ঢাকাবুধবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২২

পাবনায় ফিল্মি স্টাইলে সাক্ষী অপহরণ, আইনজীবীদের মারধর

News Pabna
জানুয়ারি ২৬, ২০২২ ৯:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : পাবনায় ফিল্মি স্টাইলে প্রকাশ্যে আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী অপহরণ ও আইনজীবীদের মারধরের ঘটনার পর পৌরসভার ভেতরে সন্ত্রাসীদের প্রবেশ ও পরে লাপাত্তা হওয়া নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে শহরের ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সুত্র জানায়, যৌতুক মামলার বাদীনী ও আসামি পক্ষের বিরোধের জের ধরে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে। ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীর হামলায় তিন আইনজীবী আহত হন। আইনজীবী মারধরের ঘটনায় জেলার আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু বলেন, পাবনা আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম দুলাল তার মক্কেল মো: কামরুজ্জামান, মক্কেলের মেয়ের জামাই মামলার সাক্ষী মোঃ মাসুদুজ্জামানকে নিয়ে বুধবার সকালে আদালতে আসেন।

তারা কামরুজ্জামানের স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় চার্জ গঠনের শুনানিতে অংশ নিতে এসেছিলেন। তারা দুপুরে পাবনা উকিল বার সমিতির কাছে একটি হোটেলে খাচ্ছিলেন তখন একদল চিহিৃত সন্ত্রাসী ফিল্মি স্টাইলে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ সময় কামরুজ্জামান পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বহিরাগত যুবকেরা তার জামাই মাসুদুজ্জামানকে ধরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে শহরের তাড়াশ ভবনে ও পরে এলএমবি মার্কেটের একটি কক্ষে আটকে রাখে।

পরে ঐ সব সন্ত্রাসীরা আবারো আদালত প্রাঙ্গণে এসে মামলা ইস্যুতে কামরুজ্জামান ও তার আইনজীবীদের সাথে তর্ক শুরু করে। এক পর্যায় তারা আইনজীবী রিজভী শাওন, আশরাফুজ্জামান প্রিন্স ও প্লাবনকে মারপিট করতে শুরু করে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে আইনজীবী রিজভী শাওন, আশরাফুজ্জামান প্রিন্স ও প্লাবন পৌরসভা ভবনে দৌড়ে আশ্রয় নিলে বহিরাগত যুবকেরা সেখানেও তাদের মারপিট করে।

আইনজীবীদের মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মিরা পাবনা পৌরসভা চত্বরে আসার চেষ্টা করেন। তবে পৌরসভার নিরাপত্তা কর্মিরা গেট বন্ধ করে দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পৌরসভার ভিতরে লুকিয়ে পড়ে অথবা যে কোন উপায়ে লাপাত্তা হয়ে যায় বলে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন।

আহত আইনজীবী রিজভী শাওন জানান, সিনিয়র আইনজীবী খায়রুল আলমের মামলার সাক্ষীকে অপহরণ হওয়ায় আমরা তার কাছে ঘটনা শুনছিলাম। এ সময় জনি ও রাশেদ নামের দুই যুবকের নেতৃত্বে দুই সন্ত্রাসী আমাদের মারপিট শুরু করে। তারা সাক্ষী মাসুদুজ্জামানকে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। ঘন্টা দুয়েক পরে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। আদালত চত্বরে এমন হামলার শিকার হবো তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

পাবনা আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা চত্বরে ও মেয়রের কক্ষের সামনেই হামলা ও মারপিট করা হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয়নি। বরং, হামলার খবর পেয়ে সহকর্মী আইনজীবীরা পৌরসভা কার্যালয়ে আমাদের উদ্ধারের জন্য গেলেও তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় পৌরসভার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখে।

পাবনা পৌরসভার মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আইনজীবীদের কয়েকজন পৌর চত্বরে ঢুকলে তাদের পিছু নেয়া কয়েকজন সেখানে এসে তাদের মারপিট করেছে বলে শুনেছি। বরং আমরা গিয়ে তা দমনোর চেষ্টা করেছি। সন্ত্রাসীরা মারপিটের পর জন্ম নিবন্ধনের সেবা নিতে আসা ব্যাক্তিদের ভীড়ে মিশে যায় এবং পরে লাপাত্তা হয়ে যায়।

পরে আইনজীবীরা দলবেঁধে পৌরভবনে আসলে নিরপত্তার স্বার্থে ফটক বন্ধ রাখা হয়েছিলো। তবে, এ ঘটনায় কারা হামলাকারী আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম জুয়েল জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই কিন্তু পৌরসভা অফিস চত্বরে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু আরও বলেন, বহিরাগতরা আইনজীবীদের ওপর হামলা ও আইনজীবীদের লাঞ্ছিত করা খুবই দুঃখজনক। আইনজীবীদের উপর হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় আইনজীবী সমিতি পদক্ষেপ নেবে। মামলা দায়েরের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।