সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত

পাবনায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত

image_pdfimage_print

গত বছরের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল এই সংগঠনটিই, যারা ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বহুজাতিক জঙ্গি সংগঠনের মতাদর্শ ও সন্ত্রাস-কৌশল অনুসরণ করে।

ওই হামলার পর জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণ ও দেশব্যাপী ব্যাপক জঙ্গি দমন অভিযান শুরু হলে সংগঠনটির বেশ কিছু সদস্য নিহত হন।

তবে পাবনায় জঙ্গিবাদ বিরোধী তেমন কোন অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় এ জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে জঙ্গিরা। প্রকাশ্যে তারা কোন সাংগঠনিক কাজ-কর্ম পরিচালনা না করলেও ভিতরে ভিতরে তারা সুসংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার জন বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোকে টার্গেট করে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। পাবনা সদর উপজেলার চরাঞ্চল, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, সুজানগর এলাকার প্রত্যন্ত এলাকা ও বেড়া-সাঁথিয়ার চরাঞ্চলে তারা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে পাবনার কোন একটি মসজিদে শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহে একদিন একত্রিত হচ্ছে তারা। সেই মসজিদে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত খুৎবা না দিয়ে জঙ্গি মতাদর্শের খুৎবা প্রদান করা হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বেছে বেছে অপেক্ষাকৃত স্বল্প শিক্ষিত, ধর্মভীরু এমন উঠতি বয়সের ছেলেদের বিভিন্ন জিহাদী বই, মোবাইল ফোনে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে জিহাদী ওয়াজ বিতরণ করে তাদেরকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে।

আর এসকল জঙ্গিরা দৃষ্টি রাখছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের উপর। তারা সাধারণ মানুষের সাথে মিশে তাদের জঙ্গি মতাদর্শ প্রচারেরও চেষ্টা চালাচ্ছে।

চরাঞ্চলগুলোতে যোগাযোগ মাধ্যম সহজ না হওয়ায় সেইসব এলাকায় গিয়ে বাড়ি ভাড়া নিচ্ছে জঙ্গিরা। আত্মীয় পরিচয় দিয়েও কোন কোন বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে তারা। তবে, প্রশাসনের চোখ এড়াতে একসঙ্গে একাধিক জঙ্গি প্রকাশ্যে আসছে না। ফলে স্থানীয় মানুষেরও সন্দেহের বাইরে থাকছে তারা।

তবে কখনও কখনও মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে প্রকাশ্যে নামাজের বা ধর্মীয় রীতি নীতি নিয়ে বাক বিতণ্ডায় জড়াচ্ছে জঙ্গিরা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বই-পুস্তক বের করে তা নিয়ে তর্ক করে মানুষকে প্রকাশ্যে বুঝিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

এই রমজান মাসে পবিত্র তারাবিহ নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে পাবনার একাধিক মসজিদে তর্কে জড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে তারা। তবে, সবকিছুই তারা করছে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে। প্রশাসন তৎপরতা চালানোর আগেই অন্যত্র সটকে পড়ছে জঙ্গিরা।

পাবনা চরাঞ্চলের একাধিক স্থানীয় ব্যাক্তি জানান, প্রায়ই নতুন নতুন মুখ আনাগোনা করছে এসব এলাকায়। কখনও কখনও ভারি ব্যাগ বহন করতে দেখেছেন তারা। তবে সন্ধ্যার পরে আর দেখা মিলছেনা তাদের।

এনিয়ে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস, জঙ্গি কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধ দমনে গঠিত পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ মোবাইল অ্যাপে অভিযোগ করেছেন এমন একজন ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জঙ্গি কর্মকাণ্ডের তথ্য হ্যালো সিটিতে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি।

অপর একজন জানান ‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’ মোবাইল অ্যাপে তিনি নিজে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ তুলে ধরে কোন সাড়া পাননি, ফলে আগ্রহ হারিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ গত ১৩ মে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাবনা থেকে জেএমবির দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যমতে আর কোন জঙ্গি পাবনাতে তৎপরতা চালাচ্ছে কিনা সে মোতাবেক অন্য কোন জঙ্গিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি পাবনার পুলিশ প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত বছর ১ জুলাই বিশ্বব্যাপী আলোচিত গুলশান হামলার মাস্টার মাইন্ড মারজান এর বাড়ি পাবনাতে। পাবনার হেমায়েতপুরের আফুরিয়া গ্রামের হোসিয়ারি শ্রমিক নিজাম উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান সংগঠনের প্রচার ও নতুন সদস্যদের মগজ ধোলাইয়ের কাজ করতেন। জঙ্গিদের আত্মঘাতী গ্রুপকে নানা কথায় মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তুলতেন শীর্ষ এই জঙ্গি।

পুলিশের ভাষ্য, নব্য জেএমবির নেতা মারজান ঢাকার গুলশান হামলার ‘অপারেশন কমান্ডার’ ছিলেন।

এ বছরের ৬ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক সহযোগীসহ নব্য জেএমবির নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান নিহত হয়।

মারজান নিহত হলেও মারজানের শিষ্যরা পাবনায় তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা এবং সেইসাথে পাবনাকে জঙ্গিমুক্ত রাখতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ আরো জোরালো করা দরকার বলে মনে করছেন তারা।

গত ১৭ মার্চ ঢাকার আশকোনায় র‌্যাবের মতো চৌকস বাহিনীর সদর দপ্তরে জঙ্গিদের হামলা চালানোর পরিকল্পনা স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত করছে যে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠেছে এবং তারা গ্রাম ভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

জঙ্গি দমন অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকা অবস্থায় কথিত নব্য জেএমবি বা অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর গোপন তৎপরতা কীভাবে ও কিসের জোরে চলতে পারছে, তা গভীরভাবে জানার চেষ্টা করা দরকার।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!