শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় নিরাপদ রক্ত সংকটে শত শত থ্যালাসেমিয়া রোগী

পাবনায় নিরাপদ রক্ত সংকটে শত শত থ্যালাসেমিয়া রোগী

image_pdfimage_print

পাবনা প্রতিনিধি : আজ ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। থ্যালাসেমিয়া একটি ঘাতক ব্যাধি। এ রোগের ওষুধ আজো বের হয়নি। এ রোগের হাত থেকে বাঁচতে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের প্রতি মাসে অনেক রক্ত নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। যা খুবই দুষ্প্রাপ্য চিকিত্সা ও কষ্টদায়ক। নিরাপদ রক্ত সংকটে পড়েছে পাবনা জেলার ৫৪৭ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী।

জেলার চাটমোহরস্থ মানবসেবা উন্নয়ন সংস্থা সূত্রে জানা যায়, পাবনার ৯টি উপজেলায় ৫৪৭ জন অসহায় থ্যালাসেমিয়া রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটি পাবনা জেলায় ২০০৮ সাল থেকে প্রতিটি থ্যালাসেমিয়া রোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেজলাই সার্ভে করে ২০১৬ সাল এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪৭ জন থ্যালাসেমিয়া রোগীর সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে ২৯৬ জন মহিলা ও ২৫১ জন পুরুষ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে।

এ সব অসহায় থ্যালাসেমিয়া রোগীর মানব সেবা উন্নয়ন সংস্থা থেকে প্রতি মাসে ব্লাড ব্যাগ, ব্লাড সেট, ওষুধ, পরামর্শসহ সকল প্রকার সহায়তা দিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এ সব সহযোগিতা রোগীরা পেলেও নিরাপদ রক্ত সংকটে ভুগছে তারা। অনেক সময় নিজের আত্মীয়-স্বজন/পরিচিত ব্যক্তির নিকট থেকে না পাওয়ায় ব্লাড ব্যাংক বা বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে যে সকল রক্ত ক্রয় করে থ্যালাসেমিয়া রোগীর শরীরে দেওয়া হচ্ছে তাতে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাবনা সিভিল সার্জন ডা. তাহাজ্জেল হোসেন বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি ভয়াবহ ব্যাধি যে রোগের ওষুধ নেই। এ রোগের চিকিত্সাও দুষ্প্রাপ্য, প্রতি মাসে রক্ত নিয়ে বাঁচতে হয়। রক্ত নেওয়ার খরচটাও বেশি, যা মধ্যবিত্ত-গরিবদের পক্ষে একেবারেই অসাধ্য।

চাটমোহর উপজেলার কাটাখালি গ্রামের হতদরিদ্র অসহায় থ্যালাসেমিয়া রোগী মোছাঃ তন্নির পিতা আবুল হোসেন বলেন, আমার দুটি মেয়েকে প্রতিবার রক্ত প্রদানের সময় রক্তের ব্যাগ, সেট, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ রক্ত স্কিলিং টেস্ট করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। যা আমাদের পক্ষে খুব কষ্টসাধ্য। তবে গত ৮ বছর ধরে মানব সেবা উন্নয়ন সংস্থা থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্তের ব্যাগ, সেট ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। সংস্থাটির সহযোগিতা না পেলে আমার মেয়েদের অর্থের অভাবে বাঁচাতে পারতাম না।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দিলদার হেসেন জানান, ১ মাস পর পর রক্ত নিতে খুবই কষ্টে পড়তে হয়। আত্মীয়-স্বজনের রক্ত না পেলে নিরাপদ রক্ত পাওয়া যায় না।

মানব সেবা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এমএস আলম বাবলু জানান, থ্যালাসেমিয়া একটি ঘাতকব্যাধি যার ওষুধ আজো বের হয়নি। চিকিত্সাও ব্যয়বহুল তাই আমরা এ অসহায় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের বিভিন্ন সহযোগিতা বিনামূল্যে দিয়ে আসছি। তবে নিয়মিত নিরাপদ রক্ত জোগাড় করতে পারলে এ সব রোগী বিপদমুক্ত হবে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!