শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

পাবনায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের ঘটনা এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় রফা!

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়া মন্ডতোষ গ্রামের আবুল কালাম (৫২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজ পুত্রবধূকে (১৯) ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে অভিযুক্ত কালামকে এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা জরিমনা করে ওই ঘটনার দফারফা করেছেন ১নং ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রাম্য প্রধানরা।

মন্ডতোষ গ্রামের প্রভাবশালী দলিল লেখক শের মাহমুদ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুমন আহমেদ, সাবেক ইউপি সদস্য সামাদ আলী, ইদ্রিসসহ বেশ কয়েকজনের এই মিমাংসা করেছেন বলে জানা গেছে। ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত ঐ নারীর শ্বশুর কালামের পুত্র বধূ ও তার পুত্র ফিরোজ আলীর স্ত্রী।

ধর্ষনের শিকার ঐ গৃহবধুর ও তার পরিবারের লোকজন জানান, প্রায় আট মাস আগে উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের মন্ডতোষ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ফিরোজ আহমেদের সাথে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে ঐ নারী জানতে পারেন তার স্বামী ফিরোজের সাথে আগের স্ত্রীর যোগাযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না এবং বিয়ের পর তার স্বামী ফিরোজ কাজের জন্য ঢাকায় চলে যায়।

এরপর থেকেই শ্বশুর তাকে বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক বারোটার দিকে তার শ্বশুর তার গৃহবধূকে ডাকাডাকির পর দরজা খুলে দিলে তার শ্বশুর ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ।

ধর্ষণ শেষে কালাম বাইরে আসলে ঐ নারী কান্না করতে থাকে। পরে তার শ্বাশুড়ী ফিরোজা বেগম স্বামীর পক্ষ থেকে তার পায়ে ধরে ক্ষমা চায় ও এই ঘটনা কাউকে না জানাতে নিষেধ করে। এ সময় কালাম পুনরায় ঘরে এসে ঘটনা কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

কিন্তু বেশ কয়েক দিন পর ওই গৃহবধূ তার নানার বাড়িতে যায় এবং তাদের কাছে ঘটনার অদোপান্ত ঘুলে বলেন। কৌশলে তার নানার বাড়ির লোকজন গৃহবধূর শ্বশুর কালাম ও তার স্ত্রী ফিরোজাকে ডেকে আনেন। এরপর ঐ নারীর পরিবারের লোকেরা তাদেরকে আটকে রেখে তার ছেলের বউয়ের সাথে ঘটা ঘটনা জানতে চায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে ফিরোজা তার ভাই সাবেদুল ইসলামকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে তাদের উদ্ধার করতে বলে। সাবেদুল তখন মন্ডতোষ গ্রামের প্রভাবশালী শের-মাহমুদ, বক্কার, সাবেক ইউপি সদস্য সামাদ ও ইদ্রিসসহ বেশ কিছু লোকজন নিয়ে ঐ বাড়িতে উপস্থিত হয়। সেখানে একটি শালিস বৈঠকে কালামকে দুইলক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য করে শের মাহমুদ।

বিষয়টি জানতে পরে ভাঙ্গুড়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত হয়ে ধর্ষনের শিকার ঐ গৃহবধূর কাছ থেকে ঘটনা শুনে মন্ডতোষ গ্রামের প্রধানদের কালামকে শালিসে হাজির করতে চাপ দিলে অভিযুক্ত কালাম সেখানে উপস্থিত হয়। ঘটনা শুনে শালিসে থাকা গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে উঠলে সুযোগ বুঝে কালাম সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে প্রভাবশালী শের মাহমুদ চেয়ারম্যান টুকুনের কাছে জরিমানা টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শালিস শেষ করে চলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়নের চেয়রম্যান গোলাম ফারুক টুকুন বলেন, আমি শালিসে উপস্থিত হয়ে ঐ গৃহবধূর পরিবারকে আইনি সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেই। কিন্ত তারা দুই পক্ষই শালিস চাইলে তা শেষ করা হয়। ঐ ঘটনা শেষ করে দেয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত কালাম জানায়, প্রথমে শালিসে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করে আমার সামর্থ না থাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুমনের কাছে জানাই সে নেতাদের সাথে কথা বলে জরিমানা কমিয়ে এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা করেছে যার মধ্যে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা সুমনের কাছে দিয়েছি। বাকি ত্রিশ হাজার টাকা পরে দিবো।

ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান বলেন, এ বিষয়ে থানা পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

0
1
fb-share-icon1


© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!