পাবনায় নিজামীর রায়ে আনন্দ মিছিল

Untitled-1পাবনা জেলা প্রতিনিধি : মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনায় জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশ বহাল থাকায় আনন্দ মিছিল করেছে পাবনাবাসী। রায় ঘোষণার সাথে সাথে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে বের করা হয় এ আনন্দ মিছিল। পরে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন তারা।

এদিকে নিজামীর রায় ঘোষণার পর পাবনার মুক্তিযোদ্ধা, প্রগতিশীল চেতনার মানুষ, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তারা এই রায় শুধু ঘোষণাই নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন করে পাবনাকে কলঙ্কমুক্তর দাবি জানিয়েছেন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে কুখ্যাত রাজাকার, পাবনার কুলাঙ্গার নিজামীর রিভিউ রায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল থাকায় পাবনার মুক্তিযোদ্ধা তথা সর্বস্তরের মানুষ আনন্দিত এবং স্বাগত জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

পাবনার সাংস্কৃতিক ঐক্য জোটের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ‘কুলাঙ্গারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করায় পাবনা যেমন কলঙ্ক মুক্ত হলো। অনুরূপ ভাবে এই রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করে কুলাঙ্গারের খারাপ স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

গণশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী মনে করেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কাঙ্ক্ষিত রায় হয়েছে। শুধু রায় ঘোষণাই নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন করে পাবনাবাসীকে কুলাঙ্গারের স্মৃতি থেকে কলঙ্গ মুক্ত করতে হবে।’

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদীক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছি। বাস্তবে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজাকারের শিরোমনি পাবনার কুলাঙ্গার মতিউর রহমান নিজামীকে দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার পর থেকেই অধির আগ্রহে ছিলাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় এই কুলাঙ্গারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। আমাদের কাঙ্ক্ষিত রায় হয়েছে। এখন বাকি শুধু রায় বাস্তবায়ন।’

তবে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার মতিউর রহমান নিজামীর রায় ঘোষণার পর দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নিশ্চুপ রয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ অঙ্গ সংগঠন। তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে জেলা জামায়াত ও শিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। শহরের সচেতন মানুষের ধারণা, সাধারণত রায় ঘোষণার পর যোহরের নামাজ শেষেই তারা বড় বাজার, চাঁপা মসজিদ নতুবা দই পট্টিতে স্বল্প পরিসরে ঝটিকা বা জঙ্গি মিছিল করে থাকে।

শহর ঘুরে দেখা যায়, শহরে প্রবেশের কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। শহরের প্রবেশ দার কেন্দ্রীয় বাস টারমিনাল, পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের গাছপাড়া, মনোহরপুর, সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজ গেটসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েনসহ মোবাইল টিম কাজ করছে।

এদিকে নিজামীর মামলার কয়েকজন স্বাক্ষীর সাথে আলাপকালে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মামলার সময়ে স্বাক্ষীদের যে নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। তারা সব সময় আতঙ্কে আর উৎকণ্ঠার মাঝে দিন কাটাচ্ছে।

তারা বলেন, ‘অনতিবিলম্বে আমাদের যে নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল সরকার যেন তার দিকে দৃষ্টি দেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিউর রহমান নিজামীর নিজ এলাকা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুরের গ্রামের বাড়িতে কোনো মানুষের উপস্থিতি না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। নিজামীর নিজ এলাকার কয়েকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।