনা মেডিকেল কলেজ পার হলেই গ্রামটি। সড়ক ধরে কিছু দূর এগোলেই চোখে পড়বে একের পর এক ইটভাটা। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ও ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামের মধ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ভাটাগুলো। চিমনি দিয়ে বেড় হওয়া কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে চারপাশ।

চর বাঙাবাড়ি গ্রামের মালেকা বেগম নামে এক বৃদ্ধা বলেন, ‘ভাটার ধুমে মাঝেমধ্যে শ্বাস আটকে আসে, মানুষে রোগে পড়তেছে। গাছগাছড়া মরে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ ইডা নিয়ে কিছু কছছে না।’

পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, ‘অনুমোদন না নিয়ে ইটভাটা তৈরি অবৈধ। আমরা তাঁদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য তাগিদ দিচ্ছি। কেউ লাইসেন্সবিহীন ভাটা চালালে অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!