ঢাকাবুধবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২২

পাবনায় দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

News Pabna
জানুয়ারি ২৬, ২০২২ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাবনা প্রতিনিধি : সেশনজট নিরসন, দ্রুত পরীক্ষা নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে পাবনার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে জেলা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলন শুরু করার হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকালে ক্যাম্পাসে এসেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরে আসেন। দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা আব্দুল হামিদ সড়কের প্রেসক্লাব মোড়ে মানববন্ধন করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবিসংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন কলেজের ১৩তম ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আমিন, জাকারিয়া সরকার ও শামীম হোসেন, ১২তম ব্যাচের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল রাকিব ও ১১তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এস কে রকিব।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের সাতটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত। ফলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজগুলোকে চলতে হচ্ছে। করোনা শুরুর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রায় দুই বছরের সেশনজটে পড়েছে। অন্যদিকে যেসব পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন। দাবি না মানা হলে তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

মানববন্ধন চলাকালে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আল আমিন বলেন, কলেজে বিভিন্নভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেখানে পরীক্ষার ফি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, সেখানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে সেশনজট কমাতে ছয় মাসের সেমিস্টার চার মাস করা, পরীক্ষার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ, করোনার কারণে আটকে থাকা পরীক্ষা দ্রুত নেওয়া, পরীক্ষার ফি কমানো ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে স্বতন্ত্র বোর্ড গঠন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. সোলায়মান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিয়ে আমরাও দুশ্চিন্তায় থাকি। করোনার কারণেই মূলত সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে। তবে আমরা সমস্যাগুলো সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’